ঢাকা রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

চসিক’র সিইও নেই ১০ মাস, সেবায় স্থবিরতা


এসএম পিন্টু photo এসএম পিন্টু
প্রকাশিত: ১৪-৬-২০২৬ দুপুর ১:৩

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নেই প্রায় ১০ মাস। সচিবকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে চালানো হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরটি। সময় স্বল্পতা ও নানা অযুহাতে দাপ্তরিক কাজে স্থবিরতা বিরাজ করছে, যথাসময়ে সেবা না পাওয়ার অভিযোগ ও দ্রুত সিইও পদায়নের দাবি সংশ্লিষ্টদের।
জানা যায়, গতবছরের ৬ সেপ্টেম্বর একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য ছুটিতে যায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ন সচিব পদমর্যাদা) শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। প্রশিক্ষণ শেষে ২৩ অক্টোবর কর্মস্থলে যোগ দিতে আসলেও তার যোগদানপত্র গ্রহণ করেননি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রশিক্ষণে থাকাকালীন সময়ে চসিকের সচিব (উপসচিব পদমর্যাদা) মো. আশরাফুল আমিনকে অতিরিক্ত হিসেবে সিইও’র দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই থেকে তিনি এখনো এই দায়িত্ব পালন করছেন। 
সূত্র জানায়, একই সাথে দুইটি (সচিব ও সিইও) পদের দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খাচ্ছেন আশরাফুল আমিন। এরমধ্যে আবার মেয়রের সাথে বিভিন্ন মিটিংয়ে অংশগ্রহণ, সবমিলিয়ে দাপ্তরিক কাজ যথা সময়ে শেষ করা যাচ্ছে না।  নাম প্রকাশ না করার শর্তে চসিকের একাধিক কর্মকর্তা, ঠিকাদার বা সেবাগ্রহিতা জানান, সিইও এবং সচিব দুটি পদই অনেক গুরুত্বপূর্ণ, একটার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আরেকটি অবহেলিত। দিনের পর দিন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পড়ে থাকে, সময়ের অযুহাতে সার্ভিস পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সেবা সহজ করতে দ্রুত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের দাবিও জানান।
সূত্র জানায়, কোন এক কারণে মেয়রের সাথে সম্পর্কের দুরত্ব সৃষ্টি হয় সিইও তৌহিদুলের। একপর্যায়ে গতবছরের ৩০ জুন সিইওকে সরাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন মেয়র। সেখানে বলা হয়েছিল, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, যুগ্মসচিব (পরিচিতি নং-১৫১৫৭) বর্তমানে তার দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও গতি সুনিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে তাকে বর্তমান পদ থেকে বদলি করা প্রয়োজন। তার বিরুদ্ধে কিছুদিন পরপর বিভিন্ন পত্রিকায় দুর্নীতির সংবাদ প্রচার হওয়ায় এবং বিভিন্ন ধরণের দুর্নীতি অভিযোগ উঠায় সর্ব পর্যায়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার দুর্নীতি বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। যা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে প্রতিনিয়ত। এই চিঠির পর দুরত্ব আরো বাড়ে, উভয়ে উভয়ের অবস্থানে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে সিইওকে সরাতে আন্দোলন করে শ্রমিকদের একাংশ। ফলে ডিও লেটারের প্রায় ৫ মাস পর একই বছরের ১৭ নভেম্বর সিইও শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হলেও তাঁর স্থলে কাউকে পদায়ন না করায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন সচিব অরশরাফুল আমিন। 
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বদলী আদেশে বলা হয়েছিল, ২৩ নভেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে বদলি হওয়া কর্মস্থলে যোগদান না করলে ওই দিন থেকে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য হবেন।
সূত্র জানায়, তরিঘরি করে সিইওকে সরানোর ১০ মাসেও কাউকে নিয়োগ না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চসিকের ভেতরে বাইরে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। চসিকের কার্যক্রমে গতি ফেরাতে সিইও পদায়ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
একই সাথে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে কোন সমস্য হচ্ছে কি না জানতে চাইলে চসিকের সচিব ও সিইও’র পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. আশরাফুল আমিন বলেন, ”একই সাথে দুটি দায়িত্ব পালন করতে আমার কোন সমস্যা হচ্ছে না, আর আমার টেবিলে কোন ফাইল আটকে থাকে না। আমি অফিসের কাজে ঢাকায় গেলেও সেদিনই চলে আসি, সর্বোচ্চ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সব ফাইল ছেড়ে দেই। যদি কেউ ফাইল আটকে থাকার কথা বলে থাকে তা সত্য নয়।” 
তৌহিদুল ইসলামকে সিটি করপোরেশন থেকে সরিয়ে নিতে ২ নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন মেয়র। আবার উচ্চতর প্রশিক্ষণ শেষে মেয়র তাঁকে সিটি করপোরেশনে যোগদান করতে দেননি, ৩০ অক্টোবর তা চিঠি দিয়ে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন তৌহিদুল ইসলাম। এসব বিষয় নিয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল মন্ত্রণালয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিটি কর্পোরেশন শাখা ১ এর দায়িত্বে থাকা উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাজ, দাপ্তরিক কাজে কিছু অসুবিধা হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু পদায়নের কাজটি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ওরা যে অফিসার দেয় আমরা তাদের নিয়ে কাজ করি। এবিষয়টি আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি, তারা দিলে আমাদের আপত্তি নেই।  
এবিষয়ে জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) রাহেদ হোসেন, যুগ্ন সচিব (প্রশাসন) রাশেদুল ইসলাম ও উপসচিব (প্রশাসন ১ শাখা) শরিফুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২২ জানুয়ারি চসিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। গত ৬ সেপ্টেম্বর একটি প্রশিক্ষণে যোগ দিয়ে ২৩ অক্টোবর কর্মস্থলে যোগ দিতে আসলে তার যোগদানপত্র গ্রহণ করেননি মেয়র। পরবর্তীতে ২৭ অক্টোবর হোল্ডিংয়ের বিপরীতে চসিকের মূল্যায়নকৃত পৌরকর থেকে ঘষামাজা করে ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে দেয়ার ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেন মেয়র। ৩০ অক্টোবর অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামের অপসারণ চেয়ে ‘চসিকের সকল সাধারণ কর্মচারীবৃন্দ’ ব্যানারে টাইগারপাস নগর ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে একটি পক্ষ।

এমএসএম / এমএসএম

ফরহাদ মজহারের প্রভাব নিয়ে কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগে নতুন বিতর্ক!

সান্তাহারে অঅলোচিত শিশু রাকার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে শিক্ষক শিক্ষার্থিদের মানববন্ধন

‘গুমের নাটক সাজিয়ে সরকারকে দোষারোপ’, বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

জনপ্রিয় নেতা ওয়াহেদুজ্জামানের মৃত্যুতে কাঁদছে নেছারাবাদ,জানাজা দাফনের সিদ্ধান্ত

তীব্র গরমে বারহাট্টায় কদর বেড়েছে তালের শাঁসের

উলিপুরে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে এক ফল ব্যবসায়ীর মৃত্যু

বেনাপোল বন্দরের ৪ কর্মকর্তার নামে মামলা: ধরাছোঁয়ার বাইরে রাঘব বোয়ালরা

মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় করা যাবে না : প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

আশুগন্জে কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ

বাগেরহাট খুলনা ও বরিশাল বাস মালিক সমিতির অনির্দিষ্টকালের ডাকা পরিবহণ ধর্মঘট প্রশাসনের আশ্বাসে প্রত্যাহার

চসিক’র সিইও নেই ১০ মাস, সেবায় স্থবিরতা

নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা ও থানা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সিডিএ'র স্বার্থ রক্ষা করার অঙ্গীকার নতুন চেয়ারম্যানর