চট্টগ্রামে এলজিইডি’র কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ
চট্টগ্রামে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাপক কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী পর্যন্ত প্রত্যেককেই নির্ধারিত কমিশন দিতে হয় বলে একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন। আর এই কমিশন বিলের আগেই নগদে পরিশোধ করতে হয়। হিসাব রক্ষক মোরশেদ আলমকে অগ্রিম ৩ শতাংশ কমিশন না দিলে বিলের দেখা পাওয়া যায় না বলেও জানান। ফলে কাজের মান ঠিক রাখতে পারছেন না ঠিকাদার। এজন্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হয়। কমিশন বাণিজ্য বন্ধ হলে কাজের গুনগত মান বজায় থাকবে এবং উন্নয়ন টেকসই হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই সরকারের বৃহত্তর স্বার্থে কমিশন বাণিজ্যে বন্ধের দাবিও জানান তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমন তথ্য জানিয়েছেন একাধিক ঠিকাদার, তবে কমিশন আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন হিসাব রক্ষক মোরশেদ আলম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলজিইডির মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করে সরকার। এই কাজে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা তদারকি করে থাকেন। কিন্তু টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কাজ শেষ করে বিল আদায় পর্যন্ত সরকারি রাজস্ব (ভ্যাট, ট্যাক্স) ব্যতীত ১০ থেকে ১২ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলীর টেবিল পর্যন্ত কমিশনের ভাগ পৌছে যায়। কমিশনের বাইরে আবার সাইট ভিজিটের নামে ২ থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত খরচ দিতে হয়। এই কমিশনের টাকা দিতে গিয়ে কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করতে বাধ্য হন ঠিকাদার। ফলে কিছুদিন যেতে না যেতেই তা নষ্ট হয়ে যায়। সরকারের টাকা খরচ করে আবার মেরামত করতে হয়। এরফলে কতিপয় লোভী কর্মকর্তা সাময়িক লাভবান হলেও সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলজিইডির কমিশন বাণিজ্য একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হয়ে গেছে। আগে যেমন ছিল, এখনো তেমনই আছে শুধু, ব্যক্তি বদল হয়েছে। স্বভাবটা ঠিক আগের মতই। আগে যেসব চেয়ারে ঘুষ নিত এখনো সেইমভাবেই নেওয়া হয়। কাজের বিল প্রসিড করার সময় হিসাব রক্ষক মো. মোরশেদ আলমকে ৩ শতাংশ কমিশন দিতে বাধ্য করে। অর্থাৎ ১ কোটি টাকার বিলের জন্য ৩ লাখ টাকা ঘুষ আর ৪০০ কোটির জন্য নেয় ১২ কোটি টাকা। এই টাকা অগ্রিম দিতে হয়, না দিলে বিল পাওয়া যায় না।
তবে ঘুষ বা কমিশন আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চট্টগ্রামের হিসাব রক্ষক মো. মোরশেদ আলম বলেন, আমার এখানে কোন কমিশন নেওয়া হয় না। আমি কোন ঘুষ নেই না এমনকি আমি কারো ফাইল আটকে রাখি না। আমার টেবিলে কোন ফাইল পেন্ডিং নাই।
অপর একটি সূত্র জানায়, মোরশেদের মাধ্যমে কমিশন আদায় হলেও তা বিভিন্ন জনের মাঝে ভাগ হয়, তবে কে কত শতাংশ ভাগ পান তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।
অপর একটি সূত্র জানায়, আগে আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কমিশন বাণিজ্যে অস্থির ছিল ঠিকাদার। অনেকেই ভেবেছিলেন বিএনপি সরকারে আসলে কমিশন বাণিজ্য বন্ধ হবে, আর কমিশন বাণিজ্য বন্ধ হলে সরকারের প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার হবে এবং ঠিকাদারাও কাজের মান বজায় রাখতে পারবে। কিন্তু এই সরকারের আমলেও যখন সমানতালে চলে কমিশন আদায় তখন অনেকেই আশাহত হয়েছেন। তবে এখনো তারা মনে করছেন সরকারের উপরমহলের হস্তক্ষেপে এই কমিশন বাণিজ্য বন্ধ করে কাজের মান বজায় রাখতে সঠিক ভূমিকা রাখবে।
এবিষয়ে জানতে গত রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ১২ টায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবিএম নাজমুল করিমের অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। আজ (সোমবার) তাঁর সরকারি মোবাইল নাম্বারে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। একই সময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল চালু থাকলেও কল রিসিভ করেননি এবং মেসেজের জবাবও পাওয়া যায়নি।
এমএসএম / এমএসএম
৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে হাত-পা বেধে ধর্ষণের অভিযোগ : থানায় মামলা
নেত্রকোণায় পুলিশের অভিযানে ১ হাজার ইয়াবাসহ ৩ মহিলা মাদক কারবারি আটক
টঙ্গীতে অপহরণ করে ছাদে নিয়ে নির্যাতন, ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি ৯৯৯ এ ফোনে রক্ষা : থানায় অভিযোগ
গাজীপুরে মো. নুরুল ইসলাম নুরুর উদ্যোগে হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা চালু, চলমান রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম
কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় মিষ্টি আলুর চাষে হাটহাজারীতে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে
সলঙ্গায় ট্রান্সফরমা চোর চক্রের মূল হোতা গ্রেফতার
সরকারি খাল দখল, তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে ওসিকে বিচারকের আদেশ
জয়পুরহাটে কিউট জেলা নারী হ্যান্ডবল লিগ এর উদ্বোধন
কৃষ্ণচূড়া ফুলে রাঙা ক্ষেতলাল, গ্রীষ্মে লাল আভায় মোড়া জনপদ
রায়গঞ্জে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্বস্তি, ভূমিহীনদের ধান ঘরে তোলা সম্পন্ন
আত্রাইয়ে ঝড়ে গাছ পড়ে অন্তঃসত্ত্বা বেদে পল্লীর গৃহবধূর মৃত্যুে: পরিদর্শনে এসপি তারিকুল ইসলাম
নেই বুকশেলফ ও বই: উদ্বোধনের পাঁচ মাসেও চালু হয়নি নালিতাবাড়ী পাবলিক লাইব্রেরী