ঢাকা রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যাচ্ছে দেশের আবহাওয়া


রিয়াজউদ্দিন আহমেদ photo রিয়াজউদ্দিন আহমেদ
প্রকাশিত: ১৬-৫-২০২৬ দুপুর ১:৫৪

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বাড়ছে অস্বাভাবিকতা। ঋতুচক্রের স্বাভাবিক ধারা বদলে যাচ্ছে। শীতকাল ছোট হয়ে আসছে, গ্রীষ্ম দীর্ঘ হচ্ছে, তাপমাত্রা বাড়ছে। আবার বর্ষার আগেই বৃষ্টি, স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঘটনাও বাড়ছে। এর মধ্যেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় জলবায়ু ব্যবস্থা ‘এল নিনো’ সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আবহাওয়া ও জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো বলছে, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে এল নিনো সক্রিয় হতে পারে। বিভিন্ন আবহাওয়া মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটি শক্তিশালী বা ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এর প্রভাবে বাংলাদেশে বর্ষা বিলম্বিত হতে পারে, বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে এবং ঘন ঘন তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। এতে কৃষি, অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

কী এই এল নিনো
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা সাধারণত ২ থেকে ৭ বছর পরপর দেখা দেয়। এ সময় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং বৈশ্বিক বায়ুপ্রবাহের ভারসাম্য বদলে দেয়। এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ায় পড়ে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এল নিনো সক্রিয় হলে দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে। ফলে বাংলাদেশে বর্ষাকাল দেরিতে শুরু হওয়া ও বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

দীর্ঘ তাপপ্রবাহের শঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী এল নিনো হলে দেশে আরও দীর্ঘ ও তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। ২০২৪ সালে দেশের ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ তাপপ্রবাহে টানা ৩৬ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৬ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল। চুয়াডাঙ্গা, যশোর, পাবনা, রাজশাহী, খুলনাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ বলেন, এল নিনোর প্রভাবে মৌসুমি তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। এতে ঘন ঘন তাপপ্রবাহ এবং পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোকসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।

খরার ঝুঁকিতে উত্তরাঞ্চল
রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চল বরাবরই খরাপ্রবণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর কারণে এসব এলাকায় বৃষ্টিপাত কমে গেলে খরার পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়বে এবং সেচনির্ভর কৃষিতে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মারুফুর রহমান বলেন, এল নিনোর কারণে সমুদ্র থেকে স্বাভাবিক আর্দ্রতার প্রবাহ কমে গেলে দীর্ঘ শুষ্ক সময় সৃষ্টি হতে পারে।

কৃষিতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
বাংলাদেশের কৃষি এখনও অনেকাংশে প্রকৃতিনির্ভর। আমন ধান বর্ষার পানির ওপর নির্ভরশীল, আবার বোরো চাষে প্রয়োজন হয় বিপুল সেচ। ফলে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন সরাসরি কৃষিতে প্রভাব ফেলে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর কারণে বর্ষা দেরিতে শুরু হওয়া, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং হঠাৎ অতিবৃষ্টির মতো তিন ধরনের ঝুঁকি একসঙ্গে দেখা দিতে পারে। এতে ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, সরিষা ও শাকসবজির উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শরিফুল হক ভূঞা বলেন, জলবায়ুসহিষ্ণু ফসল উদ্ভাবন না করতে পারলে ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

উপকূলে বাড়তে পারে লবণাক্ততা
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম বলেন, এল নিনোর কারণে নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ কমে গেলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়তে পারে। এতে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনার কৃষি, মাছ ও পানীয় জলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ তাপপ্রবাহের কারণে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া, কিডনি রোগ, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়বে। অন্যদিকে অতিবৃষ্টির ফলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও পানিবাহিত রোগ বাড়তে পারে। শিশু, বৃদ্ধ, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন।

বদলে যাচ্ছে এপ্রিলের আবহাওয়া
বাংলাদেশে এপ্রিল সাধারণত সবচেয়ে গরম ও শুষ্ক মাস হিসেবে পরিচিত। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। দেশজুড়ে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির ঘটনা বেড়েছে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা অতিরিক্ত আর্দ্র বায়ু এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

প্রস্তুতির ওপর জোর
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর প্রভাবে বাংলাদেশে আবহাওয়াগত অস্থিরতা আরও বাড়বে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় খরা সহনশীল ফসল উদ্ভাবন, পানি সংরক্ষণ, উন্নত আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থা, টেকসই নগর পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য খাতে আগাম প্রস্তুতি জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আরও বড় পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

এমএসএম / এমএসএম

হয়রানিমূলক মামলায় জামিন পেলেন যুবদল নেতা জাহিদ হোসেন মোড়ল

বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা রেখেছেন: শ্রমিক নেতা এয়াকুব

গত এক সপ্তাহে নিরাপদ খাদ্য আইনে ৭ প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ৭টি মামলা দায়ের

ভিত্তিহীন সংবাদের জেরে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি

রাজপথে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে স্মারকলিপি

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ইনস্টিটিউটে আনসারদের তৎপরতায় দালাল আটক, পুলিশের কাছে সোপর্দ

খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে ড্যাবের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন আয়োজিত মাদক দ্রব্যের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে যুব সমাজকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

ঢাকাস্থ শিয়ালকাঠী ইউনিয়ন কল্যাণ সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.)-এর দর্শনে মানবিক ও নৈতিক তরুণ প্রজন্ম গড়ার আহ্বান

জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থায় প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

দায়িত্ব গেল, এবার সম্পদ-টেন্ডার নিয়ে প্রশ্নের মুখে বদরুল

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা সহকারে পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান