ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

কোটালীপাড়ায় সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ, তদন্তে এসে তোপের মুখে শিক্ষা কর্মকর্তারা


কোটালীপাড়া প্রতিনিধি photo কোটালীপাড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১-১২-২০২৫ বিকাল ৭:২১

আমার ছেলেকে তপতি ম্যাডাম বলে, 'বাইদার বাচ্চা পড়তে পারস না, স্কুলে আসোস ক্যান'  অভিভাবক শাহনাজ বেগম সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই বর্ণনা করেন তপতি বাড়ৈর ও কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে ব্যবহারের কথা। তিনি আরো বলেন এখানে কোন ভালো শিক্ষক থাকতে চায় না তপতী ম্যাডামের বাজে আচরণের জন্য। শিক্ষকদের সঙ্গেও তার আচরণ ভালো নয়। ছাত্রছাত্রীরাও তার ভয়ে থাকে। ক্লাসে বাচ্চাদের ওপর নির্যাতন করেন।
ঘটনাটি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ৬নং ঘাঘরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে। বহুমুখী অভিযোগের তদন্তে এসে অভিভাবকদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসের তিন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্লাস ফাঁকি, শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণসহ শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এতে ভিত্তি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা শিক্ষা অফিস পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
দুপুরে তদন্ত টিম স্কুলে পৌঁছালে ক্লাস্টার এলাকার দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অভিভাবক জড়ো হয়ে তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উত্থাপন করেন। তারা তদন্ত কমিটির হাতে লিখিত অভিযোগ হস্তান্তর করেন এবং অবিলম্বে তার স্থায়ী বদলীর দাবিতে স্লোগান দেন। খবর পেয়ে কোটালীপাড়া থানার ওসি ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত অভিভাবকদের শান্ত থাকা ও তদন্তে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
অভিভাবক এমদাদ আলী বলেন, তপতী ম্যাডাম যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়ে অরাজকতা তৈরি হয়েছে। ইচ্ছেমতো স্কুলে আসেন, ক্লাস নেন না। তার শিশু সন্তানকে দিয়ে ক্লাসে মোবাইল চালান। আমরা দ্রুত তার বদলী চাই। তা না হলে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী দেওয়া হবে।
অভিভাবক শাহাদাত গাজী অভিযোগ করেন, আমরা বহুবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। তিনি উল্টো ভয়ভীতি দেখান। শুনেছি তার একাধিক বিয়ে রয়েছে। শুনেছি এক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফাঁসিয়ে ২০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। তার কারণে কেউ এই স্কুলে থাকতে চায় না। অনেক সহ্য করেছি আর না। আমরা তার স্থায়ী বদলী চাই। কতৃপক্ষ যদি তার বদলী না করে তাহলে আমরা আমাদের সন্তানদের এখানে পড়াবো না। 
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নমিতা মন্ডল জানান, গত বছর আমি এখানে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত তপতী বাড়ৈ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় আর্থিক হিসাব দিতে পারেননি। নিয়মশৃঙ্খলা মানেন না, ক্লাসও ঠিকমতো নেন না। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা অফিসে একাধিকবার জানিয়েছি।
সহকারি শিক্ষক প্রনয় বিশ্বাস ও দীপক গাইন বলেন, তপতী ম্যাডামের আচরণ সবসময়ই উৎশৃঙ্খল। ভয় পেয়ে তাকে আমরা কিছু বলতে পারি না। তার কারণে অনেক শিক্ষকই বদলী নিয়ে চলে গেছেন এখান থেকে।
অভিযুক্ত তপতী বাড়ৈ সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন যা বলার তদন্ত কমিটির কাছে লিখিতবাবে জানিয়েছি। 
তদন্ত কমিটির সদস্য সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মো: আহসান বলেন, আমরা অভিযোগকারীদেরসহ অভিযুক্ত শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে বক্তব্য নিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন বলেন, তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএসএম / এমএসএম

লোহাগড়ার সিডি বাজারে গাঁজা বিক্রির সময় জনতার হাতে মাদক কারবারি আটক

ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিম কমিটিতে আইন বিষয়ক সম্পাদক চৌগাছার জাফর ইকবাল

রৌমারীতে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান

​রাণীনগরে পাইকারি দোকানের টিন কেটে দেড় লাখ টাকার সিগারেট চুরি, থানায় অভিযোগ

নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলার প্রধান আসামি যশোর থেকে গ্রেফতার

মেঘনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ: “তিন মাসে চার খুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করছেনঃ হাসনাত আবদুল্লাহ

ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় অধ্যাপক শাহ মোঃ মাছুম মিয়া

শিবপুর থেকে চুরি করা শিশু ৪ হাজার টাকায় বিক্রি

মান্দায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পিরোজপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ

পিরোজপুরে ২৫টি হারানো মোবাইল উদ্ধারকরে মালিকদের হাতে তুলে দিল জেলা পুলিশ

অভয়নগরে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে একাধিক সিদ্ধান্ত