ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

শিক্ষকতার আড়ালে হাসিবুলের ভয়াবহ আপত্তিকর কর্মকান্ড


চাঁদ আলী, কুষ্টিয়া photo চাঁদ আলী, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ১২-৫-২০২৬ দুপুর ২:১৩
কথাই বলে, কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ উঠে আসলো!, এমনই এক ভয়াবহ চরিত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। শিক্ষকতার আড়ালে হাসিবুলের ভয়ংকর আপত্তিকর কর্মকান্ড সামনে এসেছে। হাসিবুলের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া আদালতে তার স্ত্রী মামলা করেছে। মামলা নম্বর ভেড়ামারা মিস-২৫/২০২৬। অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগের সেই মামলা সূত্রে জানা গেছে, মামলা দায়েরের পর হাসিবুল তার ডিভোর্স দেওয়া স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেবার হুমকি দিচ্ছিল। 
মোবাইল থেকে ওই ভিডিও মুছে ফেলার অনেক অনুরোধ করার পরেও যখন কাজ হয়নি, তখন ওই নারী আদালতে ৯৮ ধারা মোতাবেক ভিডিও উদ্ধারে সার্স ওয়ারেন্টের আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে নাটোরের বড়াইগ্রাম থানার এসআই জহুরুল ইসলাম গত ২ ফেব্রুয়ারী পাচঁবাড়িয়ার মশিন্দা গ্রামের মারফত আলীর ছেলে স্থানীয় খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসিবুল (৩১) অপ্পোা এ ৫৮ মোবাইল ডিভাইসটি জব্দ করে আদালতে সোপর্দ করেন। 
 
কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ উঠে আসলো!
তদন্ত শেষে সম্প্রতি পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এবারই পুলিশের তদন্তে হাসিবুলের ভয়াবহ আপত্তিকর কূকর্ম সামনে আসে। মোবাইল থেকে একজন দুইজন নয়, একাধিক নারীর সাথে অনৈতিক বিকৃত কর্মকান্ডের ভিডিও, তথ্যচিত্র পাওয়া গেছে। অভিযোগ আছে, হাসিবুলের লালসার কাছে বিদ্যালয়ের ছাত্রীও ছাড় পায়নি।
 
হাসিবুলের স্ত্রী বলেন, প্রথমে তিনি তার এসব অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয়ে জানতে পারেন হাসিবুলের মোবাইলের মাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে কথা তুললে হাসিবুল হুমকি দিয়ে বলেন, এসব নিয়ে কোন কথা বলবি না। না হলে তোরও ভিডিও আছে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবো। এরপর হাসিবুল তার উপর মানষিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতো। যৌতুক দাবী করতো। স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন জনের কাছে বিচার চেয়েও পায়নি। এর পরে দেনমোহর, সোনাদানা সবকিছুই কেড়ে নিয়ে তাকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। একর্যায়ে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তিনি তার প্রাপ্য সম্পদ ও সম্মান ফিরে চেয়ে ও অমানুষিক নির্যাতনের বিচার চেয়ে মামলা দায়ের করেন।
ওই নারীর প্রশ্ন করে বলেন, একাধীক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক, সব কিছুর তথ্যচিত্র আছে, এতো কিছুর পরেও কিভাবে হাসিবুল স্কুলে শিক্ষকতা করেন?।
 
এসব নিয়ে তথ্য অনুসন্ধানে খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক আনিসুল ইসলাম বলেন, হাসিবুলের স্ত্রীর সাথে ঘটে যাওয়া বিষয়টি জানতাম। বিদ্যালয়ের আরো কয়েকজন শিক্ষকও জানে। আমি সবসময় হাসিবুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের পক্ষে। কিন্তু চলমান মামলা আর উপযুক্ত তথ্য প্রমানের কারনে সেটা হয়নি। তিনি বলেন এর আগেও হাসিবুলকে ছোটখাট অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য সতর্ক করা হয়েছে। কয়েকটি ক্লাশ তার কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। 
তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে স্থাপিত এই বিদ্যাপীটের দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে। একজন শিক্ষকের জন্য এটা নষ্ট হতে দেয়া হবে না। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
 
প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে কথা হয় অভিযুক্ত হাসিবুলের সাথে। তিনি প্রথমে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওইসব ছবি ও ভিডিও এ আই দিয়ে তৈরী। জানতে চাওয়া হয়, কারা এ আই দিয়ে তৈরী করেছে আদালত নাকি পুলিশ। এই প্রশ্নের পর কিছুটা দায় স্বীকার করেন। বলেন, মোবাইলে বান্ধবী টান্ধবীর সাথে তো একটু আধটু কথা হয়। তবে ওইসব ছবিতো আমি মোবাইল হস্তান্তরের আগেই ডিলিট করে দিয়েছিলাম। এখন এসব তথ্যচিত্র কিভাবে পাওয়া গেল প্রশ্ন তার। আর স্ত্রীর পরিবারের সাথে সব ঠিক করে ফেলবেন উল্লেখ করে তিনি সংবাদ করার জন্য অনুরোধ করেন। 
 
বিদ্যালয়ের আরেকজন শিক্ষক নাম না প্রকাশের সর্তে বলেন, সবাই হাসিবুল এসব কর্মকান্ড নিয়ে জানে। ছাত্রীদেরও লালসার শিকারের চেষ্টা সে করেছে। এই প্রধান শিক্ষকের আমলেই ওর চাকরি হয়েছে। হাসিবুলের বাজে কর্মকান্ড সবাই দেখছে। তিনি আশংকা করে বলেন, যদি কোন ছাত্রী নিয়ে কিছু বের হয় তবে বিদ্যালয়ে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।
 
হাসিবুলের বিষয়ে এসব শুনেছে এমন দুই জন অভিভাবক চরম শংকা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন স্কুলের কথা চিন্তা করে, এলাকার ও শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে বিদ্যালয় থেকে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত হবে।
 
গুরুদাসপুর উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার বজলুর রহমান অভিযোগ শুনে বলেন, হাসিবুলের অতীত কর্মকান্ডের সাথে এইসব অভিযোগের মিল আছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে এমন সব অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ ছিল। তবে এ বিষয়ে তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার কোন এখতিয়ার নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন এর দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। 
 
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ফাহমিদা আফরোজ বলেন, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দিলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের কাছে ওই শিক্ষকের আপত্তিকর কর্মকান্ডের ডকুমেন্ট চান। সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে হাসিবুলের আপত্তিকর কর্মকান্ডের কিছু স্কীনসট সরবরাহ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, প্রধান শিক্ষকের সাথে আলাপ করে আইনের মধ্যে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এমএসএম / এমএসএম

যশোরে দুই দিনের অভিযানে ৪শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ উদ্ধার ৫০ কোটি টাকার জমি

শাহরাস্তি থানার ওসিকে আদালতে তলব

সমাজ উন্নয়নে সেবার আলো ছড়াচ্ছে ধরমপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থা

প্রশাসনিক শূন্যতায় ঝুঁকিতে শিক্ষা কার্যক্রম, ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

রাজারহাটে লাম্পি স্কিন ডিসিজে আক্রান্ত শতাধিক গরু

নেত্রকোণায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের,সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

আলফাডাঙ্গায় ক্যাব'র নতুন কমিটির পরিচিতি সভা

​কেশবপুরে সাংবাদিককে গালিগালাজ ও মিথ্যা মামলার হুমকী থানায় অভিযোগ

বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসীঃ পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

শিক্ষকতার আড়ালে হাসিবুলের ভয়াবহ আপত্তিকর কর্মকান্ড

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ 'হুক্কা' আজ শুধুই স্মৃতি

সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে (SPG) সেবায় যুক্ত হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চুক্তিপত্র স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত

রাণীশংকৈলে কৃষি বিষয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত