এসআরএম প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে শেকৃবিতে মতবিনিময় সভা
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে কেন্দ্র করে “পাবলিক পারসেপশনস অব এসআরএম ইন আ ক্লাইমেট-ভালনারেবল সাউথ এশিয়ান কান্ট্রি” শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন ও মতবিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি)।
সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এএসভিএম সেমিনার রুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাদিক রহমান। সহ-গবেষক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘দ্য ডিগ্রিজ ইনিশিয়েটিভ’-এর অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।
কর্মশালায় গবেষকরা জানান, সোলার রেডিয়েশন মডিফিকেশন (এসআরএম) প্রযুক্তি মূলত বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে জলবায়ু ব্যবস্থায় কৃত্রিম হস্তক্ষেপের একটি পদ্ধতি। এর মধ্যে স্ট্র্যাটোস্ফেরিক অ্যারোসল ইনজেকশন (এসএআই) এবং মেরিন ক্লাউড ব্রাইটেনিং (এমসিবি) উল্লেখযোগ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রযুক্তিটি নিয়ে বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোতে যেমন আগ্রহ রয়েছে, তেমনি রয়েছে নানা উদ্বেগও।
গবেষণার ফলাফলে উঠে আসে, এসআরএম প্রযুক্তি মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরণ পরিবর্তন, খরা বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং ভূরাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, এটি বৈশ্বিক উষ্ণতা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা, ঝুঁকি, নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে মতামত দেন। তারা বলেন, এসআরএম প্রযুক্তি নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা ও জনমত যাচাই প্রয়োজন। প্রযুক্তিটির সম্ভাবনার চেয়ে ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব বর্তমানে বেশি আলোচনায় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
অংশগ্রহণকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, উন্নয়নশীল ও তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর দরকষাকষির সক্ষমতা কম হওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তি তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে তারা ন্যাচার-বেজড সলিউশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, “ক্লাইমেট চেঞ্জে বাংলাদেশের দায় কম হলেও ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। প্রতিবছর প্রায় ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।”
সাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ এম আমিনুজ্জামান বলেন, “প্রতিনিয়ত তাপমাত্রা বাড়ছে। ২০৭৫ সালের মধ্যে তাপমাত্রা আরও ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। ফলে উদ্ভিদের বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণও কঠিন হয়ে পড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, “এসআরএম প্রযুক্তি নিয়ে বর্তমানে নানা বিতর্ক রয়েছে। ছোট দেশ হিসেবে আমাদের নিয়ন্ত্রণ সীমিত হলেও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে এগোতে হবে।”
গবেষণা উপস্থাপনায় বলা হয়, বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে এসআরএম প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে বৈশ্বিক দক্ষিণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, ঝুঁকি ও শাসন কাঠামো নিয়ে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত দেন গবেষকরা।
কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, গবেষক এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএসএম / এমএসএম
পবিপ্রবিতে ভেট সায়েন্স অ্যান্ড এএইচ স্টুডেন্টস' অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি
হামহাম জলপ্রপাতে আহত ডিআইইউ শিক্ষার্থী, ৯৯৯-এ ফোনের পর উদ্ধার ১০ পর্যটক
সরকারি কলেজের ১৪৫ প্রদর্শককে পদোন্নতি
টিএ চালুর ঘোষণা, স্বতন্ত্র কোডের আশ্বাস—সমাধানের পথে শেকৃবির এএসভিএম সংকট
শহীদের স্মরণে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন
পবিপ্রবিতে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল, উৎসবমুখর ক্যাম্পাস
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আইনুল ইসলামের পদত্যাগ, নতুন দায়িত্বে শাওলী মাহবুব
দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ঘাটতির দায় নীতিনির্ধারকদের
বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্বে আনোয়ার-ফিরোজ
পবিপ্রবিতে হেলথ সায়েন্স অনুষদ অনুমোদন, চালু হচ্ছে ফিজিওথেরাপি, নার্সিং ও স্পোর্টস বিভাগ
কুবিতে ‘স্টুডেন্টস সাপোর্ট সার্ভিস ইউনিট’ চালু করা হবে: উপাচার্য
সাইবার বুলিংয়ে অতিষ্ঠ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা