গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ 'হুক্কা' আজ শুধুই স্মৃতি
আবহমান বাংলার গ্রাম-গঞ্জের মানুষের কাছে একসময়ে ধুমপানের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল হুক্কা। তখন বিত্তবানদের বাড়ির নলের হুক্কা থেকে শুরু করে দরিদ্রের নারিকেলের খোল দিয়ে তৈরি ডাবা পর্যন্ত সর্বত্র বিরাজমান ছিল হুক্কা। কিন্তু কালে আবর্তে বদলায় সমাজ, সংস্কৃতি, হারায় ঐতিহ্য। তেমনি গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ হুক্কা আজ কেবলই স্মৃতি।
জনপ্রিয় লোক গান "আমার মান কুল মান সব হারাইলাম, এই হুক্কার সঙ্গ ধরে রে, ও সাধের হুক্কারে।" কিংবা রম্য ছড়া "হায়রে সে-ই হুক্কা, উপরে তার তামাক-কলকি, নিচের দিকে চুক্কা, হায়রে সে-ই হুক্কা/নানা বলে নানি বলে, হুক্কা ছাড়া জীবন চলে?" হুক্কা নিয়ে রচিত এসব গান, ছড়া এখনও বাংলার সংস্কৃতিতে প্রচলিত থাকলেও হারিয়ে গেছে মূল বস্তুটি। এখন শহর দূরের কথা, গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও পাওয়া যায় না হুক্কার দেখা।
ইতিহাস সূত্রে জানা গেছে, ১৬'শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে ভারতে হুক্কা উদ্ভাবিত হয়। সম্রাট আকবরের চিকিৎসক হাকিম আবুল ফাতেহ গিলানি সর্বপ্রথম হুক্কা তৈরি করেছিলেন। তিনি ধোঁয়াকে পানির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত করে ঠান্ডা ও পরিশোধিত করার পদ্ধতি বের করেন, যা পরে হুক্কা নামে পরিচিতি পায়। ভারত থেকে এই সংস্কৃতি পারস্য, অটোমান সাম্রাজ্য (বর্তমান তুরস্ক) এবং পরবর্তীকালে উত্তর আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়ে। 'হুক্কা'।শব্দটি সম্ভবত আরবি শব্দ "হুহকা" (huqqa) থেকে এসেছে, যার অর্থ পাইপ। আর এক তথ্যে জানা যায়, পুর্তগীজরা ব্যবসার উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে আসার সময় তাদের প্রিয় শখের নেশার পাত্র হুক্কা সাথে নিয়ে আসতেন। হুক্কা পানের টিকিয়া বা টিক্কা বানানো হ'ত গুরা কয়লা দিয়ে আর তামাকপাতা মিহি গুরার সাথে চিতা গুর মিশিয়ে লাড্ডু বানিয়ে কল্কিতে রেখে আগুন জ্বালিয়ে হুকা পান করা হ'তো। বৃটিশ আমলে পিতল তামা দস্তার হুকার প্রচলন শুরু হয়। বড় নল ওয়ালা পিতলের হুকা কে ‘ফুরশি হুক্কা’ বলা হত। রাজা, জমিদার ও ধর্নাঢ্য ব্যক্তিগন কারুকার্য খচিত রৌপ্য জার্মান সিলভার দস্তা তামা পিতলের হুক্কা ব্যাবহার করতেন। কালক্রমে এদেশীয় সাধারন মানুষজন নারিকেলি ও মাটির হুক্কা ব্যাবহার করেছে।
সরেজমিনে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও বয়োজ্যেষ্ঠেদর সাথে কথা বললে তারা সকালের সময়কে বলেন, একসময়ের গ্রামগঞ্জের প্রতিটি ঘরেই হুক্কা ছিল সাধারণ বিষয়। তখনকার সময়ে গ্রামের কৃষকরা কাজের ফাঁকে যখন মাঠে ক্লান্ত হয়ে বসতো, তখন হুক্কার কলকিতে টিক্কার আগুন ধরিয়ে ধুমপান করতো। টিক্কাতে আগুন ধরানোর জন্য কৃষকরা খড় দিয়ে বিনুনি বানাতো। কিন্তু কালের বিবর্তন এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় সহজলভ্য বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যের কারণে এখন চোখে পড়ে না হুক্কা টানার মজার দৃশ্য আর হুক্কা টানার গুরগুর শব্দ।
কথা হয় বারহট্টা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামস উদ্দিন বাবুলের সাথে তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, আজ থেকে চার দশক আগেও গ্রামগঞ্জে ধূমপায়ীরা হুক্কার মাধ্যমে নেশায় অভ্যস্ত ছিল। অনেকে শখের বশেও হুক্কায় আয়েশি টান দিতো। এছাড়া নাটক, সিনেমায় অভিনয়ে ধনীদের আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পিতলের তৈরি 'হুক্কা' ও গরিবদের জন্য নারিকেলের খোল দ্বারা তৈরি ‘ডাবা’ ব্যবহার করা হতো। যা মানুষের জীবনের উঁচু-নিচু পার্থক্য নির্ণয় করতো। সে সময়ে বিড়ি বা সিগারেটের ব্যবহার গ্রামের মানুষের মধ্যে খুব একটা ছিল না। কিন্তু বর্তমান আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঘরের বারান্দা বা দেউড়ি নয় হুক্কার স্থান এখন মিউজিয়ামে।
তিনি আরও বলেন, হুক্কায় ক্ষতি নেই এমন বলা যাবে না, তবে আধুনিকতার নামে যে সব মরণ নেশা যুব সমাজকে গ্রাস করছে, তার তুলনায় হুক্কা অনেক ভাল ছিল।
এমএসএম / এমএসএম
কাউনিয়ায় সিসিটিভির নজরদারিতে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথমদিন
চাঁদপুরে সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, অপসারণে ঠিকাদার
ভোলার লালমোহনে কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, অস্ত্রসহ থানায় হাজির খুনি
লোহাগড়ায় দুই প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি চাল বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক, উঠছে বৈধতার প্রশ্ন
কুতুবদিয়ার দক্ষিণ ধুরুংয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
নাচোলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীর উদ্বোধন
আদমদীঘিতে বিশেষ বরাদ্দের এমপির বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ
শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সব সময় দেশের প্রান্তিক মানুষের কথাই চিন্তা করতেন- প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
নাচোলে ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক গোষ্ঠির শিক্ষার্থীর মাঝে বাইসাইকেল ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি বিতরণ
লুৎফুজ্জামান বাবরের আমন্ত্রণে মোহনগঞ্জে আসছেন দুই প্রতিমন্ত্রী
কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো ‘ক্রিস্টাল মেথ আইস’ উদ্ধার, গ্রেফতার ১
ঘোড়াঘাটে পানিতে ডুবে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের মৃত্য