ঢাকা সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

ইবিতে পোষ্য কোটার দাপটে মেধাবীরা উপেক্ষিত


ইবি প্রতিনিধি photo ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯-৫-২০২৬ দুপুর ১২:৩৪

মেধাতালিকায় ঝুলে থাকা হাজারো শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েও আসন সংকটে কাঙ্ক্ষিত বিষয় (বিভাগ) পাচ্ছেন না, সেখানে গুচ্ছভুক্ত পরীক্ষায় ৫৪,৬৩৪ সিরিয়ালে থেকেও পোষ্য কোটার অধীনে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। কোটার দাপটে শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা বিভাগগুলো দখলে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ— শারীরিকভাবে অক্ষম কিংবা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত কোটা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ব্যক্তিকে পোষ্য কোটা নামে যে সুবিধা দেওয়া হয়, তা পুরোপুরি বৈষম্য। এদিকে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দও এধরণের কোটা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত বছর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় বিভিন্ন ইউনিটে মেধা তালিকায় ন্যূনতম পাস নম্বর পেয়েও শিক্ষার্থীরা কোটার দাপটে বাগিয়ে নেয় পছন্দের বিভাগ। ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ‘অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগে মেধা তালিকা থেকে সর্বশেষ ১,৩৪০তম শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, একই বিভাগে পোষ্য কোটায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ৫৪,৬৩৪ সিরিয়ালে থাকা এক শিক্ষার্থী। ১০০ নম্বরের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় যার প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৩১ (পাস মার্ক ৩০ এর মধ্যে)।

একই চিত্র শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা অন্যান্য বিভাগ গুলোতেও। আইন বিভাগে 'বি' ইউনিট থেকে সর্বশেষ ১০২ মেধাক্রম পর্যন্ত ভর্তির সুযোগ পেলেও পোষ্য কোটায় মাত্র ৩১.২৫ নম্বর নিয়ে ২৯,৬৪২ সিরিয়াল থেকেও শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন কোটায় ১৫ জন মতো শিক্ষার্থী আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছে। একই চিত্র ফার্মেসি বিভাগও।

শুধুমাত্র আইন বা বিজ্ঞান অনুষদই নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদভুক্ত অন্যান্য বিভাগগুলোতেও কোটার দাপট দেখা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিযোগিতাপূর্ণ ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পোষ্য কোটায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ৪৯,৫২২ সিরিয়ালে থাকা শিক্ষার্থী। একইভাবে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৪৮,০৯৬ মেধাক্রম থেকে এক শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ ধরনের কোটা বহাল রয়েছে। যার মধ্যে— গত বছর পোষ্য কোটায় ৩০ জন, শারীরিক প্রতিবন্ধী কোটায় ১৮ জন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটায় ১৬ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৯ জন, পার্বত্য জেলা কোটায় ২ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তবে খেলোয়াড় কোটা শূন্য। এখানেও পোষ্য কোটায় সর্বোচ্চ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।

সংশ্লিষ্ট একাডেমিক শাখা বলছে, মুক্তিযুদ্ধ কোটায় দূরসম্পর্ক আত্মীয় বাদ পড়ায় সহজে পাওয়া যায় না। অন্যান্য কোটায় শিক্ষার্থী পাওয়া প্রায় দুর্লভ। ৩০ মার্ক পেয়ে পাস করেই তারা ভর্তি হয়। অর্থাৎ এটা বৈধতা আমরা দিচ্ছি বিষয়টা এমন না, বরং কেন্দ্রীয়ভাবে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ৩০ এর কম মার্কস পেয়ে ভর্তি হলে সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে।

একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, “ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও পাহাড়ি মিলে ২০ জন, প্রতিবন্ধী ২০ জন, খেলোয়াড় ১০ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা মূল আসনের ৫ শতাংশ এবং পোষ্য কোটা অনির্দিষ্ট সংখ্যক বহাল রয়েছে। এরা ৩০ মার্কস পেয়ে পাস হলেই ভর্তির সুযোগ পায়।”  

এবিষয়ে জানতে চাইলে রুটিন দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম কাদের বলেন, “যেহেতু ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়ে হয়ে গেছে, কোটা বহাল থাকার কথা। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়েছে কি-না বিস্তারিত জানি না।”

এমএসএম / এমএসএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগ

বাউরেস কৃষি সাংবাদিকতা পুরস্কার-২০২৬ পেলেন মো. আমান উল্লাহ

বাকৃবিতে তিন দিনব্যাপী গবেষণা অগ্রগতি কর্মশালা শুরু

তত্ত্ব থেকে বাস্তবে: গবির ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের শিল্প পরিদর্শন

শেকৃবি ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা যেকোনো সময়, আলোচনায় তরুণ নেতৃত্ব

ইবিতে পোষ্য কোটার দাপটে মেধাবীরা উপেক্ষিত

সবজি ফসলে বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহারে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিল শেকৃবি

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ শিক্ষার্থীকে জরিমানা, আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফটোজার্নালিজম বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাকৃবির তিন দিনব্যাপী গবেষণা অগ্রগতি কর্মশালা শুরু শনিবার

ঢাকা ভেটেরিনারি স্টুডেন্ট’স অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি ঘোষণা

পবিপ্রবিতে ছাত্রদল কর্তৃক প্রকল্প পরিচালক অবরুদ্ধ; চাঁদাবাজি ও নির্মাণকাজে অনিয়ম নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

‎গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নেতা অন্তরকে মারধরের অভিযোগ