ঢাকা রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

তারেক রহমানের সমর্থন চায় মেয়র প্রার্থী শামীম আহমদ


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬-৪-২০২৬ দুপুর ৩:৩

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ১৭ আসনের সেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শামীম আহমদ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক সমর্থন চেয়েছেন।

তিনি বলেছেন- "আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে আমার আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দিয়েছিলাম, আশা করি তিনিও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী না দিয়ে আমাকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেবেন"। গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী সংসদ সদস্য প্রার্থী শামীম আহমদ বিএনপির প্রস্তাবে সারা দিয়ে ওই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার ধারণা, ভোটের আগের দিন সেই সমর্থনের খবর সারাদেশে ছড়িয়ে পরায় বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষে ভোট বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিএনপির সরকার গঠনের পথ মসৃণ হয়েছে। তিনি আশা করে বলেন, সেই সহায়তার কথা মনে রেখে আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারেক রহমান বিএনপির প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করে আমাকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন করবেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এবং বিএনপির সকল ভোটারদের সমর্থন আমার প্রাপ্য। 

গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ কংগ্রেসের চতুর্থ কাউন্সিলে দলটির প্রতিষ্ঠা ও নবনির্বাচিত সভাপতি এ্যডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন বলেছেন তার দল শামীম আহমদকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করে। শামীম আহমদ দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এবং চতুর্থ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম তথ্য প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

"নবরূপে ঢাকা" গড়তে শামীম আহমদ তার কিছু পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। ঢাকা উত্তর সিটি অঞ্চলটি নাগরিকদের বাসযোগ্য শহরে রূপায়ণ করে তিনি ঢাকা শহর নবরূপে সাজিয়ে দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন- "নবরূপে ঢাকা" বলতে মূলত ঢাকার আধুনিকায়ন, ঐতিহাসিক স্থাপনার সংস্কার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকে বোঝানো নয়। বরং সিটি করপোরেশনের আওতায় বসবাসরত সকল নাগরিকদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশে নির্বিঘ্ন জীবনযাপন নিশ্চিত করা তার অন্যতম লক্ষ। নগরীর সড়ক উন্নয়ন, পার্ক-খেলার মাঠ সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে চান তিনি। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে মায়েরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারে এমন ১০০টি পার্ক ও মাঠ সৃজন করার পরিকল্পনা তার আছে। ব্যানার পোস্টার বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়ে জনসংযোগ করে ইতোমধ্যেই তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনী ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে।  

পরিচ্ছন্ন সড়ক: পথচারীদের চলাচলে পরিচ্ছন্ন ও নির্মল ফুটপাত নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফুল ও ফলের গাছগাছালী বেষ্টিত সড়ক বিনির্মাণ। ফুটপাত দখলদার চাঁদাবাজদের স্থায়ীভাবে নির্মুল করতে প্রয়োজনে জনশক্তি প্রয়োগ করা হবে।

পাখির কূজন: শহরে পাখিদের কলরব ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অথচ পাখিদের এই কলরব প্রকৃতির ভারসাম্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক। ভোর ও সন্ধ্যায় পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ প্রাকৃতিক সংগীত। যা প্রকৃতিকে মুখরিত ও শান্ত করে তোলে। ঋতুভেদে কোকিলের কুহুতান বা ভোরের দোয়েল-শ্যামার ডাক মানুষের মন ভালো করে দেয় এবং প্রকৃতির জীবন্ত রূপ তুলে ধরে। শিশুরা পার্ক বা উদ্যানে গিয়ে পাখি দেখবে বা পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পাবে সেই পদক্ষেপ নেয়া হবে।

খাল পুনরুদ্ধার : উত্তর সিটির আওতায় সকল খাল পুনরুদ্ধার করে জলস্রোত দৃশ্যমান করা হবে। মাঝিমাল্লাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য জলপথ বা নৌপথ চালু করা হবে। খাল পুনরুদ্ধার করতে যেকোন প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে জনগণকে সাথে নিয়ে এই কাজটি শুরু করা হবে নির্বাচিত হওয়ার পরের দিন থেকেই। খাল- জলাশয় দখলমুক্ত করে ঢাকার জীববৈচিত্রে নবরূপ ফিরিয়ে আনা হবে।

অবকাঠামো সুবিধা: যানজটমুক্ত সড়ক ব্যবস্থা, সড়কের দু'পাশে পাশে হাঁটার পথ (walkable paths) এবং সুলভ গণপরিবহন ব্যবস্থা। ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল এবং সড়কে জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থা নিরাপদ করা।

সৌন্দর্যবর্ধন: খেলার মাঠ, উদ্যান, এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বৃদ্ধি করা হবে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন, দেয়ালচিত্র, এবং পার্ক বা খেলার মাঠের আধুনিকায়ন। উত্তর সিটি করপোরেশন অঞ্চলে মোট ১০০টি খেলার মাঠ সৃজন করা হবে।

পরিবেশ ও উন্নয়ন: সরকারি সকল অব্যবহৃত ফাঁকা জায়গা উদ্যানে রূপান্তরিত করে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এসকল উদ্যান নারী ও শিশুদের ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এছাড়াও নগরীর যানজট ও দূষণ কমাতে নানামুখী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।

সুপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংক্রান্ত কোন বিল নেয়া হবে না। সড়কের প্রতিদিনের বর্জ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা এবং তা সঠিকভাবে অপসারণ বা পুনর্ব্যবহার (Recycle) করা। যত্রতত্র ময়লা ফেলার পরিবর্তে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ও ময়লা ফেলার জায়গা (Landfill) রাখা।

পরিচ্ছন্ন পাবলিক স্পেস: সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর হয়ে, রাস্তা, ফুটপাত, পার্ক এবং বাজার এলাকা সবসময় আবর্জনামুক্ত রাখা। ড্রেনেজ বা নর্দমাগুলো পরিষ্কার রাখা, শহরে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ করা।

দূষণমুক্ত বাতাস ও পরিবেশ: শিল্পকারখানার ধোঁয়া ও গাড়ির ধোঁয়া নিয়ন্ত্রিত রাখা, বায়ুদূষণ রোধে পর্যাপ্ত সবুজায়ন বা গাছপালা লাগানো। যত্রতত্র কলকারখানা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলা করতে স্থানীয় জনশক্তি প্রয়োগ করা হবে।

সচেতন নাগরিক সমাজ: শহরের বাসিন্দাদের ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার বিষয়ে সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সচেষ্ট হতে উদ্বুদ্ধকরণ। এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সচেতন করতে শিক্ষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।

স্বাস্থ্যকর পরিবেশ: মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ফগিং (ধোঁয়া) ও লার্ভিসাইডিং (ওষুধ ছিটানো) কার্যক্রম। এলাকাভিত্তিক মশার হটস্পট চিহ্নিত করে ড্রেন ও জলাশয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে জীবাণুমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবনযাপন এবং মশারী বিহীন রাত্রিযাপন নিশ্চিত করা।

বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ: শহরের বাসিন্দাদের জন্য শতভাগ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। পানির জন্য বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়ার নিকট থেকে আলাদা বিল নিতে পারবে না।

প্লাস্টিক ও বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ: প্লাস্টিক ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্যের ব্যবহার কমিয়ে আনা বা সেগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা। প্লাস্টিক ও বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার করাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের ব্যবহার করে দ্রুত ও দক্ষতার সাথে শহর পরিষ্কার রাখা।

মৌলিক চাহিদা পূরণ: শিক্ষা চিকিৎসা সহজলভ্যতার পাশাপাশি সাশ্রয়ী ও মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এব্যাপারে বিল্ডিং নির্মাণ কোম্পানিগুলো জবাবদিহিতার আওতায় রেখে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। রিয়েল এস্টেট হাউজিং এসোসিয়েশন "রিহ্যাব" অকার্যকর করা হবে। আবাসন সুবিধা নিতে গিয়ে সাধারণ গ্রাহক প্রতারণা বা হয়রানির স্বীকার হবে না।

অর্থনৈতিক সুযোগ: ব্যবসা ও চাকরির সুযোগ সহজলভ্যতার পাশাপাশি শহরের বাসিন্দাদের স্বনির্ভর হতে সাহায্য করে এমন সিটি গড়তে শামীম আহমদ ঢাকার মেয়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।

এমএসএম / এমএসএম

চাঁদাবাজি ও হত্যা চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

তারেক রহমানের সমর্থন চায় মেয়র প্রার্থী শামীম আহমদ

উত্তরায় স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রাইভেট হাসপাতাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ঢাকা রেঞ্জের আন্তঃব্যাটালিয়ন ফুটবল, ভলিবল ও কাবাডি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

সোসাইটি অব অটোল্যারিংগোলজি অ্যান্ড হেড-নেক সার্জারির নতুন কমিটি নির্বাচিত

কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ডের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সোসাইটি অব অটোল্যারিংগোলজি অ্যান্ড হেড-নেক সার্জারির নতুন কমিটি নির্বাচিত

অলি উল্লাহ ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরসের উদ্যোগে হজ্জ প্রশিক্ষণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দেশ সেবায় উদ্ভুদ্ধ করতে হবে

বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাউন্সিলে রেজাউল সভাপতি ও ইয়ারুল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

রাজধানীর উত্তরায় বারে অভিযান, আটক ১৪০

শাহবাগে সাংবাদিকদের পিটুনি: দুঃখপ্রকাশ করলো ছাত্রদল

বৃহত্তর উত্তরা সর্বোচ্চ উলামা আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত