ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

৮ বছর ধরে বন্ধ ভেলুমিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭-৬-২০২৬ দুপুর ১:২৬

কাগজে-কলমে সেটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট ‘মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’। সরকারি নথিতে হয়তো বরাদ্দ হচ্ছে ওষুধ, খরচ হচ্ছে প্রশাসনিক অর্থ। কিন্তু ভোলার সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা কোটি টাকার এই বিশাল হাসপাতালটির মূল ফটকে তাকালে দেখা যাবে একটি জং ধরা ভারী তালা। আর ভেতরে সুনসান নীরবতা। গত আটটি বছর ধরে এভাবেই পুরোপুরি বন্ধ ও তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে গ্রামীণ লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র রাষ্ট্রীয় ভরসা।

​এখানে কোনো ডাক্তার বসেন না, কোনো নার্স আসেন না, এমনকি বহির্বিভাগে নামমাত্র প্যারাসিটামল দেওয়ার মতো কোনো পিয়ন বা ঝাড়ুদারও নেই। পুরো হাসপাতালটি যেন এক জনমানবহীন 'ভৌতিক ইমারত'।

​কোটি টাকার অপচয়, চরের মানুষের দীর্ঘশ্বাস
​ভেলুমিয়া ও আশেপাশের চরাঞ্চলের অসহায় প্রসূতি মা ও শিশুদের নিরাপদ প্রসব এবং জরুরি চিকিৎসার লক্ষ্য নিয়ে এই দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন ও চিকিৎসকদের ডরমিটরি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই আলোর মুখ দেখেনি এই কেন্দ্রটি। গত ৮ বছর ধরে এর ভেতরের শয্যা, দামি অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি ও লজিস্টিকস ধুলোবালি আর মাকড়সার জালে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
​স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন,

​"হাসপাতাল বলতে যা বোঝায়, এখানে তার কিচ্ছু নেই। ৮ বছর ধরে আমরা শুধু এই ইটের দেওয়াল আর গেটের তালাটাই দেখে আসছি। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই বিল্ডিং বানালো কার জন্য? আমাদের মা-বোনেরা যখন প্রসব বেদনায় ছটফট করে, তখন এই তালা আমাদের উপহাস করে।"

​সদরে যাওয়ার পথেই ঝরে যায় প্রাণ
নদীবেষ্টিত এবং জেলা শহর থেকে দূরবর্তী হওয়ায় ভেলুমিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্গম। বিশেষ করে গভীর রাতে কোনো গর্ভবতী নারীর শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে স্থানীয়দের জীবন মরণ বাজি রাখতে হয়। এই তালাবদ্ধ হাসপাতালের সামনে দিয়ে রোগীকে ভ্যানে বা ট্রলারে করে যখন ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন অনেক সময়ই মাঝপথে বা হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তাররা ঘোষণা করেন—"রোগী আর নেই।"

​এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ঘরের পাশে এতো বড় আধুনিক চিকিৎসা কাঠামো তালাবদ্ধ রেখে আর কত মায়ের কোল খালি হলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে?
​সরকারি অবহেলার চূড়ান্ত দলিল
​উপকূলীয় অঞ্চলে চিকিৎসকদের পোস্টিং জট এবং দায়িত্বহীনতার এক চূড়ান্ত উদাহরণ এই ভেলুমিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। পোস্টিং থাকলেও কোনো ডাক্তার বা কর্মকর্তা এখানে আসেন না, আর প্রশাসনও গত ৮ বছরে এই স্থায়ী তালা খোলার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ফলে পুরো অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা এখন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।

​তালাবদ্ধ এই হাসপাতালের জং ধরা তালাটি কি কখনো ভাঙবে? ভেলুমিয়ার গ্রামীণ নারীরা কি কখনো তাদের দোরগোড়ায় নিরাপদ মাতৃত্বের অধিকার ফিরে পাবেন? নাকি কোটি টাকার এই সরকারি ভবনটি এভাবেই ধুঁকে ধুঁকে স্রেফ একটি কঙ্কাল হয়েই দাঁড়িয়ে থাকবে—আজ এই জবাব চাইছে ভোলার সচেতন মহল।

এমএসএম / এমএসএম

ধামইরহাটে খাদ্য বান্ধব ডিলার রওশন রেজা বাবুর সংবাদ সম্মেলন

টাঙ্গাইলে অটোভ্যান ছিনতাইয়ে কিশোর হত্যা, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২

ভোলায় তথ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প

দাউদকান্দি ও মেঘনায় চাঁদাবাজি-মাদকের সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে ড. মারুফ হোসেনের আহ্বান

কোনাবাড়ীতে দুর্গাপূজার ছুটিসহ বিভিন্ন দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

ছয় ছেলের ঘরে ঠাঁই হলো না ৮৫ বছরের মায়ের, শেষ আশ্রয় মেয়ের বাড়ি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবীনগরে জমকালো আয়োজনে ‘প্রগতি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ উদ্বোধন

টাঙ্গাইলে গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে‘বৃষ্টিতলা’র উদ্বোধন করলেন ডেপুটি স্পিকার- ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

‎সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক: সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি

কালীগঙ্গায় ট্রলার দুর্ঘটনায় মেয়ের মৃত্যু, নিখোঁজ মা: ঘটনাস্থলে প্রতিমন্ত্রী সোহেল মঞ্জুর

বিজিবি'র অভিযানে ১৬০ বোতল ভারতীয় কফ সিরাপ উদ্ধার

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে কেউ বিতর্কিত করবেন না : প্রধানমন্ত্রী