ঈশ্বরদীতে সরিষার বাম্পার ফলন, হলুদের চাদরে হাসছে কৃষকের মুখ, ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের
ঈশ্বরদী উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠ এখন হলুদের সমারোহ। চারদিকে সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ আর মৌমাছিদের গুঞ্জন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের সঠিক দিকনির্দেশনায় ঈশ্বরদীতে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ফলন ও বাজারদর দুটোই আশাব্যঞ্জক হওয়ায় লাভের স্বপ্নে কৃষকদের মুখে ফুটেছে চওড়া হাসি। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে হলুদের উৎসব।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং সরকারের তেলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবার ঈশ্বরদীতে রেকর্ড পরিমাণ ৭৫০জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। শীতের শুরু থেকে কুয়াশা থাকলেও তা ফসলের কোনো বড় ক্ষতি করতে পারেনি, বরং সরিষার দানা পুষ্ট হতে সহায়ক হয়েছে। বারি-১৪, বারি-১৮ ও বিনার বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা চাষ করে কৃষকরা সাফল্যের মুখ দেখছেন। কৃষকদের মনে রঙিন স্বপ্ন।
ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ইস্তা-ভেলুপাড়াসহ উপজেলার মুলাডুলি, লক্ষ্মীকুণ্ডা,সাঁড়া,সলিমপুর,পাকশী,দাশুড়িয়া ও সাহাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ কেবল হলুদ রঙের হাতছানি। কৃষকরা জানান, ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষে খরচ কম এবং সময়ও লাগে অল্প। স্থানীয় কৃষক রহমান বলেন, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে ভালো ফলন দেখা যাচ্ছে। সারের কোনো অভাব ছিল না আর পোকা-মাকড়ের আক্রমণও খুব কম। তেলের দাম বেশি থাকায় আমরা এবার ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি। সরিষা খেতে দর্শনার্থীদের ভিড় কেবল কৃষকদের হাসি নয়, এই হলুদের রাজ্য বিনোদন প্রেমীদেরও টেনে আনছে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় সরিষা খেতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। কুয়াশাভেজা সকালে বা পড়ন্ত বিকেলে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষকে দেখা যাচ্ছে হলুদে ঘেরা প্রকৃতির মাঝে ফটোশেশনে ব্যস্ত থাকতে। কেউ মোবাইল ফোনে সেলফি তুলছেন, কেউবা পেশাদার ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দি করছেন প্রকৃতির এই অপরূপ রূপ। অনেক দর্শনার্থী জানান, যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে সরিষা ফুলের এই স্নিগ্ধতা এক অসাধারণ প্রশান্তি দেয়। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান,চলতি মৌসুমে আবহাওয়া এবং মাটির গুণাগুণ অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত বীজ সরবরাহ করার পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদি বাজারদর স্থিতিশীল থাকে, তবে ঈশ্বরদীর কৃষকরা এবার বড় ধরনের আর্থিক লাভের মুখ দেখবেন। উপসংহারে বলা যেতে পারে দেশের কৃষিতে ঈশ্বরদী বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এবার সরিষার এই বাম্পার ফলন কেবল স্থানীয় অর্থনীতিকেই চাঙা করবে না, বরং জাতীয় পর্যায়ে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতেও বড় অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমএসএম / এমএসএম
ইউএনও’র নাম করে ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বরখাস্ত শিক্ষকের
সাতকানিয়ার সাঙ্গু নদে নিষিদ্ধ জালের থাবা,হুঁশ নেই মৎস কর্মকর্তার
সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন ১৪ জেলে
বরগুনায় অবৈধ কাঠ কয়লার কারখানায় ১ লাখ টাকা জরিমানা
আমের মুকুলের ঘ্রাণে প্রাণবন্ত নাঙ্গলকোট
শেরপুরে সাঁতারের জন্য পুকুর লিজ মুক্ত করার দাবিতে শিশুদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
বইমেলায় পাঠকের নজরে মাসুদ রানা'র থ্রিলার উপন্যাস ডাবল জিরো
শ্যামনগরে নূরনগর মানবতার কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৫০ পরিবারে ইফতার সামগ্রী বিতরণ
নপুরায় ভিক্ষার টাকায় চলে জীবন: সংবাদ প্রকাশের পর অসহায় পরিবারের পাশে যুব রেড ক্রিসেন্ট
বাম্পার ফলনেও হাসি নেই, ন্যায্য দাম না পেয়ে বিপাকে বকশীগঞ্জের আলুচাষি
কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে আড়াই কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ
গাজীপুরে সার সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন