শরণখোলায় অযত্ন-অবহেলায় শয্যাশায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম লাল
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে সুন্দরবন সাব-সেক্টরের সম্মুখযোদ্ধা ছিলেন তিনি। সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শামসুল আলম তালুকদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে জীবন বাজি রেখেছিলেন রণাঙ্গনে। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম লাল (৮৫) আজ নিজেই যেন এক পরাজিত সৈনিক। সন্তানহীন এই মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর অসুস্থ স্ত্রী বর্তমানে অযত্ন, অবহেলা আর চরম অর্থকষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সরেজমিনে বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম লালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বয়সের ভার ও নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় ছটফট করছেন তিনি। অর্থাভাবে জুটছে না পুষ্টিকর খাবার কিংবা উন্নত চিকিৎসা। তাঁর সহধর্মিণী বেগম আনিসা পারভীন রেবাও কয়েক বছর ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী। এই দম্পতির কোনো সন্তান না থাকায় শেষ বয়সে এসে তাদের দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই।
আক্ষেপ করে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, "জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলাম, কিন্তু আজ কেউ খোঁজ নেয় না। বেঁচে আছি নাকি না খেয়ে আছি, সে খবরও কেউ রাখে না।"
মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের পাশাপাশি নজরুল ইসলাম লাল শরণখোলা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি ছিলেন। তাঁর স্ত্রী বেগম আনিসা পারভীন রেবা ছিলেন উপজেলা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। আক্ষেপ করে তিনি জানান, নিজের দলের অনেক নেতা-কর্মীও বর্তমানে তাঁর কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না। তবে সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম তাঁর খোঁজ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
জানা যায়, সরকার থেকে তিনি যে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান, তা দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর ওষুধের খরচই ফুরিয়ে যায়। দুজনকে দেখাশোনা করার জন্য ১০ হাজার টাকা মাসিক বেতনে একজন গৃহকর্মী রাখা হয়েছে। এই ব্যয়ভার বহন করা এখন তাঁর জন্য এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের দেওয়া বীর নিবাস (মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত বাড়ি) থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, শরণখোলার অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা সরকারি ভবন পেলেও, বিরোধী দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁর ভাগ্যে সরকারি ঘর জোটেনি। দীর্ঘদিন ভাঙা টিনের ঘরে অতিকষ্টে দিন পার করেছেন। কয়েক মাস আগে বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে ঘরের চালে নতুন টিন লাগিয়েছেন, যাতে অন্তত বৃষ্টির পানি গায়ে না পড়ে।
জীবনের অন্তিম মুহূর্তে এসে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার সরকারের কাছে একটাই দাবি— তাঁর মতো আর কোনো সূর্যসন্তানকে যেন এমন অযত্ন আর অবহেলায় ধুঁকে ধুঁকে কষ্ট পেতে না হয়।
এ বিষয়ে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অর্পিতা হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। তবে দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য সরকারিভাবে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
এমএসএম / এমএসএম
গজারিয়া ইউনিয়নে থানা পুলিশের মত বিনিময় সভা
কুড়িগ্রামে গাঁজা ও প্রাইভেটকারসহ ২ জন গ্রেফতার
শেরপুরে নারীর প্রলোভনে ডেকে নিয়ে বন্ধুকে হত্যা: ৩ বছর পর রহস্য উদঘাটন
ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেনঃ মির্জা ফয়সল আমীন
বর্ণাঢ্য আয়োজনে পটুয়াখাালীতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
রায়গঞ্জে এমপির সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিবাদ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
মানিকগঞ্জে স্কুল শিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রংপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির নির্বাচনে ড্যাব-ছাত্রদল প্যানেলের বিপুল জয়: সভাপতি শাহনেওয়াজ ও সম্পাদক রিয়াদ
ধামরাইয়ে অবৈধ টায়ার পুড়িয়ে তেল তৈরির কারখানা গুঁড়িয়ে দিল পরিবেশ অধিদপ্তর
টঙ্গীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র্যালি
পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও কর্মকর্তার স্বজনদের নাম ফ্যামিলি কার্ড গণনাকারী নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায়
শিক্ষার জন্য কাজ করাই কি জাহাঙ্গীর আলমের অপরাধ?বাদ দেওয়া নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন