রাক্ষসী ব্রহ্মপুত্র নদী ভাঙ্গনে বদলে যাচ্ছে রাজিবপুর- রৌমারীর মানূচিত্র
রাক্ষসী ব্রহ্মপুত্র নদী প্রলয়কারী ভাঙ্গনে ক্রমে পাল্টে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর-রৌমারী উপজেলার মানচিত্র।প্রতি বছর ভাঙ্গনের ফলে গ্রামের পর গ্রামের ঘর-বাড়ী ফসলী জমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গাছপালা বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী গর্ভে। জেগে উঠছে নতুন নতুন চর। এতে হাজার হাজার মানুষ তাদের বাব দাদার ভিটে মাটি হারিয়ে পরিনত হচ্ছে ভূমিহীনে। উদ্বেগজনক তথ্য হলো গত ১৬বছরে এদুটি উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে গৃহহীন হয়েছে ১৯০০ পরিবার। ৩৫ হাজার মানুষ এছাড়াও ১০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪টি রেজি স্কুল , ৭শ হেক্টর জমি ১টি কমিউনিটি ক্লিনিক ৪টি মসজিদ ১৫কিলোমিটর রাস্তা। ব্রহ্মপুত্রের পেটে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। এড়া আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন রাস্তার দুপাশে হেলিপ্যাডে আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
ভাঙ্গনে বিলীন গ্রামেগুলো হলো রৌমারী উপজেলার সুখেরবাতি, সাহেবের আলগা, ঘুঘুমারী,খেরুয়ারচর, খেদাইমারী, পশ্চিম বাগুয়ারচর ,বাইসপাড়া, বলদমারা, পশ্চিম পাখিউড়া ফলুয়ার চর, পালেরচর, ধনারচর, দিগলাপাড়া, তিনতেলী শতাধিক গ্রাম । রাজিবপুরে নয়ারচর, মোহনগনজ, কোদালকাটি, চরসাজাই,বড়বেড়,কিন্তনটারী।
এক একটি পরিবার এক থেকে ৭বার নদী ভাঙ্গনে স্বীকার হয়েছে। এরকম পরিবারের সংখ্যা ১৭শ এর অধিক। এমন দুটি পরিবার রাজিবপুর উপজেলা রাজিবপুর ইউনিয়নের ভেলামারী গ্রামের আয়নাল হক পাহাড়ী এবং ক্ষুদ্র বাসপাতারী গ্রামের হাফিজা খাতুন। এছাড়াও মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে সোনা উল্যাহ দেওয়ানী হাজী শুকুর আলী সরকার এবারত উল্যাহ সরকার এককালে যোদ্দার থাকলেও তাদের বংশধর এখন অন্যের ভিটায় বসবাসরত আছে। দুঃখ করে করুন কন্ঠে তারা বলেন কি করুম গো নদী আঙ্গো পাছ ছাড়ে না। । একসময় আয়নাল হক ও হাজী শুকুর আলী কয়েকশ একর জমির মালিক থাকলেও নদী গর্ভে সকল সম্পদ হারিয়ে এখন গৃহহীন। নিজের চোখে না দেখলে এসব বিশ্বাস করবার নয়। যেহারে ভাঙ্গন এগিয়ে চলছে তাতে জরুরী কোন পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে ২টি উপজেলা পরিষদ ভবনসহ সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে রৌমারী- রাজিবপুর উপজেলা ২টি সম্পূর্ণরূপে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গনের কবল থেকে উপজেলা শহর রক্ষার জন্য কয়েক দফা কয়েকশ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করলের বাস্তবে তেমন কোন কাজে লাগছে না। চলছে দুর্নীতি আর লুটপাট। ফলে কাজের কাজ কিছুই হয়নি এছাড়া মানুষ দিন দিন নিঃস্ব ও ভূমিহীন হয়ে পড়ছে।
পালেরচর গ্রামের নুর মোহাম্মদঃ এবং ছোরমান মাঝি বলেন, আমাদের সয় সম্বল সব নদীতে ভেসে গেছে। রাস্তার ধারে কাগজের ছাপড়া দিয়ে পোলাপান নিয়া কোন মতে বাইচা আছি।
সুখেরবাতি গ্রামের মকুল, শানু, সভা দাশ, মঞ্জু, কুতুব আলী, জহেরা, তুলসী, হনুফা, জামাল শেখ, ছামছুল, তারাফুল, ছমেদ তারা জানান, দিনের পর দিন নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হলেও সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। তবে প্রতি বছরে নদী ভাঙনে আমাদেরকে আতঙ্কে থাকতে হয়।
চরশৌলমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: খলিলুর রহমান বলেন নদী ভাঙ্গনের কবলে দুই বছরে প্রয় ৩হাজার পরিবারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নদী ভাঙ্গনের কবলে বিলিন হয়েছে।
চরশৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক সহিদুল ইসরাম বলেন গত বছরের তুলনায় রৌমারী উপজেলার প্রায় ২শ” পরিবার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে উদবাস্ত হয়েছে।এইসব পরিবারের একটি বড় অংশ ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বস্তিতে বসবাস করছে। উদবাস্ত পরিবারের পূর্নবাসন ও নদী ভাঙ্গন রোধ না করলে আগামী ১০বছরে মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে রৌমারী বিলেন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এব্যাপারে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন বলেন আমি যান্তে পেরেছি চরশৌলমারী ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে ।
স্থানীয় এমপি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর একাধিকবার রাক্ষসী ব্রহ্মপুত্র নদী প্রলয়কারী ভাঙ্গনের ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছি,তাদের দুঃখ -র্দুদশা ও চোখের পানি দেখেছি। আমি এ বিষযে সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপনা করেছি।
এমএসএম / এমএসএম
ঠাকুরগাঁওয়ে নানা আয়োজনে স্কাউট দিবস পালিত
পেকুয়ায় জমি জবরদখল চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার বিষয়ে মামলা
টুঙ্গিপাড়ায় মাদক সেবনের দায়ে দুইজনের কারাদণ্ড
লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
চাঁদপুরে আগুনে পুড়েছে ৬ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
হাতিয়ায় ৩ হাজার লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড
ভারতীয় শিশু উদ্ধার,পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত পাঠালো পুলিশ
বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
মাগুরায় কওমী মাদরাসার মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
ফুটপাত দখলমুক্ত করতে শ্রীমঙ্গলে পৌরসভার অভিযান
কসবা-আখাউড়ায় বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন: শুরু হচ্ছে দুটি মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ