ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

​সাতকানিয়ায় বিদায়ি ইউএনও মাহমুদুল হাসানের মহামারী!


বেলাল উদ্দিন photo বেলাল উদ্দিন
প্রকাশিত: ১৭-৯-২০২৬ বিকাল ৬:৯

প্রশাসনিক ক্ষমতার চরম অপব্যবহার, সরকারি রাজস্বের অভূতপূর্ব ক্ষতিসাধন, নিয়ম-রীতির তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার একক মহড়া এবং নৈতিক স্খলনের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। বিদায়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের বদলির প্রশাসনিক আদেশের ঠিক পরপরই এমন কিছু বিতর্কিত ও প্রশাসনিক নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্তের বাস্তবতা উন্মোচিত হয়েছে, যা পুরো চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন ও স্থানীয় জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বদলি আদেশের মাত্র চার দিনের মাথায় এক কলমের খোঁচায় টেন্ডার ব্যতিরেকে এক কোটি ৮৩ লাখ ঘনফুটেরও বেশি বালু ও মাটি অপসারণের নামে পুরো ডলু খাল একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের শেষ দুই দিনে রাতের আঁধারে তিন শতাধিক নামজারি মামলা অনুমোদনের মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই সমস্ত প্রশাসনিক দুর্নীতির পাশাপাশি সরকারি বাসভবনের অপব্যবহার এবং গুরুতর নৈতিক স্খলনের তথ্য এখন প্রশাসন ও জনপরিসরে আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করছে। ইতিমধ্যে এই প্রশাসনিক অনিয়মের নেপথ্য উন্মোচনে সমন্বিত তদন্ত শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহ।

সাতকানিয়া উপজেলার বুক চিরে প্রবাহমান ঐতিহ্যবাহী ৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ডলু নদীর একাংশ (খাল) এখন প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মূলতঃ পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে প্রবাহিত হয়ে লোহাগাড়ার চুনতি, নারিশ্চা, পানত্রিশা, পুটিবিলা, আধুনগর এবং সাতকানিয়ার গারাংগিয়া, সোনাকানিয়া, রূপকানিয়া, সদর, পৌরসভা, রামপুর, পশ্চিম ঢেমশা, গাঠিয়াডেঙ্গা, নলুয়া ও আমিলাইশ হয়ে নদীটি সাঙ্গুতে পতিত হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, গত ২৩ আগস্ট বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৩৬তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা, খোন্দকার মাহমুদুল হাসানকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করার বদলি আদেশ জারি করা হয়। কিন্তু বদলি আদেশের তোয়াক্কা না করে প্রশাসনিক নৈতিকতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে বদলির চার দিন পর, অর্থাৎ ২৭ আগস্ট তিনি একটি বিতর্কিত নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেন। সাতকানিয়ার গারাঙ্গিয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে উত্তরে নলুয়া-আমিলাইশ তিন খালের মুখ পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জেগে ওঠা ১ কোটি ৮৩ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭৩ ঘনফুট মাটির ঢিবি ও বালু ‘স্বেচ্ছাশ্রমে’ অপসারণের জন্য ‘মেসার্স করিম অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করেন তিনি।

সরকারি যে কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ বা অপসারণের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান বাধ্যতামূলক হলেও, এই বিপুল পরিমাণ মাটির বাজারমূল্য বিবেচনায় না নিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এই এক প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে ডলু খালের ওপর কার্যত ওই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র ‘মালিকানা’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, কার্যাদেশ প্রাপ্তির পর থেকেই খালের প্রতি আধা কিলোমিটার এলাকা ৫০ লাখ টাকা দর নির্ধারণ করে এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কাছে বালু ও মাটি বিক্রির পাইকারি আয়োজন চলছে। গারাঙ্গিয়া থেকে নলুয়া পর্যন্ত পুরো নদী অববাহিকায় এখন অবৈধ বালু উত্তোলনের ধুম পড়েছে, যা ঘিরে স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের এই অপরিকল্পিত কার্যাদেশের ফলে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার। এই খালের আওতাভুক্ত এলাকায় অবস্থিত সরকারের ৮টি নিবন্ধিত ও বৈধ বালুমহাল, সোনাকানিয়া, রূপকানিয়া, সাতকানিয়া সদর, রামপুর, পশ্চিম ঢেমশা, রোজমর পাড়া, গাঠিয়াডেঙ্গা এবং নলুয়া-আমিলাইশ। প্রতি বছর এই বৈধ বালুমহালগুলো ইজারা দিয়ে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব অর্জন করে আসছিল। কিন্তু স্বেচ্ছাশ্রমের মোড়কে পুরো খালের বালু ও মাটি ফ্রিতে তুলে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করায় ৮টি ইজারাকৃত বালুমহালের অস্তিত্বই বিলুপ্ত হতে বসেছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার নিশ্চিত কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে স্বীকার করেছেন, ইউএনও অফিসের মৌখিক ও লিখিত নির্দেশনায় তারা একটি ড্রোন বা টোটাল স্টেশন মেশিনের মাধ্যমে প্রাথমিক জরিপ চালিয়ে ১ কোটি ৮৩ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭৩ ঘনফুট অপসারণযোগ্য মাটির একটি প্রতিবেদন প্রদান করেছিলেন মাত্র। কিন্তু এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়া বা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোনো ধরনের হাইড্রোলজিক্যাল বা প্রকৌশলগত মতামত না নিয়ে কার্যাদেশ দেওয়াটা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত।

পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতামত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে খালের তলদেশ ও তীর এলাকা থেকে এভাবে অপরিকল্পিত মাটি ও বালু উত্তোলন নদীর স্বাভাবিক গতিপথকে চরমভাবে ব্যাহত করবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নদীর গতিপথ ও হাইড্রোলজিক্যাল স্ট্রাকচার বিবেচনা না করে নির্বিচারে মাটি কাটলে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধ, সিসি ব্লক এবং প্রতিরক্ষামূলক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ধসে পড়বে। খালের ওপর নির্মিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ, কালভার্ট ও সংযোগ সেতুর পিয়ার ধসে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হতে পারে। আগামী বর্ষা মৌসুমে খালের উজান ও ভাটির বিস্তীর্ণ তীরের ভাঙন ত্বরান্বিত হয়ে পুরো সাতকানিয়া ও পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলার বিশাল এলাকা ভয়াবহ প্লাবন ও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার মুখোমুখি হবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো অনুমোদন ছাড়া একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিজস্ব এখতিয়ারে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনের মূল প্রেরণা বিপুল অঙ্কের অবৈধ আর্থিক লেনদেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

ডলু খালের পাশাপাশি ভূ-সম্পত্তি প্রশাসনেও চরম অনিয়মের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই বিদায়ি ইউএনও। সাতকানিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি গত ১৬ আগস্ট শূন্য হওয়ার পর ২৫ আগস্ট ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসানকে ওই পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র দুই দিন, ২৬ ও ২৭ আগস্ট তিনি অফিসিয়াল কাজের সুযোগ পান, কারণ ২৭ আগস্টই ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস।

অভিযোগ উঠেছে, এই ৪৮ ঘণ্টার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে নিজস্ব সরকারি বাসভবনে বসে গভীর রাত পর্যন্ত তিন শতাধিক স্থগিত ও বিতর্কিত নামজারি মামলার ফাইল অনুমোদন করেছেন।

ভূমি আইনের বিধিমালা অনুযায়ী, একটি নামজারি প্রস্তাব নিষ্পত্তিতে সরেজমিন তদন্ত, রেকর্ডপত্র পরীক্ষা, পাট্টা বা স্বত্ব যাচাই, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার (তহশিলদার) সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন এবং শুনানি গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকে। তবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে তিন শতাধিক জটিল ও দীর্ঘদিনের পেন্ডিং ফাইলের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ ভূমি প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সাতকানিয়া সদর ভূমি অফিসের তহশিলদার কাজী ইমরুল কায়েস নিশ্চিত করেছেন, ওই দুই দিনে তাঁর অফিসেরই ৬০ থেকে ৭০টি নামজারি ফাইল তড়িঘড়ি অনুমোদন করা হয়। বাজালিয়া ভূমি অফিসের তহশিলদার মোকাম্মেল হোসেন জানান তাঁর অফিসের প্রায় ৩০টি ফাইল অনুমোদনের কথা। সংশ্লিষ্ট মহল স্পষ্ট অভিযোগ করেছে, কোনো রকম ফাইল যাচাই ছাড়াই মোটা অঙ্কের আর্থিক বিনিময়ে গভীর রাতে সরকারি বাসভবনে বসে এই নামজারিগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। যদি ফাইলগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কোনো আইনি ত্রুটি না-ই থাকত, তবে এতদিন কেন তা আটকে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা।

বদলির শেষ মুহূর্তে ইউএনওর এই নজিরবিহীন তড়িঘড়ি ও অনিয়মের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে প্রশাসনিক তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার মো. আসিফ জাহান শিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার গভীরতা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতকে পুরো অনিয়মের ঘটনা তদন্তের জন্য সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন সূত্র জানায়, তদন্ত দল ২৫ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত সাতকানিয়া ভূমি অফিসের ডিজিটাল রেকর্ড নিবিড়ভাবে নিরীক্ষা করছে। কারণ ডিজিটাল লগ বিশ্লেষণ করলেই বের হয়ে আসবে, ইউজার আইডি ব্যবহার করে ঠিক কোন সময়ে, কত দ্রুত এবং কী প্রক্রিয়ায় নামজারি ফাইলগুলোতে প্রবেশ করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

একই সাথে, ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে একাধিক রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। শেষ কর্মদিবসের রাতে সরকারি বাসভবনে কোন কোন দালালি চক্র ও সুবিধাভোগী ব্যক্তি যাতায়াত করেছিলেন এবং সেখানে অর্থ লেনদেনের কোনো ঘটনা ঘটেছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ইউএনওর বাসভবন ও আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা এবং সিকিউরিটি লগের ডেটা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা, পাহাড় কাটা এবং কৃষিজমির টপসয়েল কাটার অভিযোগ বিদ্যমান। সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের মেয়াদকালে পরিবেশ বিধ্বংসী এই কার্যক্রমগুলোর বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযান চালানো হতো, তার সবই ছিল ‘লোক দেখানো’।

অভিযোগ রয়েছে, একটি পুরো ইউনিয়নে অবৈধভাবে মাটি কাটার কারণে সেখানকার স্থানীয় নদীর প্রাকৃতিক ভূ-সংস্থান ও গতিপথ ধ্বংস হয়ে গেলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বিদায়ি এই কর্মকর্তা। বরঞ্চ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা রক্ষা না করা এবং বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

স্থানীয় প্রশাসনিক ও সুশীল সমাজের আলোচনায় উঠে এসেছে, উক্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে নিজের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ক্ষমতার দাপট দেখাতেন। তাঁর নিজ বাড়ি ফেনী জেলার সদর উপজেলার ৭নং ওয়ার্ডের বারাহিপুরে। ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া এই সিনিয়র সহকারী সচিবের স্ত্রী চট্টগ্রাম বাকলিয়া সরকারি কলেজের প্রভাষক, যার গ্রামের বাড়ি বগুড়ায়। শ্বশুরবাড়ির রাজনৈতিক পরিচয় এবং পরিবারের অতীতে ছাত্ররাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার কথিত প্রভাব দেখিয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসনে একক ছড়ি ঘুরিয়েছেন এবং বহু নিয়মবহির্ভূত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসনিক দুর্নীতির বাইরেও এই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও নৈতিক জীবন নিয়ে চরম বিতর্ক ও জনঅসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিদায়ি ইউএনওর সরকারি বাসভবন ব্যবহারের বিধি-বিধান প্রতিপালন না করার পাশাপাশি গভীর নৈতিক অবক্ষয়ের খবর এখন সর্বত্র আলোচিত।

সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সরকারি বাসভবনে (বাংলো) কর্মরত এক বিধবা গৃহকর্মী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনা জনপরিসরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই অনৈতিক ঘটনা সম্পর্কিত বিভিন্ন অডিও এবং ভিডিও সংবেদনশীল প্রমাণ হিসেবে স্থানীয় জনগণের হাতে ঘুরছে। সরকারি বাসভবনের মতো একটি সংবেদনশীল ও নিরাপত্তা বেষ্টিত স্থানে এ ধরনের নৈতিক স্খলন ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় প্রশাসনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

সামগ্রিক অভিযোগের বিষয়ে ডলু খালের ইজারা প্রাপ্তির দাবিদার ‘মেসার্স করিম অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর স্বত্বাধিকারী আবদুল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, “আমাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনেই স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের কার্যাদেশ পেয়েছে। আমরা কোনো বালু বা মাটি কারও কাছে বিক্রি করছি না; কেবল সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সরানোর কাজ করছি।”

অন্যদিকে, সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিদায়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, “আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। প্রশাসনিক নিয়ম-কানুন মেনেই ডলু খালের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল এবং বিধি মোতাবেক নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেন হয়নি।”

তবে বিদায়ি ইউএনওর এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন দাবি করে সাতকানিয়ার সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে ডলু খালের অবৈধ কার্যাদেশ বাতিল, গভীর রাতে অনুমোদিত নামজারিগুলোর পুনঃতদন্ত এবং নৈতিক স্খলন ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

এমএসএম / এমএসএম

অপহরণকারী সন্দেহে নারীসহ দুইজনকে পুলিশে দিল স্হানীয়রা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম জমা

কাপাসিয়ায় শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং, বখাটের ৩ মাসের কারাদন্ড দিলেন এসিল্যান্ড

বগুড়ায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কালিহাতীতে চালককে জিম্মি করে মাইক্রোবাস নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, রামদা-রড উদ্ধার

‎জলাশয়ে প্রাণের জোয়ার, ত্রিশালে ছাড়া হলো মাছের পোনা

কাশবন থেকে রিভলবার ও গুলি উদ্ধার

​সাতকানিয়ায় বিদায়ি ইউএনও মাহমুদুল হাসানের মহামারী!

অভাবের সংসারে অসমাপ্ত ঘর, রেহানার পাশে হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন।

গোদাগাড়ীতে সীমান্তবাসীর বিকল্প কর্মসংস্থানে বিজিবির প্রশিক্ষণ, সনদ পেলেন ২০ জন

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম. এ. খালেক আটক

গাজীপুরে কর্মশালা: খামারিদের সুরক্ষায় সহজ শর্তে ঋণের ঘোষণা দিলেন প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী