ঢাকা শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬

তানোর বরেন্দ্র অঞ্চলে লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে কৃষকের আলু চাষ


তানোর প্রতিনিধি photo তানোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯-১২-২০২৫ দুপুর ৪:৫৬

লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে রাজশাহীর তানোরে আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক কৃষাণীরা। গত মৌসুমে আলুতে ব্যাপকহারে লোকসান গুনতে হয়েছে চাষিদের। সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে পুনরায় রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন আলু চাষি ও শ্রমিকরা। যেন খাওয়া দাওয়ার কোন সময় নেই। খাওয়া দাওয়া জমিতেই চলছে। কারন কে কার আগে জমি রোপণ করতে পারে সেই প্রতিযোগিতা চলছে চাষি থেকে শুরু করে শ্রমিকদের মাঝে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে আলু রোপণ ও জমি তৈরির কাজ। এছাড়াও বাড়ির আঙ্গিনায় বীজ আলু কাটতে কৃষাণীরাও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এতে করে কৃষাণীরা আলুর বীজ কেটে বাড়তি আয় করছেন। ফলে উপজেলার প্রতিটি মাঠে আলু রোপণের ধুম পড়েছে।তানোর পৌর সদরের আলু চাষি মনির জানান, গত মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে প্রচুর পরিমাণে লোকসান গুনতে হয়েছে। কিন্তু চাষাবাদ ছাড়া উপায় না। বিঘায় ১০/১২ হাজার টাকা করে পেয়েছি। বাকিটা লোকসান। এবারে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আলু রোপণ করব। মঙ্গলবার থেকে রোপণ শুরু হবে। মামুন নামের আরেক চাষি সকালের সময়কে জানান, গত মৌসুমে ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে তিন লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। জমি থেকে আলু বিক্রি করার কারনে কিছুটা লোকসান কম হয়েছে। যারা লাভের আসায় হিমাগারে রেখেছিল তাদের লোকসান গুনতে হয়েছে ব্যাপকহারে। কারন হিমাগারে ৬ টাকা কেজি ভাড়া, শ্রমিক ও বহন খরচ দিতে হয়েছে। কিন্তু একশো বস্তায় আলু মেলেছে ৬০/৭০ বস্তা। বাকিটা পঁচে নষ্ট হয়েছে। অথচ ভাড়া দিতে হয়েছে একশো বস্তার। তিনি আরো জানান, এক বিঘা জমিতে আলু রোপণ করতে দু বস্তা পটাশ সার, এক বস্তা ডিএপি, এক বস্তা টিএসসি, বরুন এক কেজি, থিয়োভিট এক কেজি। বিঘায় রোপণ করতে শ্রমিক খরচ ৪ হাজার টাকা, বিঘায় ন্যাড়া কাটা ৫০০ টাকা, চাষ আড়াই হাজার টাকা, জমি লীজ ১৬/১৮ হাজার টাকা , বীজ ১৩ হাজার টাকা, আলুর বীজ কাটা ২৫০ টাকা, বীজ বহন ২৫০ টাকা, সব মিলে এক বিঘা রোপণ করতেই ৫০/৬০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে । কিন্তু সারের দাম দিগুণ হওয়ার কারনে আরো ৫/৭ হাজার টাকা বাড়তি খরচ গুনতে হবে চাষিদের।
তানোর পৌর এলাকার চাষি আলহাজ্ব মোকসেদ মোল্লা সকালের সময়কে জানান, গত মৌসুমে ২৮ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। একারনে কমিয়ে এবারে ১২ বিঘা জমিতে আলু রোপণের কাজ চলছে।
উপজেলার সিন্দুকাই, গুবিরপাড়া, চাপড়া, কালনা, নারায়নপুর, ধানতৈড়, আমশো, জিওল, চাদপুর, সিধাইড়, কালীগঞ্জ, রাতৈল, কাসারদিঘি, গোকুল, আড়াদিঘি, লালপুর, মোহর, কৃঞ্চপুর, পাঠাকাটা, চিমনা, দুবইল, সাহাপুর, কৈল, যোগিশো, কুযিশহর, আজিজপুর, তালন্দ, হাতিশাইল কামারগাঁ, সরনজাই, লবলবি, তাতিহাটি, শুকদেবপুর, দরগাডাঙ্গা, কলমা, চন্দনকোঠা, মাদারিপুর, জমশেদপুর পুর, ধানোরা, গাল্লা, বৈদ্যপুরসহ প্রায় মাঠে আলু রোপণের কাজ চলছে জোরালো ভাবে। এছাড়াও প্রজেক্টে বা বাড়ির আঙ্গিনায় আলুর বীজ কেটে বাড়তি আয় করছেন কৃষাণীরা। ৫০/৬০ কেজির প্রতি বস্তা ৫০ টাকায় কেটে দিচ্ছেন। আবার যারা দু পাঁচ বিঘা জমিতে আলু চাষ করবেন তাদের আলুর বীজ বাড়ির গৃহিণীরা কেটে দিচ্ছে। যার কারনে কিছুটা কম হচ্ছে খরচ। তবে এর পরিমাণ অনেক কম।
চাষিরা সকালের সময়কে  জানায়, সব ধরনের সারের দাম আলু রোপণের সময় বাড়তি টাকা । প্রতি মৌসুমে সার নিয়ে বেপরোয়া সিন্ডিকেট চলে। সরকারি মূল্যে মিলেনা সার। আর সরকারি হিসেবে সার প্রয়োগ করলে আলুর ফলন পাওয়া যায়না। চারদিক দিয়ে ভোগান্তির শেষ থেকেনা। অথচ বিক্রির সময় ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায়। এবার লাভের আশায় আলু রোপণ করা হচ্ছে। কিন্তু গত মৌসুমের মত লোকসান গুনতে হলে আগামীতে আলু চাষ কমে যাবে। আমরা এত আলু উৎপাদন করেছিলাম বলেও অল্প দামে আলু কিনে খেতে পেরেছে। বিগত তিন মৌসুমে আলুতে ব্যাপক লাভ পাওয়ার কারনে গত মৌসুমে ব্যাপক হারে আলু চাষ হয়েছিল। ঋণ মহাজন করে আলু চাষ করে ধরাশায়ী হয়ে অনেকে এলাকা ছাড়া হয়েছে। তবে গত মৌসুমে লোকসান গুনা চাষিদের কে সরকারি ভাবে প্রণোদনা দেয়া উচিত ছিল।
শ্রমিক মোস্তফা, সাদিকুল শহিদুলসহ অনেকে জানান, ফজরের জানের পরেই জমি রোপণ করতে যায়। মাগরিবের আজানের সময় কাজ শেষ হয়। ৪ হাজার টাকা বিঘা রোপণ করা হচ্ছে। এতে করে দিনে শ্রমিক প্রতি ১৩০০/১৫০০ টাকা থেকে ঊর্ধ্বে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। যার কারনে সংসারে সচ্ছলতা আসছে। বছরে আলুর কাজ করে শ্রমিকরা মোটা টাকা আয় করে থাকে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ সকালের সময়কে জানান, গত মৌসুমে এ উপজেলায় আলু চাষ হয়েছিল ১৩ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গতবারের চেয়ে ১২০০ হেক্টর কম জমিতে আলু চাষ হবে। এপর্যন্ত ৭ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও পৌর এলাকার রহিমা ডাঙ্গায় আগাম আলু চাষ হয়েছে ৪৫ হেক্টর জমিতে। যা অল্প কিছু দিনের মধ্যে উত্তোলন হবে। তিনি আরো জানান, আলু রোপণ শেষ হয়ে যেত। কিন্তু নভেম্বরের শুরুতে এক রাতের রেকর্ড পরিমাণ ভারি বৃষ্টির কারনে রোপা আমন ধান কাটতে দেরি হয়েছে। মূলত একারণেই আলু রোপণে সময় লাগছে। কারন মাটি ভিজে রসালো হয়ে আছে। তবে আশার কথা আবহাওয়া আলু রোপণের অনুকূলে থাকার কারনে কোমর বেধে রোপণ করছেন চাষিরা।

এমএসএম / এমএসএম

হাতিয়ায় অস্ত্র দিয়ে ছাত্র দল নেতাকে ফাঁসানোর প্রতিবাদে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আপিল ঘিরে বিতর্ক, ভাইরাল অডিওতে তোলপাড় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪

বোয়ালমারীতে ইউনাইটেড আরব আমিরাতের ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ

দিয়ামনি ই কমিউনিকশনের আয়োজনে সাভারে স্টল ফ্রী মেলায় স্থান পেলো ২৫ জন উদ্যোক্তা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামু গ্রেফতার

সরিষার হলুদে রঙিন ত্রিশাল : বাম্পার ফলনের আশা

গোপালগঞ্জে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি

নাঙ্গলকোটে দু'জনকে গুলি করে হত্যা

মনপুরায় প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে আসা তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

কুড়িগ্রামে এলপিজি সংকটে দাম দ্বিগুণ, তবু মিলছে না গ্যাস

কালো ধোঁয়ার দখলে রায়গঞ্জ, ঝুটে পুড়ছে চাতাল

কুমিল্লার মুরাদনগরে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার

সিডিএ’র নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ