ঢাকা শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

নীল অর্থনীতির স্বপ্নভঙ্গ: বিশ্বব্যাংকের হাজার কোটি টাকা ফেরত, উপকূলবাসী বঞ্চিত—ব্যর্থতার দায় কার?


জাহিদুল আলম photo জাহিদুল আলম
প্রকাশিত: ১৯-১-২০২৬ রাত ১০:২০

বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমাকে কেন্দ্র করে ‘নীল অর্থনীতি’ বা ব্লু-ইকোনমির যে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের স্বপ্ন এক দশক আগে দেখানো হয়েছিল, মৎস্য অধিদপ্তরের ১ হাজার ৮৬৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পটি সেই স্বপ্নের সমাধিস্থলে পরিণত হয়েছে।
২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের সবচেয়ে হতাশাজনক দিক হলো—সাড়ে সাত বছর পার হলেও নির্ধারিত বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত হাজার কোটি টাকার অর্থ অব্যবহৃত থেকে বিদেশেই ফেরত যাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ একে ‘সাশ্রয়’ ও ‘দক্ষ ব্যবস্থাপনা’ বললেও বাস্তবে এটি প্রশাসনিক অদক্ষতা, পরিকল্পনাহীনতা ও সমন্বয়হীনতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ—এমনটাই মত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও মাঠপর্যায়ের সুবিধাভোগীদের।
অবকাঠামোই যেখানে ভিত্তি, সেখানেই ভাঙন
প্রকল্পের মূল স্তম্ভ ছিল ১৮টি আধুনিক ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার নির্মাণ। এগুলো ছাড়া মাছের মান নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি কার্যত অসম্ভব। অথচ সাড়ে সাত বছরেও এসব কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর—এমনটাই অভিযোগ সুবিধাভোগীদের।
কর্তৃপক্ষ জমির মালিকানা জটিলতার কথা বললেও প্রশ্ন উঠেছে—যথাযথ সমীক্ষা ও ভূমি নিশ্চয়তা ছাড়া কীভাবে এত বড় বাজেটের প্রকল্প নেওয়া হলো?
এই ব্যর্থতার ফলাফল ভয়াবহ:
১৬টি সার্ভিল্যান্স চেকপোস্টের জায়গায় হয়েছে মাত্র ৫টি
১৬টি ফিশারিজ পন্টুনের জায়গায় হয়েছে মাত্র ৬টি
অর্থাৎ প্রকল্পের মেরুদণ্ডই ভেঙে পড়েছে।
‘সাশ্রয়’ না কি ব্যর্থতার সাফাই?
কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী ৯৭ শতাংশ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে। ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তন, কোভিডজনিত ভ্রমণ বাতিল এবং কম দামে দরপত্র পাওয়ায় অর্থ বেঁচেছে—এমনটাই তাদের ব্যাখ্যা।
কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
অবকাঠামো নির্মাণে রেসপনসিভ দরদাতা না পাওয়া, কাজ শুরু না হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজ বাদ পড়াই অর্থ অব্যয়ের মূল কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
“উন্নয়ন প্রকল্পের লক্ষ্য পূরণ না করে হাজার কোটি টাকা ফেরত দেওয়া কোনোভাবেই সাশ্রয় নয়—এটি প্রশাসনিক দেউলিয়াপনার প্রমাণ।”
সমুদ্র পাহারা দেওয়ার নৌকা নেই!
প্রকল্পের আওতায় ৮টি প্যাট্রোল বোট কেনার পরিকল্পনা ছিল, যা সমুদ্রসীমায় নজরদারির জন্য অত্যাবশ্যক। কিন্তু সরকারি অনুমোদনের অজুহাতে সেটিও বাদ পড়ে গেছে।
এর অর্থ দাঁড়ায়—
বাংলাদেশ তার বিশাল সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষার একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া করেছে।
মাঠে হাহাকার, কাগজে সাফল্য
খুলনা থেকে কুয়াকাটা—জেলেদের কণ্ঠে আজও ক্ষোভ।
ভাঙা ঘাট, পলি জমে ভরাট খাল, আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধার অভাব—সবই রয়ে গেছে আগের মতো।
বরগুনার পাথরঘাটার জেলেরা বলছেন,
“নাম-ধাম লিখে গেছে, কিন্তু জীবনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।”
প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য
মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী দাবি করেছেন—
জমি জটিলতা প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণে ছিল না
অর্থ অব্যবহৃত নয়, বরং হিসাব সংশোধনের ফল
পিডি পরিবর্তন নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া
৮,৫০০ নৌযানে পরীক্ষামূলক জিএসএম ট্র্যাকিং করা হয়েছে
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—
যদি সবকিছুই সঠিকভাবে চলত, তবে হাজার কোটি টাকা কেন ফেরত গেল?

যে অর্থ দিয়ে উপকূলের লাখো মানুষের জীবন বদলানো যেত, সেই অর্থ আজ কেবল কাগজে ব্যর্থতার সাক্ষী হয়ে বিদেশে ফিরে যাচ্ছে।
এই প্রকল্পের ব্যর্থতা শুধু অর্থনৈতিক নয়—এটি একটি জাতীয় সম্ভাবনার অপচয়।
নীল অর্থনীতির যে সোনালি স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তা আজ ধূসর বাস্তবতায় ঢাকা।

এমএসএম / এমএসএম

শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট: স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ

কারাগারে থেকেও ডেমরায় মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে খিলগাঁওয়ে গ্রেপ্তার হওয়া নাঈম

ডেমরায় থানা কৃষক দল নেতা মমিনকে মধ্যরাতে বাসায় এসে প্রাণনাশের হুমকি

এনবিআরের বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূনর্বহালের দাবি

৬৪ জেলায় তরুণদের জন্য এআই প্রশিক্ষণ উদ্যোগ: দক্ষ জনশক্তি গড়ার নতুন দিগন্ত

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন নেতৃত্বকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

মোহাম্মদপুরে সিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা, ড্যাবের তীব্র নিন্দা

আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

গার্মেন্টস আন্দোলনকারীদের উপর দমন পীড়নের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জনিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

নাহারের অর্থায়নে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আশ্রয়হীন ২৮ পরিবারকে নতুন ঘর দিল ছওয়াব

খামারবাড়ি থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবক দলের বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা কর্মসূচি

‘পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে’

‘মাদক নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরী করতে হবে’: ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান