৮ বছর ধরে বন্ধ ভেলুমিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
কাগজে-কলমে সেটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট ‘মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’। সরকারি নথিতে হয়তো বরাদ্দ হচ্ছে ওষুধ, খরচ হচ্ছে প্রশাসনিক অর্থ। কিন্তু ভোলার সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা কোটি টাকার এই বিশাল হাসপাতালটির মূল ফটকে তাকালে দেখা যাবে একটি জং ধরা ভারী তালা। আর ভেতরে সুনসান নীরবতা। গত আটটি বছর ধরে এভাবেই পুরোপুরি বন্ধ ও তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে গ্রামীণ লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র রাষ্ট্রীয় ভরসা।
এখানে কোনো ডাক্তার বসেন না, কোনো নার্স আসেন না, এমনকি বহির্বিভাগে নামমাত্র প্যারাসিটামল দেওয়ার মতো কোনো পিয়ন বা ঝাড়ুদারও নেই। পুরো হাসপাতালটি যেন এক জনমানবহীন 'ভৌতিক ইমারত'।
কোটি টাকার অপচয়, চরের মানুষের দীর্ঘশ্বাস
ভেলুমিয়া ও আশেপাশের চরাঞ্চলের অসহায় প্রসূতি মা ও শিশুদের নিরাপদ প্রসব এবং জরুরি চিকিৎসার লক্ষ্য নিয়ে এই দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন ও চিকিৎসকদের ডরমিটরি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই আলোর মুখ দেখেনি এই কেন্দ্রটি। গত ৮ বছর ধরে এর ভেতরের শয্যা, দামি অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি ও লজিস্টিকস ধুলোবালি আর মাকড়সার জালে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন,
"হাসপাতাল বলতে যা বোঝায়, এখানে তার কিচ্ছু নেই। ৮ বছর ধরে আমরা শুধু এই ইটের দেওয়াল আর গেটের তালাটাই দেখে আসছি। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই বিল্ডিং বানালো কার জন্য? আমাদের মা-বোনেরা যখন প্রসব বেদনায় ছটফট করে, তখন এই তালা আমাদের উপহাস করে।"
সদরে যাওয়ার পথেই ঝরে যায় প্রাণ
নদীবেষ্টিত এবং জেলা শহর থেকে দূরবর্তী হওয়ায় ভেলুমিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্গম। বিশেষ করে গভীর রাতে কোনো গর্ভবতী নারীর শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে স্থানীয়দের জীবন মরণ বাজি রাখতে হয়। এই তালাবদ্ধ হাসপাতালের সামনে দিয়ে রোগীকে ভ্যানে বা ট্রলারে করে যখন ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন অনেক সময়ই মাঝপথে বা হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তাররা ঘোষণা করেন—"রোগী আর নেই।"
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ঘরের পাশে এতো বড় আধুনিক চিকিৎসা কাঠামো তালাবদ্ধ রেখে আর কত মায়ের কোল খালি হলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে?
সরকারি অবহেলার চূড়ান্ত দলিল
উপকূলীয় অঞ্চলে চিকিৎসকদের পোস্টিং জট এবং দায়িত্বহীনতার এক চূড়ান্ত উদাহরণ এই ভেলুমিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। পোস্টিং থাকলেও কোনো ডাক্তার বা কর্মকর্তা এখানে আসেন না, আর প্রশাসনও গত ৮ বছরে এই স্থায়ী তালা খোলার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ফলে পুরো অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা এখন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
তালাবদ্ধ এই হাসপাতালের জং ধরা তালাটি কি কখনো ভাঙবে? ভেলুমিয়ার গ্রামীণ নারীরা কি কখনো তাদের দোরগোড়ায় নিরাপদ মাতৃত্বের অধিকার ফিরে পাবেন? নাকি কোটি টাকার এই সরকারি ভবনটি এভাবেই ধুঁকে ধুঁকে স্রেফ একটি কঙ্কাল হয়েই দাঁড়িয়ে থাকবে—আজ এই জবাব চাইছে ভোলার সচেতন মহল।
এমএসএম / এমএসএম
কুড়িগ্রামে গাঁজা ও প্রাইভেটকারসহ ২ জন গ্রেফতার
শেরপুরে নারীর প্রলোভনে ডেকে নিয়ে বন্ধুকে হত্যা: ৩ বছর পর রহস্য উদঘাটন
ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেনঃ মির্জা ফয়সল আমীন
বর্ণাঢ্য আয়োজনে পটুয়াখাালীতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
রায়গঞ্জে এমপির সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিবাদ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
মানিকগঞ্জে স্কুল শিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রংপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির নির্বাচনে ড্যাব-ছাত্রদল প্যানেলের বিপুল জয়: সভাপতি শাহনেওয়াজ ও সম্পাদক রিয়াদ
ধামরাইয়ে অবৈধ টায়ার পুড়িয়ে তেল তৈরির কারখানা গুঁড়িয়ে দিল পরিবেশ অধিদপ্তর
টঙ্গীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র্যালি
পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও কর্মকর্তার স্বজনদের নাম ফ্যামিলি কার্ড গণনাকারী নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায়
শিক্ষার জন্য কাজ করাই কি জাহাঙ্গীর আলমের অপরাধ?বাদ দেওয়া নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন
গৌরনদীতে ব্র্যাকের যুব উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রকল্পের সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত