ঢাকা বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

উন্নয়নের নামে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন করা হচ্ছে: আলমগীর ফরিদ এমপি


মহেশখালী প্রতিনিধি photo মহেশখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৯-৪-২০২৬ দুপুর ৪:২৪

“উন্নয়নের নামে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন করা হচ্ছে, মহেশখালীর পাহাড় কাটা হচ্ছে, উপকূলের রক্ষাকবচ ‘প্যারাবন’ (ম্যানগ্রোভ বন) ধ্বংস করা হচ্ছে। এমনকি জীবন রক্ষাকারী বেড়িবাঁধ কেটে বানানো হচ্ছে লবণের গোডাউন। আমাদের অস্তিত্ব বিলীন করে দিয়ে আমরা সিঙ্গাপুর হতে চাই না, আমরা আমাদের সম্পদ নিয়ে বাঁচতে চাই।”

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াল ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে নিহতদের স্মরণে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে উপকূলীয় অঞ্চলে অপরিকল্পিত মেগা প্রকল্প, প্যারাবন উজাড় এবং টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে লাখো মানুষের চরম অরক্ষিত অবস্থার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে।

ভয়াল ২৯ এপ্রিলের স্মৃতিচারণ করে সংসদ সদস্য বলেন, “সেদিন আড়াই লাখ মানুষ শাহাদাত বরণ করেছিল। শুধু মহেশখালীতে ৩০-৩৫ হাজার এবং কুতুবদিয়ায় ২০-২৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আজ ৩৫ বছর পার হতে চললেও আমরা উপকূলকে নিরাপদ করতে পারিনি। জলোচ্ছ্বাস ঠেকানোর প্রাকৃতিক ঢাল যে ‘প্যারাবন’, প্রভাবশালী চক্রের লোলুপ দৃষ্টিতে তা আজ ধ্বংসের মুখে।”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্যারাবন রক্ষায় সরকারের ফান্ড না থাকায় আমরা নিজস্ব অর্থায়নে অভিযান চালিয়েছি, কিন্তু ভূমিদস্যুদের থামানো যাচ্ছে না। এই প্যারাবন রক্ষা করতে না পারলে হাজার কোটি টাকা খরচ করেও মহেশখালী বা কুতুবদিয়াকে বাঁচানো যাবে না।”

মহেশখালীতে চলমান ‘মিডা’র অধীনে গভীর সমুদ্র বন্দর, এলএনজি টার্মিনাল ও এসপিএমসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা করেন আলমগীর ফরিদ। তিনি বলেন, “মহেশখালী এমন একটি বিরল দ্বীপ যেখানে পাহাড় ও সমুদ্র একসাথে রয়েছে, যা বিশ্বে কেবল শ্রীলঙ্কার সাথেই তুলনীয়। কিন্তু আজ সেই পাহাড় ধ্বংস করা হচ্ছে। একজন সাধারণ মানুষ পাহাড়ের এক ঠেলাগাড়ি মাটি কাটলে তাকে জেলে পাঠানো হয়, অথচ এসপিএম প্রকল্পের নামে মহেশখালীর পাহাড় নির্বিচারে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। মেগা প্রকল্পের কারণে মাতারবাড়ির মানুষ এরই মধ্যে বাস্তুচ্যুত, সামনে ধলঘাটার মানুষেরও আর কোনো আবাসস্থল থাকবে বলে মনে হয় না।”

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, চরের শেষ সীমানায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে মানুষের জায়গাজমি অধিগ্রহণ করতে হতো না, সম্পদও রক্ষা পেত। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেই পরামর্শ শোনেনি।

প্রকৃতি ধ্বংসের পাশাপাশি স্থানীয় অসাধু ব্যবসায়ীদের আত্মঘাতী কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন এমপি। তিনি বলেন, “উপকূলবাসীর রক্ষাকবচ ওয়াপদার বেড়িবাঁধ (এমব্যাংকমেন্ট) কেটে টুকরো করে সেখানে লবণের গোডাউন ও ট্রলার তৈরির কারখানা বানানো হচ্ছে। সামান্য জোয়ার হলেই ওই কাটা অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে যায়। আমরা যদি সচেতন না হই, তবে কোনো সাইক্লোন শেল্টার বা বেড়িবাঁধ আমাদের জীবন বাঁচাতে পারবে না।”

উপকূলের সমস্যা সমাধানে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতার কথা উল্লেখ করে এমপি আলমগীর ফরিদ বলেন, “বছরের পর বছর যায়, কিন্তু টেকসই বেড়িবাঁধ হয় না। সুপার ডাইকের কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয়ে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। ৯৫০ কোটি টাকার ফাইল শুধু যাচাই-বাছাইয়ের নামে ফেরত আসে।”

তিনি এই সংকট উত্তরণে সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়ে বলেন, “অবিলম্বে কক্সবাজার কেন্দ্রিক একটি স্বতন্ত্র ‘উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করতে হবে।”

এমএসএম / এমএসএম

বাগেরহাট শহরে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে মানুষ কৃষকদের বোরো ধানের ক্ষতির আশংকা

লাকসামে পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত

টুঙ্গিপাড়ায় ভেজালমুক্ত খাদ্যের দাবিতে র‍্যালি-মানববন্ধন

নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশী অস্ত্রসহ সাত সদস্য গ্রেপ্তার

ঝড়ে লণ্ডভণ্ড কুমিল্লার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ট্রান্সফরমার-মিটার ব্যাপক ক্ষতি, ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো গ্রাহক

কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার

গোদাগাড়ীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

গোবিপ্রবিতে ৯ বিভাগে কেমিক্যাল সরবরাহ, মেডিকেল সেন্টারে নতুন সরঞ্জাম সংযোজন

ভূরুঙ্গামারীতে তিনটি ইউনিয়নে বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে

গোবিপ্রবির দুই প্রকল্প এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত

‎লালপুর গ্রামের রাস্তায় জলবদ্ধতা নিরসনে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী

উন্নয়নের নামে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন করা হচ্ছে: আলমগীর ফরিদ এমপি

বগুড়ায় বালুভর্তি ট্রাকে ৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, চালক গ্রেফতার