ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

দখল-দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে আসকার দিঘি


এসএম পিন্টু photo এসএম পিন্টু
প্রকাশিত: ২৩-৬-২০২৬ দুপুর ১:১৭

অযত্ন - অবহেলা আর অবৈধ দখল বাণিজ্যের গ্যাড়াকলে অস্তিত্ব হারাতে বসছে চট্টগ্রামের ৩৫০ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাক্ষী অসকার (আস্কার) দিঘি।  এটি রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের নিস্ক্রিয়তায় স্থানীয় ও পরিবেশবিদদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সম্প্রতি মানববন্ধন করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা। দ্রুত এটি দখলমুক্তম পরিস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
 সম্প্রতি চট্টগ্রাম বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী সৌরভ প্রিয় পালের সভাপতিত্বে এবং সৈয়দ সাফাওয়ান আলীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একসময় এলাকাবাসী আসকার দিঘির পানি ব্যবহার করতো, ভালো মাছের উৎস ছিল এটি। কিন্তু এটা এখন দখলে দুষণে বিপর্যস্ত। আসেপাশে সবগুলো বাসাবাড়ি-দোকানপাটের সুয়ারেজ লাইনগুলো দিঘির পানিতে। এটা এখন ময়লা আবর্জনার ভাগাড়। কচুরিপানায় ভরে গেছে পুরো দিঘি। শুধু আসকার দিঘি নয়, বলুয়ার দিঘি, ভেলুয়ার দিঘি, রাণীর দিঘি, কলসির দিঘিসহ সব দিঘি ও পুকুরগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে এবং দখলে দুষণে বিপর্যস্ত। এগুলো রক্ষা করতে সিটি করপোরেশন, সিডিএ, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে এগিয়ে আসতে হবে সমন্বিতভাবে। চট্টগ্রামের সাগর, নদী, পাহাড়, পুকুর, দিঘি, নালা, জলাশয়গুলো যারা দখল করে রেখেছে সেসব দখলবাজদের রুখে দাঁড়াতে সম্মেলিতভাবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এক সময় এলাকার মানুষের পানির চাহিদা পূরণ, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার হিসেবে পরিচিত এই দিঘিটি বর্তমানে ভরাট, দূষণ এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাব এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে এই ঐতিহ্যবাহী জলাশয়টি এখন নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, আসকার দীঘি শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি এলাকার ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বহু বছর আগে খনন করা এই দীঘি দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ ছিল। একসময় এর স্বচ্ছ পানি, সবুজ পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দীঘিটির প্রতি দায়িত্বশীল মহলের আগ্রহ কমে যায়। ফলে পরিকল্পিত সংরক্ষণের পরিবর্তে এটি ধীরে ধীরে অবহেলার শিকার হতে থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীঘির বিভিন্ন অংশে ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও জলজ আগাছা এমনভাবে বিস্তার লাভ করেছে যে পানির অস্তিত্বই বুঝতে কঠিন হয়ে পড়েছে। চারপাশে অপরিকল্পিত স্থাপনা ও দখলের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহল দিঘির তীরবর্তী জায়গা দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে, যা দীঘির স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট করছে।
এবিষয়ে চট্টগ্রাম বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল  বলেন, একটি বড় জলাশয় শুধু পানি ধারণের স্থান নয়, এটি একটি এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দিঘি ও পুকুরগুলো ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধরে রাখতে সহায়তা করে, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। আসকার দিঘির বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে শুধু একটি ঐতিহাসিক জলাশয় নয়, এলাকার পরিবেশও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিঘি সংস্কার ও সংরক্ষণের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। বর্ষা মৌসুমে কিছুটা পানি জমলেও বছরের বেশিরভাগ সময়ই এটি আগাছা ও আবর্জনায় ঢেকে থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পলি অপসারণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে।
এবিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোক্তাদির হাসান বলেন, আস্কার দিঘি মূলত দখল হয়নি, পাড়ের কিছু অংশে ঘরবাড়ি হয়েছে আর দিঘির মূল অংশে যেখানে পানি থাকার কথা সেখানে ময়লা আবর্জনা জমেছে। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন এটি পরিস্কারের উদ্যোগ নিতে পারে। তবে এসব আবর্জনা যারা ফেলছে তাদেরকে আসলে আইনিভাবে ঠেকানো খুবই মুশকিল। এক্ষেত্রে জনসচেতনতা খুব জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্যোগ নিলে হয়তো ময়লা ফেলা বন্ধ করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসকার দিঘিকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রথমত, দীঘির সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, খননের মাধ্যমে পলি অপসারণ করে জলাধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। তৃতীয়ত, চারপাশে বৃক্ষরোপণ, হাঁটার পথ এবং পরিবেশবান্ধব সৌন্দর্যবর্ধনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে নতুন করে দখল বা দূষণ না ঘটে।
এবিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মা বলেন, আমরা আসকার দিঘির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখব। উর্ব্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটি পরিস্কার ও দখলমুক্ত করে ওয়াকওয়ে দিয়ে সংরক্ষণ করতে পারলে সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি নাগরিক সেবায় অনেক কাজে লাগবে। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করতে ম্যাজিস্ট্রেটদের হস্তক্ষেপ জরুরি। আমরা চাইলেও অনেক সময় জনবল সংকটে সবকিছু করতে পারছি না। বর্জ অপসারণ ঠিকমতো করতে কিছু লোক নিয়োগ দিবে বলে জানিয়েছেন চসিক। 
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের জামালখান এলাকায় অবস্থিত আসকার দিঘিটি ১৬৬৯ থেকে ১৬৭১ সাল পর্যন্ত মোগল বাংলার সুবাহদার শায়েস্তা খানের আমলে চট্টগ্রামের শাসনকর্তা ছিলেন আসকার খাঁ। তাঁরই নামানুসারে এই প্রাচীন জলাশয় ও এর আশেপাশের এলাকার নামকরণ করা হয় আসকার দিঘি। ১৮৯৮ সালের হিসেব অনুযায়ী দীঘির আয়তন সাড়ে ৮ একর, দখল, দূষণ ও ভরাটের কারণে বর্তমানে সংকুচিত হয়ে বর্তমানে এর আয়তন ৫ একরেরও কম। মোগল ফৌজদার নবাব আস্কর খাঁ তাঁর সৈন্যবাহিনীর পানির চাহিদা মেটানোর জন্য প্রায় ৩৫০ বছর আগে এই দীঘিটি খনন করেছিলেন। 

এমএসএম / এমএসএম

কুড়িগ্রামে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত

লাকসাম প্রেসক্লাবের ২দিন ব্যাপী আনন্দ ভ্রমন অনুষ্ঠিত

​শরণখোলায় অযত্ন-অবহেলায় শয্যাশায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম লাল

বারহাট্টায় বাড়ির পাশে গর্তে জমে থাকা পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

তাড়াশে আওয়ামীলীগের ‘নৈরাজ্য’ রুখতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল

নাচোলে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের কাহিনী প্রচার করে ইউএনও’র উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা

দেবীগঞ্জে সরকারি প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্যের সংবাদের পর পিআইওকে বদলি

কাউনিয়ায় যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার নেতাকর্মীরা

রাজারহাটে অটোমেটেড ফিশ ফিডার, এয়ারেটর ও সিসি ক্যামেরায় বাড়ছে মাছের উৎপাদন

টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল : নৈরাজ্য, অপপ্রচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে রায়গঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিল-সমাবেশ

কুড়িগ্রামে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করায় আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে কৃষক

মহাসড়কে চাঁদাবাজির সংবাদ প্রচারের পর সিংড়া বাস টার্মিনালের এক বছর মেয়াদি ইজারা বাতিল