ঢাকা বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

নওগাঁয় মৌসুমে নষ্ট হয় ৩০০ কোটি টাকার আম, শিল্পায়নের দাবি চাষিদের


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩-৬-২০২৬ দুপুর ২:৪৫

দেশের অন্যতম আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁ। গাছে গাছে এখন আমের সমারোহ, বাজারে আসার অপেক্ষায় জনপ্রিয় আম্রপালি। তবে ভালো ফলনের আশার মধ্যেও দুশ্চিন্তায় চাষিরা। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং প্রক্রিয়াজাত শিল্পের অভাবে প্রতিবছর ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ আম।

চাষিরা বলছেন, প্রতি বছর উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি বাড়লেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। এছাড়া ফলন বেশি হলে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাজারে আমের দাম কমিয়ে দেন। ফলে ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে হয়। নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। অন্যদিকে বড় কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান না থাকায় মৌসুমে নষ্ট হচ্ছে প্রায় ৩০০-৪০০ কোটি টাকার আম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। যা থেকে আম উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। গেল বছর জেলায় ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল এবং যা থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন আম।

সাপাহার উপজেলার কুচকুড়িলিয়া গ্রামের আমচাষি রেদওয়ানুর রহমান মুন বলেন, আম্রপালি আম পাকা শুরু হলে ২৫-৩০ দিনের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। কৃষক চাইলেও তখন আর কোনোভাবে আম গাছে রাখতে পারে না। বাজারে আমের আমদানি বেশি হলে ব্যবসায়িরা সিন্ডিকেট করে আমের দাম কমিয়ে দেন। তখন কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রি করতে হয়। এতে করে আমরা সাধারণ কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়ি। বড় কোনো হিমাগার অথবা আম কেন্দ্রিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে কৃষকরা লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

পোরশা উপজেলার আমইড় গামের আমচাষি মতিউর রহমান বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া শুরু থেকেই আম চাষের অনুকূলে না। যার কারণে প্রায় সব বাগানেই আমের পরিমাণ কম। গত বছর মানভেদে আম্রপালি আম মণ প্রতি ১৫০০-৪০০০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছি। এ বছর ৩ হাজার টাকার কমে আম বিক্রি হলে উৎপাদন খরচ ওঠানো সম্ভব হবে না। আমকেন্দ্রিক শিল্প প্রতিষ্ঠান বা ম্যাংগো প্রসেসিং জোন থাকলে কৃষকরা আমের ন্যায্য মূল্য পাবে। 

সাপাহার উপজেলা আম আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন, সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় আমের হাট সাপাহার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার ব্যবসায়ী প্রতিবছর এখানে আম কেনাবেচা করতে আসেন। এ বাজারে মৌসুমে ৬ হাজার থেকে সাত হাজার কোটি টাকার আম কেনাবেচা হয়। আমাদের যা আম উৎপাদন হয় তার ২০ শতাংশ আম নষ্ট হয়ে যায়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০০-৪০০ কোটি টাকা। বড় কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি হলে কৃষকদের পাশাপাশি ব্যবাসয়ীরাও লাভবান হবেন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে আমকেন্দ্রিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। 

নওগাঁ কৃষি সম্প্রপসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মন্ডল বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ভারী শিল্প স্থাপনের বিষয়ে বিভিন্ন সমন্বয় মিটিং এ প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। কৃষি বিভাগের একটি প্রজেক্ট রয়েছে রপ্তানি যোগ্য আম উৎপাদন। আমরা সেখানে সাপাহার অঞ্চলে কুলিং হাউস এবং প্যাকিং হাউস নির্মাণের বিষয়ে সুপারিশ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি হলে কৃষকরা লাভবান হবেন। 

এমএসএম / এমএসএম

গাজীপুরের কাশিমপুরে অপহরণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক

কুমিল্লা নগর ভবন: বর্তমান স্থানেই স্থাপনের পক্ষে নগরবাসীর ঐক্যবদ্ধ মত তদন্ত কমিটিকে

খুলনায় ইয়ুথ শেয়ার-নেট প্রকল্পের দ্বিতীয় স্টেকহোল্ডার মিটিং অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে গ্রাম আদালত বিষয়ক রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

চকরিয়ার ৫০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিল আইএসডিই বাংলাদেশ

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনে তরুণীর মৃত্যু: স্বামীর বিচারের দাবিতে মোহনগঞ্জে মানববন্ধন

বড়লেখায় ভূয়া সিআইডি প্রতারক ও চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের আসামী গ্রেফতার

পটিয়া প্রেস ক্লাবে ঢুকে প্রকাশ্যে সাংবাদিকের ওপর হামলা

চিতলমারীতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ: মামলা দায়ের, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

রাস্তা নির্মাণের নামে ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় কেটে দখলের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন

পাবনায় কিশোরীকে ধষর্ণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, দগ্ধ হয়ে নিহত ৩

রায়গঞ্জে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক প্রশিক্ষণ শুরু

রায়গঞ্জে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের