ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বগুড়ায় মাংস সমিতি’র ৭৭ লাখ টাকা নিয়ে জামায়াত নেতা উধাও


সেলিম সরকার, বগুড়া photo সেলিম সরকার, বগুড়া
প্রকাশিত: ১৮-৩-২০২৬ দুপুর ১১:৫৬

বগুড়া শহরের মালগ্রাম চাপড়পাড়া এলাকায় ‘ফোর স্টার সঞ্চয় সমিতি’ নামে একটি মাংসভিত্তিক সঞ্চয় প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন সমিতির তিন পরিচালক। তাদের একজন স্থানীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি আব্দুল হাকিম বলে অভিযোগ উঠেছে। বাকি দুজন হলেন একই এলাকার আকরাম ও শাহিন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সমিতির সদস্যরা নির্ধারিত দিনে মাংস নিতে এসে দেখেন, কোনো গরু জবাই করা হয়নি এবং সমিতির দায়িত্বশীলরা গা ঢাকা দিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালগ্রাম এলাকার আব্দুল হাকিম, আকরাম ও শাহিন মিলে ‘ফোর স্টার বিজনেস সঞ্চয় সমিতি’ গড়ে তোলেন। ঈদকে সামনে রেখে তারা স্থানীয়দের কাছ থেকে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে টাকা জমা নিতেন। সদস্যরা বছরজুড়ে টাকা সঞ্চয় করে ঈদের আগে সমিতি থেকে মাংস পেতেন।

সমিতির সদস্যদের দাবি, মালগ্রামের কয়েকটি পাড়া মিলিয়ে প্রায় ১২শ থেকে ১৩শ পরিবার এতে যুক্ত ছিল। প্রতি কার্ডের মূল্য ছিল ৫ হাজার টাকা, অনেক পরিবার একাধিক কার্ডও নিয়েছিল। সব মিলিয়ে এবার প্রায় ৭৭ লাখ টাকা জমা হয়।

সমিতির নিয়ম অনুযায়ী গত রোববার (১৫ মার্চ) মাংস বিতরণের কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নতুন করে দিন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সেদিনও মাংস না দিয়ে সমিতির পরিচালকেরা উধাও হয়ে যান।

ভুক্তভোগী পারুল নামের এক নারী জানান, “চাপড়পাড়ার প্রায় ৭৫০ জন মানুষ এই সমিতিতে টাকা জমা রেখেছিল। কেউ ৫ হাজার, কেউ ১০ হাজার টাকা। আমরা সারা বছর কষ্ট করে প্রতি সপ্তাহে টাকা জমা দিয়েছি, শুধু ঈদের সময় একটু ভালোভাবে খাওয়ার আশায়। কিন্তু তারা সব টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে।”

আরেক ভুক্তভোগী আখলি বেগম বলেন, “প্রতি সপ্তাহে ২০০ টাকা করে জমা দিতাম। ভাবছিলাম ১০-১২ কেজি মাংস পাবো। এখন মনে হচ্ছে এই ঈদে আর মাংস খাওয়া হবে না। এসে শুনি তারা এলাকায় নেই, মোবাইলও বন্ধ।”

ঘটনার পর সমিতির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং অভিযুক্তদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, আব্দুল হাকিম তার রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয়দের আস্থা অর্জন করে এই সমিতি গড়ে তুলেছিলেন। পরে আকরাম ও শাহিনকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত চাঁদা উত্তোলন করেন।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সদস্যরা দ্রুত তাদের সঞ্চিত টাকা ফেরত এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তারা প্রশাসনের সহায়তা কামনা করে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার অধীন স্টেডিয়াম ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক কামরুজ্জামান বলেন, “মালগ্রাম এলাকায় একটি সমিতি মাংস দেওয়ার নামে নিয়মিত টাকা তুলছিল। আজ তাদের বিতরণের দিন ছিল। কিন্তু তারা তা না দিয়ে উধাও হয়ে গেছে। আমরা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এমএসএম / এমএসএম

নড়াইলে গণঅধিকার পরিষদের নতুন কমিটি উদযাপন ও সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত

অপহরণকারী সন্দেহে নারীসহ দুইজনকে পুলিশে দিল স্হানীয়রা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম জমা

কাপাসিয়ায় শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং, বখাটের ৩ মাসের কারাদন্ড দিলেন এসিল্যান্ড

বগুড়ায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কালিহাতীতে চালককে জিম্মি করে মাইক্রোবাস নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, রামদা-রড উদ্ধার

‎জলাশয়ে প্রাণের জোয়ার, ত্রিশালে ছাড়া হলো মাছের পোনা

কাশবন থেকে রিভলবার ও গুলি উদ্ধার

​সাতকানিয়ায় বিদায়ি ইউএনও মাহমুদুল হাসানের মহামারী!

অভাবের সংসারে অসমাপ্ত ঘর, রেহানার পাশে হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন।

গোদাগাড়ীতে সীমান্তবাসীর বিকল্প কর্মসংস্থানে বিজিবির প্রশিক্ষণ, সনদ পেলেন ২০ জন

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম. এ. খালেক আটক