অনিয়মে জর্জরিত সিডিএ, পিএম দপ্তরে অভিযোগ
* ২ পদে ভাইভা’র শতভাগ নিয়োগ
* বিজ্ঞাপনের শর্তানুযায়ী সনদ না থাকা সত্ত্বেও ইমারত পরিদর্শক পদে নিয়োগ, প্রক্সিসহ দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাপক নিয়োগ বাণিজ্য করেছে সিন্ডিকেট
* নিয়োগ বাতিলের দাবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বমুহুর্তে নানা ছলচাতুরী ও জালিয়াতির মাধ্যমে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (সিডিএ) জনবল নিয়োগ দেওয়া ও পদোন্নতিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। এই প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মচারী নিযোগের আইন, বিধি, পরিপত্র ইত্যাদি লংঘন করে নিজেদের পছন্দের লোককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়ম রোধকল্পে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর (পিএম) দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সিডিএ’র বাজটে নিয়োগ খাতের খরচের অর্থ বরাদ্দ না থাকা সত্বেও এবং নিয়োগ প্রার্থীদের আবেদনের সাথে দাখিলকৃত পেঅর্ডারের অর্থ নামে-বেনামে ব্যয়ের বিভিন্ন হিসাব দাখিল করে আত্মসাৎ এর লক্ষ্যে তড়িঘড়ি করে চউক’র জনবল “নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি” প্রচার করেন। বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ ছাড়া পরীক্ষায় পাস দেখানো, প্রশ্নফাঁস, প্রশ্নফাঁসকারীকে থানা হাজত থেকে মুচলেকা দিয়ে গভীর রাতে ছাড়িয়ে নেওয়া, পরীক্ষার হলে মোবাইল স্ক্রিন দেখে উত্তর লেখার সুযোগ প্রদান সহ প্রকৃত মেধাবীদের অবহেলা, ২ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডেকে ২ জনকেই নিয়োগ প্রদান, আরেক পদে ১১ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডেকে সকলকে নিয়োগ প্রদান সহ বিজ্ঞাপনের শর্তানুযায়ী সনদ না থাকা সত্ত্বেও ইমারত পরিদর্শক পদে নিয়োগ প্রদান, পরীক্ষার্থী একজনের খাতায় অন্যজন দ্বারা লেখানোর অসংখ্য অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মহাযজ্ঞের মাধ্যমে ব্যাপক নিয়োগ বাণিজ্য করেছে একটি সিন্ডিকেট। ফলে বিতর্কিত এই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট খ্যাত দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ সুবিধা ভোগীদের পুরস্কার হিসেবে প্রদত্ত পদোন্নতির গ্রেডেশন তালিকা তৈরি করে প্রমাশন দেওয়া হয়েছে। গ্রেডেশন তালিকায় স্বাক্ষরের আগেই পদোন্নতির আদেশ জারী করা হয়েছে। এসব অন্যায় আদেশ বাতিল ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
এসব অনিয়মের বিষয় তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠিত হলেও অনিবার্য কারণ দেখিয়ে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে কমিটি। ফলে কমিটির কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এমনকি মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কমিটিকে ম্যানেজ করেছেন বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আছে তীব্র সমালোচনা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সিডিএ এর অনুকূলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের বরাতে ৩১টি পদের বিপরীতে ১১৫ জন লোক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রচার করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত সহকারী স্থপতি, সহকারী প্রোগ্রামার, স্টাফ অফিসার, জনসংযোগ কর্মকর্তা, জি আই এস অপারেটর, ইমারত পরিদর্শক সহ বিভিন্ন পদ ও পদের জনবল সংখ্যা “চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্মচারী চাকুরী প্রবিধান মালা ১৯৯০”-এর জনবল কাঠামোতে (অর্গানোগ্রাম) অস্তিত্ব নেই। এসব সৃজিত পদসমূহ আইন, বিধি, প্রবিধান ও বিভিন্ন পরিপত্র মোতাবেক পর পর ৩ বছর নবায়ন ও সংরক্ষণ করা হয় নাই এবং চুড়ান্ত নিয়োগ বিধিমালা ও সুনিদিষ্ট কাজের বিবরণীও অনুমোদিত হয়নি। তাছাড়া উক্ত পদ সমুহের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের প্রেক্ষিতে পৃষ্ঠাংকন সহ “পদ স্থায়ী করার আদেশ জারী” করা হয়নি। ফলে এসব পদের কর্মচারিদের বেতন ভাতা কিভাবে হবে তাও নিশ্চিত করা হয়নি। এই বিতর্কিত নিয়োগ কমিটির আহবায়ক ছিলেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সৈয়দ নুরুল করিম ও সচিব রবীন্দ্র চাকমা ছিলেন সদস্যসচিব।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, সিডিএ একটি ঋণগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান। অতীতের ন্যায় কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ অক্ষম হতে চলছে। অবসরে যাওয়া কর্মচারীদের পেনশন ফান্ডের ফিক্সড ডিপোজিট ৫ কোটির টাকার স্থলে ৫০ লাখ টাকায় নেমে আসেন এবং বর্তমান কর্মরত কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। বর্তমানে আয়ের উৎস বৃদ্ধি এবং আয়বর্ধক নতুন কোন প্রকল্প চলমান নাই। তাছাড়া নতুন জনবল নিয়োগ দিলে তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সক্ষমতা নাই। সত্যটি গোপন করেছেন। সক্ষমতা আছে কিনা তাহা বিবেচনা ছাড়া স্পর্শকাতর ১১৫ টি পদে জনবল নিয়োগ কার্যক্রম আত্মাঘাতি।
উর্ধ্বতন কর্মকতাদের অদক্ষতায় ফলে আয়বর্ধক পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ব্যর্থতায় আয়শূন্য অবস্থায় পর্যবসিত। দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্মকতাদের স্বজনপ্রীতি ও উৎকোচ গ্রহণের মত দূর্নীতির কারণে অপরাধীর বিরুদ্ধে শাস্তি প্রদানের অক্ষমতা ও ব্যর্থতা দিনের আলোর মত স্পষ্ট। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে নিজের আখেড় গোঁচানোকারী কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিপক্ষে যৌক্তিক কারণে ভিন্নমত পোষণ করলে তাঁকে বিনা নোটিশে চাকুরীচ্যুত করা হয়। তাদের ন্যায় বিচারহীনতা, ঋণ আর সুদের ভারে জর্জরিত ও দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার উপক্রম একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা পরস্পর আঁতাত করে সরকারি চাকরিতে জনবল নিয়োগ কার্যক্রমে সরকারি চাকরি আইন, বিধি ও চউক কর্মচারী চাকুরী প্রবিধান মালা লংঘন ও অমান্য করেছেন। বিচারাধীন মামলা সমূহ নিষ্পত্তি না করে উপরে বর্ণিত অনিয়ম-দুর্নীতি সহ হযবরল এর মতো চউক এর নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বিধায় তা বাতিলের অনুরোধ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্মচারী ইউনিয়নের (রেজিঃ নং চট্ট-২৪৯৫) সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, নানা অনিয়মে জর্জরিত সিডিএ, আদালতের আদেশ, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশও মানছে না কর্তৃপক্ষ। আবার রহস্যজনক কারণে রহস্যজনক কারণে স্থগিত থাকে তদন্ত কার্যক্রম। তাই এবার প্রধানমন্ত্রী বরাবরে অভিযোগ দিয়েছি। একই অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও দুদক চেয়ারম্যানকে।
এমএসএম / এমএসএম
মাদারীপুরে শুরু হলো ওয়াজউদ্দিন মাতুব্বর স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট
সরকারের লক্ষ্য সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা: স্বাস্থ্য শিক্ষা সচিব
মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় হাতীবান্ধায় ২ পুলিশ কর্মকর্তা আহত, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১ জন রংপুরে ভর্তি
ইতালিতে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতে নোয়াখালীর একই পরিবারের তিনজন নিহত
৮ বছর ধরে বন্ধ ভেলুমিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালনে উপজেলা পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত
বাঁশখালীতে গ্রাহকের ৩৫ কোটি টাকা মেরে এক যুবক লাপাত্তা
বিরামপুর ইসলামপাড়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন
গাজীপুরে শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ, পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপ
হাটহাজারীতে অস্ত্রসহ চার কিশোর আটক
লাকসাম জেনারেল হাসপাতাল (প্রাঃ) লিঃ NICU/HDU এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত
শুল্ক ফাঁকির আখড়ায় পরিনত বেনাপোল বন্দর, লালন-পালনের প্রতিযোগিতায় বন্দর-কাস্টমস কর্মকর্তারা