বেনাপোল বন্দরে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চলছে শুল্কফাঁকি
দেশের বৃহত্তম বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য পরীক্ষণ অনিয়মে সুসংগঠিত চোরাচালান সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজিতে শুল্কফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতিগ্রস্ত কয়েকজন পুরাতন রাজস্ব কর্মকর্তার ঘুস বাণিজ্যের পাতানো ফাঁদে চলছে শুল্ক ফাঁকির উৎসব। মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য পাচারে কাস্টমস ও স্থলবন্দরের কর্মকর্তাদের একটি অংশ সরাসরি হাত মিলিয়ে চলছে এই শুল্কফাঁকি।
অভিযোগ রয়েছে,বেনাপোল কাস্টম হাউসের (আইআরএম) টিমের রাজস্ব কর্মকর্তার যোগসাজশে নাম মাত্র পরীক্ষণ আর পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী কনসাইনমেন্ট প্রতি মোটা অংকের ঘুসের কারসাজিতে খালাস মিলছে আমদানিকৃত পণ্যের চালান। মূলত সিন্ডিকেট চক্রটি আমদানি পণ্য ঘোষণায় থাকে সল্পযুক্ত শুল্ক পণ্য আর আনে উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়ংকর সিন্ডিকেট চক্রের নীলনকশা। পরীক্ষণ কর্মকর্তার গ্রীন সিগন্যালে বন্দরে পণ্য প্রবেশের পর শেড ইনচার্জের যোগসাজশে লুকানো হয় উচ্চ শুল্কযুক্ত ও মিস ডিক্লারেশন গুডসের প্যাকেজ। পরে লোক দেখানো ও নামমাত্র কয়েকটি পণ্য দেখেই সিন্ডিকেটের মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য চালান ১ দিনেই মিলে যায় পরীক্ষণ রিপোর্ট। দ্রুত পণ্য খালাশে বন্দরের গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে দুই একটি কনাসাইনমেন্ট ধরা পড়লেও বেশিরভাগই থাকে অধরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, দুদকে অভিযুক্ত সাবেক কমিশনার কামরুজ্জামানের আমলে গড়ে উঠা শুল্কফাঁকি চক্রের পাতানে ছকেই অব্যাহত রয়েছে শুল্কফাঁকি। আর এ কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়েছে বদলী না হওয়া রাজস্ব কর্মকর্তা মনিউর রহমান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক কমিশনার কামরুজ্জামানের সময়ে (আইআরএম) টিমের রাজস্ব কর্মকর্তা ছিলো মনিউর রহমান ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইসলাম। সে সময় বেনাপোল বন্দরে নো-এন্ট্রি থেকে শুরু করে শুল্কফাঁকির উৎসবে পরিণত হয়। আর এই শুল্কফাঁকির বাস্তবায়নকারী অতিরিক্ত কমিশনার শরিফুল হাসানের অন্যতম সহযোগী মনিউর। রাজস্ব কর্মকর্তা মনিউর রহমান বর্তমান আনস্টাফিং শাখার দায়িত্বে থাকলেও তার সহযোগী রাজস্ব কর্মকতারা শুল্কফাঁকির সিন্ডিকেটের পণ্য ছাড়করণ বাস্তবায়ন করছে।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, শুল্কফাঁকি চক্রের ফাইলগুলো অসাধু কর্মকর্তা কৌশলে তার আয়ত্তে নিয়ে পরীক্ষণ করে শুল্কফাঁকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য মতে, মাগুরার সাবেক এমপির বন্ধু পালাতক আ.লীগনেতা হাফিজুর রহমান হ্যাপীর প্রত্যায় ইন্টারন্যাশনাল নামীয় লাইসেন্সসহ এক ছাত্রলীগ নেতাকে বিশেষ শুল্কফাঁকির সহায়তা করছে। তাছাড়া ছাত্রলীগনেতার সহায়তায় সিন্ডিকেট চক্রটি শুল্কফাঁকি দিতে একেক সময় একেক লাইসেন্স ব্যবহার করছে। আর সুযোগ বুঝে বিল অফ এন্ট্রি দাখিল করে পণ্যে খালাস করে শুল্কফাঁকি দেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট জানান, হাতেগোনা কয়েকটি অসাধু ব্যবসায়ীকে শুল্ক ফাঁকির সুযোগ দিতে নামমাত্র ও দ্রুত সময়ে পরীক্ষণ রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। পুরোনো কর্মকর্তারা নতুন (আগত) দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরও এই চক্রে টানার চেষ্টা করছেন। গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে অভিযুক্ত এসব কর্মকর্তার মোবাইল কল রেকর্ড চেক করলেই ঘুস বাণিজ্যের প্রমাণ মিলবে বলে জানান। তাছাড়া পূর্বে শুল্কফাঁকির পণ্য আটকের চালান পর্যালোচনা করলে বেরিয়ে আসবে ব্যবহারিত এসব লাইসেন্স। তাছাড়া নিয়ম বহির্ভূত ভাবে একই শেডে পোস্টিং নেওয়া অ্যাসোটেড গুডস নামানো হয় এমন কয়েকটি চালান ১০০% কায়িক পরীক্ষণ করলে ধরা পড়বে অবৈধ পণ্য।
অভিযোগ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নই। আমি পরীক্ষণে গিয়ে পণ্যের গড়মিল পেলে মামলা দিচ্ছি।
এমএসএম / এমএসএম
ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিম কমিটিতে আইন বিষয়ক সম্পাদক চৌগাছার জাফর ইকবাল
রৌমারীতে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
কুষ্টিয়ায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান
রাণীনগরে পাইকারি দোকানের টিন কেটে দেড় লাখ টাকার সিগারেট চুরি, থানায় অভিযোগ
নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলার প্রধান আসামি যশোর থেকে গ্রেফতার
মেঘনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ: “তিন মাসে চার খুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করছেনঃ হাসনাত আবদুল্লাহ
ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় অধ্যাপক শাহ মোঃ মাছুম মিয়া
শিবপুর থেকে চুরি করা শিশু ৪ হাজার টাকায় বিক্রি
মান্দায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
পিরোজপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ
পিরোজপুরে ২৫টি হারানো মোবাইল উদ্ধারকরে মালিকদের হাতে তুলে দিল জেলা পুলিশ
অভয়নগরে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে একাধিক সিদ্ধান্ত