ঢাকা শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

রেলে সিসিএস নেই ২২ দিন: দাপ্তরিক কাজ বন্ধ, বিপদ সন্নিকটে


এসএম পিন্টু photo এসএম পিন্টু
প্রকাশিত: ২৫-৪-২০২৬ দুপুর ১:২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের (সিসিএস) পদটি শূন্য অবস্থায় আছে ২২ দিন যাবৎ। ফলে রেলের যন্ত্রাংশসহ যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটা বন্ধ হয়ে আছে। দ্রুত কার্যক্রম চালু না করলে এর প্রভাব পড়বে নিরাপদ রেল চলাচলে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে রেলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। যন্ত্রাংশ সংকটে রেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এটি সরকারের বিরুদ্ধে একধরণের ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন রেলওয়ে শ্রমিক দল।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম রেল। প্রতিদিন লাখো মানুষ তাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের জন্য রেলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সিসিএস পদটি শূন্য থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। 
সিসিএস পদটি মূলত রেলওয়ের যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের কেন্দ্রবিন্দু। একটি ট্রেন সচল রাখতে অসংখ্য যন্ত্রাংশ নিয়মিত পরিবর্তন বা মেরামতের প্রয়োজন হয়। ইঞ্জিন, বগি, সিগন্যালিং সিস্টেম থেকে শুরু করে ছোট ছোট যান্ত্রিক উপকরণ, সবকিছু সময়মতো সংগ্রহ করা না গেলে রেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে বাধ্য। অথচ দীর্ঘ ২২ দিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কেউ দায়িত্ব পালন না করায় যন্ত্রাংশ ক্রয় ও সরবরাহ সংক্রান্ত বহু কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিসিএস দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া বড় ধরনের যন্ত্রাংশ ক্রয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যায় না। ফলে চলমান অনেক ক্রয় প্রক্রিয়া আটকে আছে। এর আগে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর বরাদ্দ প্রাপ্তি ও প্রশাসনিক নানা জটিলতায় কেনাকাটা স্থবির হয়। তার প্রভাবে ২০২৫ সালে মারাত্মক যন্ত্রাংশ সংকটে পড়ে রেল। ফলে বিভিন্নসময়ে রাস্তায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে সিডিউল বিপর্যয়ের মতো বহু ঘটনা ঘটেছে। সেই ধকল এখনো ভালো করে কাটেনি, এরই মধ্যে রেলকে পথে বসানোর জন্য কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি খালী রাখা হয়েছে।  
জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ লা জানুয়ারী সিসিএর এর দায়িত্ব নেন বেলাল হোসেন সরকার। সেসময় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবে যথেষ্ঠ কেনাকাটা করতে পারেনি। পরে অর্থ বরাদ্দ দিলেও পিপিআর জটিলতায় কাটে আরো কিছুদিন। চলতি বছর বিএনপি সরকার গঠনের পর কেনাকাটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর চেষ্টা করা হলেও গত ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে পশ্চিমাঞ্চলের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিওএস) মো. আনোয়ারুল ইসলামকে সিসিএস এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে বেলাল সরকারকে ওএসডি করে রেলভবনে সংযুক্ত করা হয়। ২ এপ্রিল আগের আদেশ আংশিক বাতিল করে আনোয়ারুল ইসলামকে তাঁর পূর্বের পদে (সিওএস/পশ্চিম) ফেরত পাঠানো হলেও সিসিএস পদে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। ফলে অদ্যাবদি পদটি শূন্য আছে।    
বিশেষজ্ঞদের মতে, যন্ত্রাংশের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রভাব সরাসরি ট্রেন চলাচলের ওপর পড়বে। একটি ইঞ্জিন বা বগির ক্ষুদ্র ত্রুটিও যদি সময়মতো মেরামত করা না যায়, তবে তা বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সিসিএস পদটি দীর্ঘদিন শূন্য থাকা শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি যাত্রী নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। রেলওয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা; এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ চাকা বন্ধ হয়ে গেলে পুরো ব্যবস্থাই ধীরগতির হয়ে পড়ে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে, সিসিএস পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী হওয়ায় এটি অনেকের কাছে লোভনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়। অতীতে এ ধরনের পদে নিয়োগকে ঘিরে নানা তদবীর ও প্রতিযোগিতার ঘটনা শোনা গেছে। তবে এবার এই পদে যোগদানের জন্য প্রত্যাশিত তদবীর বা উদ্যোগ দৃশ্যমান না থাকায় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন পদটি খালি রেখেছে। ফলে প্রশাসনিক জটিলতা আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রেলওয়ের বিভিন্ন কর্মচারী ও কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই পদে দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে অনেক সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে। ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এতে কর্মপরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে এবং কাজের গতি কমে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এই স্থবিরতা রেলের সামগ্রিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক পদ শূন্য থাকা কোনো নতুন ঘটনা নয়, তবে রেলওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে একটি কৌশলগত দপ্তরের প্রধান পদ খালি থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এখানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কার্যকর নেতৃত্ব থাকা জরুরি। নীতিনির্ধারকদের উচিত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একজন যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্র্মকর্তা জানান, কেনাকাটার ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে সাময়িক বা ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বের মাধ্যমে হলেও এই পদে দ্রুত দায়িত্ব অর্পণ করা উচিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন খালি না রাখার জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এতে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং জরুরি কাজ থেমে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।
এবিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এমআর মনজু বলেন, সিসিএস একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ, এটি একদিনের জন্যও খালি রাখা উচিৎ নয়। ২২ দিন যাবৎ এই পদটি খালি রাখার মানে হলো এখানে বড় ধরণের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। বিএনপি সরকার যখন দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে বদ্ধ পরিকর সেখানে কেউ কেউ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে মরিয়া।  সামনে ঈদ, যাত্রী চাপ বাড়বে, অতিরিক্ত লোকোমোটিভ লাগবে, এই মুহুর্তে রেলকে বিতর্কিত করতে এবং সরকারকে জনগণের কাছে সমালোচিত করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে বলে মনে হয়। তা নাহলে এতোদিন এই পদ খালি থাকার কথা নয়। 
এবিষয়ে জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন ও রোলিং স্টকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি, আরএস) ফকির মো. মহিউদ্দিনের মোবাইলে একাধিকবার কল ও বার্তা দিয়েও কোন সাড়া না পাওয়ায় মন্তব্য জানা যায়নি।

এমএসএম / এমএসএম

পূর্বধলায় এমপি মাছুম মোস্তফাকে লক্ষ্য করে হামলা: আবু তাহের তালুকদারসহ ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৯

ক্ষেতলালে ফ্যামিলি কার্ড জরিপে উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

রেলে সিসিএস নেই ২২ দিন: দাপ্তরিক কাজ বন্ধ, বিপদ সন্নিকটে

জমি নিয়ে বিরোধে, ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই নিহত

সংযোগ সড়ক বন্ধে লালমনিরহাটের বিএনপি কলোনির হাজারো মানুষের ভোগান্তি

জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে লিডার্স এর শিশুদের পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার আয়োজন

নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১৫৫ বস্তা চোরাই জিরা উদ্ধার, আটক ২

নেত্রকোনার মদনে ডাকাতি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আরিফ গ্রেফতার

রায়গঞ্জে ধান কাটায় বাধা ও হয়রানির অভিযোগে ভূমিহীনদের সংবাদ সম্মেলন

টাঙ্গাইলে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজ্যের গাড়িতে আগুন

জুড়ী বড়লেখার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে- এমপি মিঠু

নবীনগরে ইউপি চেয়ারম্যান ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-মাদকের অভিযোগ

বাগেরহাটে গান গাইতে না পারায় শিক্ষকের লাঠির প্রহারে শিক্ষার্থী আহত, বিচার দাবি অভিভাবকের