সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের বাসার বাবুর্চি মাদক ব্যবসায় কোটিপতি!
পতিত আওয়ামী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসার বাবুর্চির নানা অপকর্ম সামনে এসেছে।
হতদরিদ্র দিনমজুর বাবার সন্তান মো. বাবুল মিয়া। নিজের নামের বাইরে কিছু লিখতে পারেন না। অভাবের তাড়নায় কয়েক বছর আগে শেরপুরের নকলা থেকে ঢাকা পাড়ি জমান। ঢাকায় এসে বিভিন্ন কাঁচাবাজার আড়তে কুলির কাজ শুরু করেন। এরপর ঢাকার ফার্মগেটে আওলাদ হোসেন মার্কেটে ভাতের হোটেলে দৈনিক ২৫০ টাকা মজুরিতে রান্নার কাজ নেন। সেখান থেকে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় ৯ হাজার টাকা বেতনে ভাত রান্নার কাজ পান। এরপরই বাবুল যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পান। আগষ্টে সরকার পতনের পরে আত্নগোপনে চলে যান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানুয়ারি ২৪, জারিকৃত অফিস আদেশে দেখা যায়, বাবুল মিয়াকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রাধিকারভূক্ত কর্মচারী হিসেবে কুক পদে চুক্তিভিত্তিক মাসিক বেতন সাড়ে ১৫ হাজার টাকা হিসেবে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া হয়। এই সামান্য বেতনে তিনি ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন, সন্তানদের পড়াশোনা করিয়েছেন। শহর থেকে গ্রামে সবখানে কিনেছেন জমি, মার্কেট, দোকান, মাছের ঘের।
জানা যায়, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল, নিয়োগ বাণিজ্য সহ নানা অপকর্ম করে কয়েকবছরে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। মন্ত্রীর বাসার ভাত রান্নার কাজের আড়ালে মাদক ব্যবসা করতেন। সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে ছিল নিয়মিত যোগাযোগ। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের থেকে মাসিক চুক্তিতে মাসোয়ারা নিতেন। নিজস্ব লোকবল দিয়ে গড়ে তোলেন মাদকের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। কখনো মাদকের চালান প্রশাসনের হাতে আটকে গেলে নিজেই কামালের বাসার ম্যানেজার পরিচয়ে ফোন করতেন। কখনো মন্ত্রীর পরিবারের লোককে দিয়ে আবার মন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের দিয়ে ফোন করাতেন। মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। মাদকের টাকায় বিভিন্ন রিসোর্টে বিনোদনে মেতে থাকতেন। বিভিন্ন সামাজিক কাজে এবং অনুষ্ঠানে মোটা অংকের অর্থ দান করে দানবীর খ্যাতি পেয়েছেন।
বাবুলের মাদক ব্যবসার এক সহযোগীর সাথে কথা হলে, "তিনি জানান কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ঢাকায় মাদক পরিবহনের কাজে তিনজন লোক নিয়োগ করেছিলেন বাবুল মিয়া। কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে মায়ানমার থেকে ইয়াবা এবং আইস এর মতো দামী মাদকের চালান আনতেন। তেজগাঁও এবং নাখালপাড়া রেললাইন থেকে বিভিন্ন স্থানে মাদক পৌঁছে দিতেন। এসব লোকদের থেকে মাদক বিক্রির টাকা সংগ্রহ করতেন তারই কথিত ভাতিজা এস এম মজিবুর রহমান।"
অনুসন্ধানে বাবুলের কোটি কোটি টাকার সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়; ঢাকার বসিলা-কেরানীগঞ্জ সড়কের পাশে মিলেনিয়াম সিটি সংলগ্ন সাড়ে পাঁচ শতাংশের দৃষ্টিনন্দন প্লট, গাজীপুরের মাওনায় মার্কেট এবং কালিয়াকৈরে সাড়ে সাত শতাংশ জমি। বাবুলের গ্রামের বাড়ি স্থানীয় রামেরকান্দি বাজারে তিন বছর আগে দোকান কিনেছেন। নিজ এলাকায় আট(৮) বিঘা জমি এবং দুটি (২) টি মাছের ঘের। এসব সম্পত্তি তিনি ২০১৭ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে কিনেছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাবুল মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে মেসেজ করা হলে মেসেজ দেখেও কোনো বক্তব্য দেননি।
এমএসএম / এমএসএম
নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের উদ্বেগ ও মুক্তির দাবি
মানুষের অধিকার ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি)
উত্তরায় ১৮ লাখ টাকার মদ-বিয়ারসহ গ্রেপ্তার ২
পরিকল্পিত অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা চলছে: এডিসি শামীম
বায়তুল মোকাররমে শুরু মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা
রাজউকের মোবাইল কোর্টে ৪ ভবনে অভিযান, জব্দ ৪ বৈদ্যুতিক মিটার
ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন ছাত্রনেতা আবু তৈয়ব
উত্তরা ১১ নং সেক্টর সোসাইটির উদ্যোগে মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু
লিডস করপোরেশন ও বশির সিন্ডিকেটের হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ !
রাখি বাদ, আ: লীগের আইন সহায়ক কমিটিতে জামায়াত পরিবারের হিরণ!
উত্তরায় মাদকবিরোধী অভিযান: ১৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো অভিভাবক সমাবেশ ও স্বপ্নসভা