ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ 'হুক্কা' আজ শুধুই স্মৃতি


বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি photo বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২-৫-২০২৬ দুপুর ২:১২

আবহমান বাংলার গ্রাম-গঞ্জের মানুষের কাছে একসময়ে ধুমপানের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল হুক্কা। তখন বিত্তবানদের বাড়ির নলের হুক্কা থেকে শুরু করে দরিদ্রের নারিকেলের খোল দিয়ে তৈরি ডাবা পর্যন্ত সর্বত্র বিরাজমান ছিল হুক্কা। কিন্তু কালে আবর্তে বদলায় সমাজ, সংস্কৃতি, হারায় ঐতিহ্য। তেমনি গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ হুক্কা আজ কেবলই স্মৃতি।

জনপ্রিয় লোক গান "আমার মান কুল মান সব হারাইলাম, এই হুক্কার সঙ্গ ধরে রে, ও সাধের হুক্কারে।" কিংবা রম্য ছড়া "হায়রে সে-ই হুক্কা, উপরে তার তামাক-কলকি, নিচের দিকে চুক্কা, হায়রে সে-ই হুক্কা/নানা বলে নানি বলে, হুক্কা ছাড়া জীবন চলে?" হুক্কা নিয়ে রচিত এসব গান, ছড়া এখনও বাংলার সংস্কৃতিতে প্রচলিত থাকলেও হারিয়ে গেছে মূল বস্তুটি। এখন শহর দূরের কথা, গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও পাওয়া যায় না হুক্কার দেখা।

ইতিহাস সূত্রে জানা গেছে, ১৬'শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে ভারতে হুক্কা উদ্ভাবিত হয়। সম্রাট আকবরের চিকিৎসক হাকিম আবুল ফাতেহ গিলানি সর্বপ্রথম হুক্কা তৈরি করেছিলেন। তিনি ধোঁয়াকে পানির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত করে ঠান্ডা ও পরিশোধিত করার পদ্ধতি বের করেন, যা পরে হুক্কা নামে পরিচিতি পায়। ভারত থেকে এই সংস্কৃতি পারস্য, অটোমান সাম্রাজ্য (বর্তমান তুরস্ক) এবং পরবর্তীকালে উত্তর আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়ে। 'হুক্কা'।শব্দটি সম্ভবত আরবি শব্দ "হুহকা" (huqqa) থেকে এসেছে, যার অর্থ পাইপ। আর এক তথ্যে জানা যায়, পুর্তগীজরা ব্যবসার উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে আসার সময় তাদের প্রিয় শখের নেশার পাত্র হুক্কা সাথে নিয়ে আসতেন। হুক্কা পানের টিকিয়া বা টিক্কা বানানো হ'ত গুরা কয়লা দিয়ে আর তামাকপাতা মিহি গুরার সাথে চিতা গুর মিশিয়ে লাড্ডু বানিয়ে কল্কিতে রেখে আগুন জ্বালিয়ে হুকা পান করা হ'তো। বৃটিশ আমলে পিতল তামা দস্তার হুকার প্রচলন শুরু হয়। বড় নল ওয়ালা পিতলের হুকা কে ‘ফুরশি হুক্কা’ বলা হত। রাজা, জমিদার ও ধর্নাঢ্য ব্যক্তিগন কারুকার্য খচিত রৌপ্য জার্মান সিলভার দস্তা তামা পিতলের হুক্কা ব্যাবহার করতেন। কালক্রমে এদেশীয় সাধারন মানুষজন নারিকেলি ও মাটির হুক্কা ব্যাবহার করেছে।

সরেজমিনে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও বয়োজ্যেষ্ঠেদর সাথে কথা বললে তারা সকালের সময়কে বলেন, একসময়ের গ্রামগঞ্জের প্রতিটি ঘরেই হুক্কা ছিল সাধারণ বিষয়। তখনকার সময়ে গ্রামের কৃষকরা কাজের ফাঁকে যখন মাঠে ক্লান্ত হয়ে বসতো, তখন হুক্কার কলকিতে টিক্কার আগুন ধরিয়ে ধুমপান করতো। টিক্কাতে আগুন ধরানোর জন্য কৃষকরা খড় দিয়ে বিনুনি  বানাতো। কিন্তু কালের বিবর্তন এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় সহজলভ্য বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যের কারণে এখন চোখে পড়ে না হুক্কা টানার মজার দৃশ্য আর হুক্কা টানার গুরগুর শব্দ।

কথা হয় বারহট্টা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামস উদ্দিন বাবুলের সাথে তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, আজ থেকে চার দশক আগেও গ্রামগঞ্জে ধূমপায়ীরা হুক্কার মাধ্যমে নেশায় অভ্যস্ত ছিল। অনেকে শখের বশেও হুক্কায় আয়েশি টান দিতো। এছাড়া নাটক, সিনেমায় অভিনয়ে ধনীদের আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পিতলের তৈরি 'হুক্কা' ও গরিবদের জন্য নারিকেলের খোল দ্বারা তৈরি ‘ডাবা’ ব্যবহার করা হতো। যা মানুষের জীবনের উঁচু-নিচু পার্থক্য নির্ণয় করতো। সে সময়ে বিড়ি বা সিগারেটের ব্যবহার গ্রামের মানুষের মধ্যে খুব একটা ছিল না। কিন্তু বর্তমান আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঘরের বারান্দা বা দেউড়ি নয় হুক্কার স্থান এখন মিউজিয়ামে।

তিনি আরও বলেন, হুক্কায় ক্ষতি নেই এমন বলা যাবে না, তবে আধুনিকতার নামে যে সব মরণ নেশা যুব সমাজকে গ্রাস করছে, তার তুলনায় হুক্কা অনেক ভাল ছিল।

এমএসএম / এমএসএম

যশোরে দুই দিনের অভিযানে ৪শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ উদ্ধার ৫০ কোটি টাকার জমি

শাহরাস্তি থানার ওসিকে আদালতে তলব

সমাজ উন্নয়নে সেবার আলো ছড়াচ্ছে ধরমপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থা

প্রশাসনিক শূন্যতায় ঝুঁকিতে শিক্ষা কার্যক্রম, ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

রাজারহাটে লাম্পি স্কিন ডিসিজে আক্রান্ত শতাধিক গরু

নেত্রকোণায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের,সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

আলফাডাঙ্গায় ক্যাব'র নতুন কমিটির পরিচিতি সভা

​কেশবপুরে সাংবাদিককে গালিগালাজ ও মিথ্যা মামলার হুমকী থানায় অভিযোগ

বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসীঃ পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

শিক্ষকতার আড়ালে হাসিবুলের ভয়াবহ আপত্তিকর কর্মকান্ড

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ 'হুক্কা' আজ শুধুই স্মৃতি

সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে (SPG) সেবায় যুক্ত হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চুক্তিপত্র স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত

রাণীশংকৈলে কৃষি বিষয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত