ঢাকা শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ: খুরুশকুল আশ্রয়ণ ও শুঁটকি পল্লী প্রকল্প নিয়ে জনমনে সংশয়


মো. শহিদুল ইসলাম photo মো. শহিদুল ইসলাম
প্রকাশিত: ২৮-১২-২০২৫ দুপুর ৩:৩০

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে রানওয়ে ও টার্মিনাল সম্প্রসারণের কাজ চলমান থাকলেও বিমানবন্দরের আশপাশের বাসিন্দা এবং মৎস্যজীবীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিমানবন্দরের জন্য জমি প্রয়োজন হওয়ায় কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কুতুবদিয়াপাড়া, সমিতিপাড়া ও নাজিরারটেক এলাকার প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দাকে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। তবে খুরুশকুলে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন প্রকল্প স্থানীয়দের জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

১নং ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার হলেও আশ্রয়ণ প্রকল্পে ফ্ল্যাট সংখ্যা মাত্র ৪ হাজার ১২৮টি। ফলে বিশাল এই জনসংখ্যার বড় একটি অংশ পুনর্বাসন সুবিধার বাইরে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নাজিরারটেকের বাসিন্দা বেল্লাল জানান, এই ফ্ল্যাটগুলো প্রকৃত অভাবী লোকদের দেওয়া হয়নি। যারা ফ্ল্যাট পেয়েছেন তারা এখনো সমিতিপাড়ায় বাস করেন এবং খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। শুঁটকি পল্লী নিয়ে তিনি বলেন, ওখানে গুদামজাত করার জন্য যে টিনশেড ঘর বানানো হচ্ছে তা অত্যন্ত ছোট। সেখানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০-২৫ কেজি শুঁটকি শুকানো সম্ভব, অথচ তারা বর্তমানে দৈনিক ৩-৪ মণ শুঁটকি শুকান। ফলে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে শুঁটকি শুকিয়ে ব্যবসা করা তাদের জন্য লোকসানজনক হবে। আমান উল্লাহ নামে অন্য এক বাসিন্দা জানান, ফ্ল্যাটগুলো তাদের বড় পরিবারের জন্য উপযুক্ত নয়। যান্ত্রিকভাবে (হিটার দ্বারা) শুঁটকি শুকালে খরচ অনেক বাড়বে, যা ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর। সরজমিনে দেখা গেছে, নাজিরারটেকের সচ্ছল ব্যবসায়ীরা খোলা জায়গায় শুঁটকি শুকাতে অভ্যস্ত হওয়ায় তারা এই আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এলাকায় যেতে আগ্রহী নন।

বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ঘিরে মোট চারটি প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটি ১ হাজার ৭শ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার অগ্রগতি ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজও ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই দুটি প্রকল্পের পরিচালক মো. ইউনুস ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ২৪২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে খুরুশকুলের পুনর্বাসিত পরিবারগুলোর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি জেলেরা আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকতে না আসেন, তবে এই শুঁটকি পল্লী কোনো কাজে আসবে না।

জুলাই ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ৫ তলা বিশিষ্ট ১০৯টি আবাসিক ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। ইতিপূর্বে ৬০০টি পরিবার সেখানে বসবাস শুরু করলেও অধিকাংশ মৎস্যজীবী পরিবার এখনো সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে। প্রকল্পের এই অসামঞ্জস্যতা এবং পুনর্বাসন নিয়ে জটিলতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা সরাসরি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এমএসএম / এমএসএম

রাষ্ট্রীয় অর্থে ‘রাক্ষুসে থাবা’

বিআরটিএর ভাতিজা রফিক এর তোঘলতি বদলি বাণিজ্য

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিম গিলে খাচ্ছে চট্টগ্রামের বনাঞ্চল

তথ্যপ্রাপ্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে তথ্য প্রদানে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন বিপ্লব কুন্ডু

‘ফাঁসির মঞ্চ’ থেকে ফিরে সংসদে যাচ্ছেন যারা

এনবিআর সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের এত সম্পদের উৎস কোথায়

চট্টগ্রামে ফরেস্ট চেক স্টেশন ধুমঘাটে ডেপুটি রেঞ্জার ইলিছুর রহমান এর চাঁদাবাজি

বিরুদ্ধে দুর্নীতি ছাড়াও নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ

অঢেল সম্পদের মালিক এনবিআর কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম

অভিযুক্ত বিপ্লব কুন্ডুই তদন্ত কমিটির প্রধান

গার্ল গাইডস্রে টাকা মেরে দেয়ার অভিযোগ কাজী জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে

জাইকার সহায়তায় ৯৮২ কোটি টাকায় হচ্ছে ভূমিকম্প সহিষ্ণু ভবন

বিটিসিএল’এ কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অবৈধভাবে ভোগকারীরা পগার পার!