রাণীনগরের ৮ ইউনিয়নের ৭ টিতেই চরম পানির ঝুঁকিতেঃআগামী১০ বছরে হাহাকারের আশঙ্কা
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলাসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিতভাবে পানি উত্তোলন এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে প্রতি বছর গড়ে ২ থেকে ৩ ফুট নিচে চলে যাচ্ছে পানির লেভেল। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ বছরে এই অঞ্চলে পানির জন্য চরম হাহাকার পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উপজেলা বরেন্দ্র প্রকল্পের প্রকৌশলী মোঃ ইমানুর রশীদ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান, উপজেলায় যেখানে ৭২০টি গভীর নলকূপ (DTW) থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে রয়েছে ১,১০৪টি। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় ৩৮৪টি অতিরিক্ত গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। এমনকি নিয়ম বহির্ভূতভাবে সাধারণ সেচ পাম্পের (STW) পরিবর্তে বসানো হয়েছে গভীর নলকূপ (DDW), যা পানির স্তর দ্রুত নিচে নামার প্রধান কারণ।
২০৩৬ সালে পানির স্তর নামতে পারে ১০০ ফুটে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে রাণীনগরের অধিকাংশ এলাকায় পানির স্তর ৪৫ থেকে ৫৫ ফুট নিচে থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা ৬০ থেকে ৭০ ফুটে গিয়ে ঠেকছে। আগামী এক দশকে এটি আরও ২০ থেকে ৩০ ফুট নিচে নেমে যেতে পারে। অর্থাৎ ২০৩৬ সাল নাগাদ পানির স্তর ১০০ ফুট গভীরে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে: অধিকাংশ হস্তচালিত ও সাধারণ নলকূপ অকেজো হয়ে পড়বে।সেচ কাজে অধিক শক্তিশালী পাম্প প্রয়োজন হওয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। মাটির আর্দ্রতা কমে গিয়ে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য ও কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে।
উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র একডালা বাদে বাকি ৭টিই বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে।উচ্চ সংকটাপন্ন এলাকা গোনা, কাশিমপুর এবং রাণীনগর সদর মধ্যম সংকটাপন্ন এলাকা। বড়গাছা, কালিগ্রাম, পাড়ইল, উল্লেখ্য যে, গত ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী রাণীনগরকে 'পানি সংকটাপন্ন এলাকা' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ পানি আইন ২০১৩ অনুযায়ী, এসব এলাকায় খাবার পানি ব্যতীত অন্য কোনো কাজে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিষিদ্ধ।
পানির স্তরের এই ভয়াবহ অবনতি রুখতে উপজেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির আধার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।উপজেলার ৮৪ হেক্টর বিল এবং প্রতিবেশী আদমদীঘি উপজেলার ২৫০ হেক্টর বিল এলাকার ২২টি খাল ১২ ফুট গভীর করে খননের প্রক্রিয়া চলছে।এর মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting) এবং প্রাকৃতিক রিচার্জ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুন বলেন পানিরএই সংকট থেকে বাঁচতে হলে ভূগর্ভস্থ পানির বদলে খাল খনন এবং পানির স্তরের এই ভয়াবহ অবনতি রুখতে উপজেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির আধার তৈরির কাজ অতিব জরুরি,বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং প্রযুক্তি জনপ্রিয় করা এবং কম পানি লাগে এমন ফসল (রবি শস্য) চাষ এখন সময়ের দাবি।
এমএসএম / এমএসএম
ভারতে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় প্রতিবাদ সমাবেশ
শক্তিশালী বালু সিন্ডিকেট এমপির নির্দেশনা উপেক্ষিত হুমকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য
চাঁদপুর যাওয়ার আগে কুমিল্লায় পথসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নড়াইলে ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা
ডামুড্যায় শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হয়েছেন এনামুল হক
রাণীনগরের ৮ ইউনিয়নের ৭ টিতেই চরম পানির ঝুঁকিতেঃআগামী১০ বছরে হাহাকারের আশঙ্কা
চন্দনাইশে আজ থেকে এলডিপি বিলুপ্ত ঘোষণাঃ সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ
বাকেরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের হামলায় একজন খুন
বাগেরহাট পৌর শহরে মামাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ফুফাতো ভাই নিহত
মনোহরগঞ্জ সন্তান ও স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী
আত্রাইয়ে ট্রাক্টরের মাটি পরিবহনে রাস্তার বেহাল দশা: বোরো ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক
তাড়াশে মাঠের ধান ঘরে তুলতে কৃষকের চরম দুর্ভোগ- রাস্তা তো নয় যেন পাকের জমি