ঢাকা মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

রাজধানীতে হাত বাড়ালেই মাদক

মাদক ব্যবসায়ীদের গুলিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ


আব্দুল লতিফ রানা photo আব্দুল লতিফ রানা
প্রকাশিত: ৩-৩-২০২৬ দুপুর ৩:৪৪

স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার গণঅভ্যুত্থানে পতনের পর দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে। তারপরও অন্তর্বর্তী সরকার অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। আর গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর নুতন সরকার গঠনের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটতে থাকে। ও রাজধানীসহ সারাদেশে খুন, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, অপহরণ এমন কি পিতার কাছ থেকে কন্যাকে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ছাড়াও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক-বাণিজ্য। হাত বাড়ালেই যেখানে সেখানে মিলছে সব ধরনের মাদক। আর দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সরকার প্রধান নির্দেশ দিয়েছেন। আর সেই নির্দেশের পরই সারাদেশে মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। এইসব মাদক ব্যবসায়ীরা এতোই প্রভাবশালী যে যারা অভিযানে যাচ্ছেন, তাদের উপর উল্টো গুলি বর্ষণ-সহ বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। 
জানা যায়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদ রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক কর্মকর্তা।আহত কর্মকর্তা হলেন অধিদপ্তরের খিলগাঁও অঞ্চলের পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান (৪১)। সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সায়েদাবাদ রেলক্রসিংয়ের পাশে তাঁকে গুলি করা হয় বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. ফজলুল হক খান। তিনি জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ীরা পরিদর্ষক সিদ্দিকুর রহমানের বাঁ পায়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধারের পর আহত সিদ্দিকুর রহমানকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন বলে ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফারুক জানিয়েছেন। এসব মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীরা দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে জেলা হয়ে রাজধানীতে ঢুকছে মাদকের বড় বড় চালান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে মাদকের আগ্রাসন রুখতে। কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের সদস্যদের ম্যানেজ করে মাদক কারবারিরা মাদক মারণনেশা পৌঁছে দিচ্ছে রাজধানীর সর্বত্র। সূত্র জানায়, ঢাকায় বস্তিকেন্দ্রিক মাদক স্পট ও বিক্রেতার সংখ্যা বেশি। যাত্রাবাড়ি, সবুজবাগ, খিলগাঁও থানার সিপাইবাগ, মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প, মিরপুর-১১ সংলগ্ন মিল্লাত বিহারি ক্যাম্প, কারওয়ানবাজার রেললাইন, ভাষানটেক বস্তি, কালশী বাউনিয়া বাঁধ, জুরাইন কবরস্থান, কমলাপুর রেললাইন (টিটিপাড়া), ধলপুর, নারায়ণগঞ্জের ছনপাড়া, পোস্তাখোলা ব্রিজ এলাকা হচ্ছে রাজধানীর মাদকের আস্তানা। সাম্প্রতিক সময়ে এসব এলাকা থেকে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর অভিযানে শতাধিক মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার হয়েছে। তারপরও থেমে নেই মাদকের রমরমা বিকিকিনি। রাজধানী উত্তর গোড়ান এলাকার সিপাহীবাগ ভূতের গলির বাসিন্দা শফি মাহমুদ চৌধুরী জানান, সিপাহীবাগ টেম্পু স্ট্যান্ডের উত্তর পাশের ভূতের গলি শেষ মাথায় পরিত্যক্ত মাঠে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই মাদক ব্যবসায়ীদের হাট বসানো হয়। সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত  কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য মুন্না বাহিনীল নেতৃত্বে ইয়াবা, গাঁজাসহ মাদক বিক্রি, সেবন করা হয়। তাদের ডাক চিৎকারে এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ নামাজ পড়াসহ স্কুলের শিক্ষার্থীরা চলাফেরা করতে পারছে না। আর মুন্না বাহিনীর তাণ্ডবে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। এসব সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে খিলগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন। কয়েকটি মাদক স্পটে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যারা নিয়মিত মাদকসেবী তারা ফোন করলেই মাদক দিয়ে যায়। এ মাদক বিক্রির কৌশল হিসেবে ফোনে ব্যবহার হয় সাংকেতিক ভাষা। এসব স্পটগুলোয় শুধু এলাকার আশপাশের লোকজনই কাস্টমার। মাদকদ্রব্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হিরোইনের। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যে জানা গেছে, গত ৪ বছরে দেশে অন্তত ৪০ লাখ মাদকসেবী বেড়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা ১ কোটির বেশি। মাদকসেবীদের বেশিরভাগ তরুণ-তরুণী। দেশের ৩০ শতাংশ যুবক মাদকে জড়িয়ে পড়েছে। সহজলভ্য হওয়ায় স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নতুন শিক্ষার্থী জড়াচ্ছে মাদকে। রাজধানীর স্কুল, কলেজ, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও মাদক পৌঁছে গেছে। কতিপয় বখাটে শিক্ষার্থী প্রকাশ্যে রাজধানীর অলি-গলিসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বসে মাদকসেবন করে। আর ক্যাম্পাসেই মিলছে কিছু স্বল্পমূল্যের মাদক। বড় ক্যাম্পাসগুলোয় বহিরাগতরা সন্ধ্যা হলেই মাদকের আসর বসায়। মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয় না। ফলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিরাপদে মাদক গ্রহণের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিণত হচ্ছে। গুলশানের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের এক শিক্ষক প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, এখনকার ছেলেমেয়েরা সব কিছুতে অ্যাডভান্স। কোনো কিছু কেয়ার করে না। প্রকাশ্যে এখন শিক্ষার্থীরা সিগারেট ও গাঁজা খাচ্ছে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, ঢাকায় সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধের পেছনে রয়েছে মাদক। মাদক সরবরাহে বাহক হিসেবে এখন নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। স্কুলপড়ুয়া কিশোরী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া অনেক তরুণী মাদকের বাহক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত ২৪ ধরনের মাদক উদ্ধার হয়েছে। সূত্র বলছে, দেশে বর্তমানে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, মরফিন, আইস পিলসহ ২৪ ধরনের মাদক বিক্রি হচ্ছে। তবে এর মধ্যে ১১ ধরনের মাদক ব্যবহার হচ্ছে বেশি। সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে ইয়াবা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, অপরাধ বিশেষজ্ঞ, মাদক বিক্রেতা, পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এবং ভারত থেকে আসে ফেনসিডিল। আর দেশে এখন ইয়াবার ব্যাপক বিস্তার। এর সঙ্গে দিনে দিনে যুক্ত হচ্ছে নতুন মাদক। বেশ কিছুদিন ধরে ইয়াবার চেয়ে ভয়ংকর মাদক ‘আইস’ দেশে ঢুকছে। গণঅভ্যুত্থানকালে পুলিশের ভূমিকার কারণে দেশব্যাপী থানাগুলো জনতার রোষানলের শিকার হয়। এরপর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কার্যক্রমে কিছুটা ভাটা পড়ে। এ পরিস্থিতিতে মাদক কারবার অনেকটাই নির্বিঘ্ন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি একজন মাদক ব্যবসায়ী নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখন ইয়াবার অনেক চাহিদা। নিয়মিত কাস্টমাররা ফোন করলেই জায়গামতো পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রতিটি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে একেকজন ডিলার। এ ডিলারদের অধীনে থাকে ১০ থেকে ১২ জন করে বিক্রেতা। এ বিক্রেতারাই ইয়াবা ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করে। আর যাতায়াতের জন্য তারা নিরাপদ হিসেবে বাস ব্যবহার করে। এছাড়া ফোনে কথা বলার সময় সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে। ইয়াবার ক্রেতারা ফোনে বলে, ‘এক গাড়ি বালু’ কিংবা ‘এক গাড়ি ইট’ লাগবে মানে এক পিস ইয়াবা। ইয়াবারও আরো প্রচলিত নাম হচ্ছে বাবা, মিষ্টি, গোটা, বড়ি ইত্যাদি। মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় দেখা গেছে, সেখানে অনেকটা প্রকাশ্যেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে গাঁজা, ইয়াবা,এমনকি হেরোইন পর্যন্ত। মাদক বিক্রির জন্য ক্রেতার অপেক্ষা করছেন মাদক কারবারিরা। আর ক্রেতারাও প্রকাশ্যে তাদের কাছে কিনছেন মাদক। বেশিরভাগ ক্রেতাই সিএনজিচালক, বাসের হেলাপারসহ নিম্নআয়ের মানুষ। মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ হাউজিং, চাঁদ উদ্যান ও নবোদয় হাউজিং এলাকা। এলাকার বাড়তি ঝামেলা জেনেভা ক্যাম্পের উর্দুভাষীরা। উর্দুভাষী অনেকেই মাদক কারবারি। জেনেভা ক্যাম্পের মাদক কারবারি গ্রুপগুলো হলো ভূঁইয়া সোহেল গ্রুপ এবং পারমনু ও চুয়া সেলিম গ্রুপ। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণির অসাধু সদস্য মাদক পাচার ও কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সমাজের প্রভাবশালী এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ঢাকার মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের আইনের আওতায় আনতে পারে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাদকদ্রব্য নিয়ণন্ত্রণ অধিদপ্তরের খিলগাঁও অঞ্চলের পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান গুলিবিদ্ব হওয়ার ঘটনায় ডিএমপির উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ওয়ারি এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, উক্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার বা আটক করতে পারেনি বলে জানান তিনি।

 

এমএসএম / এমএসএম

জিয়া পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির কার্যক্রমে নেতা-কর্মীরা উচ্ছ্বাসিত

মাদক ব্যবসায়ীদের গুলিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ

মুসলিম বিশ্বের সংকট উত্তরণে ঐক্যের আহ্বান; বৃহত্তর উত্তরা উলামা পরিষদের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

রাজধানীতে বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের সম্মানে জামায়াতের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

অপহরণ হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামি ধরে প্রশংসায় ভাসছে কামরাঙ্গীচর থানা পুলিশ

দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে রাজনৈতিক সচিব করলেন এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন

তুরাগে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় চাঁন মিয়া বেপারীর উপহার সামগ্রী বিতরণ

মুড়ি ভর্তি পিকআপ থেকে ৪৬ কেজি গাঁজা ও ৭০০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার

ঢাকা দক্ষিণ সিটির উন্নয়ন কাজে নয়ছয়, সংবাদ প্রকাশের পরে বিভিন্ন সাংবাদিক দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা

মহিবুল হক ও পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান; স্ত্রীর ফ্ল্যাটে ক্রোকাদেশের অনুমোদন

যাত্রাবাড়ী শাহরিয়ার স্টিল মিলে বিদ্যুৎস্পর্শে কিশোরের রহস্যজন মৃত্যু

রমজান উপলক্ষে নিটোরে ড্যাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

ভাষানটেক বাজারে চাঁদা দাবির জেরে হামলা, দুইজন আক্রান্ত