ঢাকা সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

রাজউকের পরিদর্শনে পাঁচ হাসপাতালে গুরুতর অনিয়ম


সিনথিয়া পপি photo সিনথিয়া পপি
প্রকাশিত: ৫-৭-২০২৬ রাত ৯:২৪

 রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন এলাকায় হাসপাতালগুলোর নকশা অনুমোদন, ভবনের ব্যবহার এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১ ও ২ জুলাই ২০২৬ জোন-৭ কার্যালয়ের আওতাধীন রায়েরবাগ, ওয়ারী ও সূত্রাপুর এলাকায় পাঁচটি হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়।
পরিচালক (জোন-৭) মোঃ মাইনুল আবেদীনের নেতৃত্বে এবং অথরাইজড অফিসার-৭/১ প্রকৌশলী মোঃ ইলিয়াসসহ রাজউকের অন্যান্য কর্মকর্তার অংশগ্রহণে পরিচালিত এ পরিদর্শনে হাসপাতালগুলোর অনুমোদিত নকশা, ভবনের ব্যবহার এবং জাতীয় বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুযায়ী অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

পরিদর্শনকালে ফায়ার সিঁড়ি, ফায়ার ডোর, ফায়ার হাইড্রেন্ট, ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর, অগ্নি নির্দেশক চিহ্ন, জরুরি আলো, ফায়ার এক্সটিংগুইশারসহ বাধ্যতামূলক অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামের উপস্থিতি ও কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। পরিদর্শনে পাঁচটি হাসপাতালেই বিভিন্ন মাত্রার নকশাগত অনিয়ম, অনুমোদিত ব্যবহারের ব্যত্যয় এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর ঘাটতি ধরা পড়ে।

রাজধানীর কদমতলী থানার সামনে রায়েরবাগ এলাকায় অবস্থিত ইসলামিয়া হাসপাতাল বাংলাদেশ-এর ১০ তলা ভবনে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। রাজউকের কোনো অনুমোদিত নকশা ছাড়াই ভবনটি হাসপাতাল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ভবন কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত নকশা প্রদর্শন করতে পারেনি। এছাড়া আবাসিক শ্রেণির জমিতে বাণিজ্যিকভাবে হাসপাতাল পরিচালনার বিষয়টিও পরিদর্শনে উঠে আসে। ভবনটিতে ফায়ার এক্সিট সিঁড়ি, ফায়ার ডোর, ফায়ার হাইড্রেন্ট, ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর, অগ্নি নির্দেশক চিহ্ন, জরুরি আলো ও ফায়ার এক্সটিংগুইশারসহ প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট একই বিষয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলেও ভবন মালিক এখনো কোনো সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে হাসপাতালটি এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে।

সূত্রাপুরের ওয়াল্টার রোডের ৪/১ নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত মিলেনিয়াম স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেড রাজউকের অনুমোদন নিয়ে ভবন নির্মাণ করলেও বর্তমানে অনুমোদিত ব্যবহারের ব্যত্যয় ঘটিয়ে হাসপাতাল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। নিচতলার নির্ধারিত গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান দখল করে সেখানে রিসেপশন, জরুরি বিভাগ ও প্রশাসনিক অফিস স্থাপন করা হয়েছে। ভবনটিতে ফায়ার সিঁড়ি, ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর ও অগ্নি নির্দেশক চিহ্ন নেই। এছাড়া বেইজমেন্টে গাড়ি পার্কিংয়ের পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণ এবং নামাজের স্থান রাখা হয়েছে। ভবনের সামনে ও পেছনের দুটি ভবনের মাঝখানে থাকা একটি নড়বড়ে সিঁড়িকে ফায়ার এক্সিট হিসেবে দেখানো হলেও তা জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী বলে পরিদর্শন টিমের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।

সূত্রাপুরের আর এম দাস রোডের ১০৮ নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত ক্যাপিটাল জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেড-এর ভবনটি রাজউকের অনুমোদন অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য হলেও বর্তমানে হাসপাতাল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ভবনটিতে ফায়ার সিঁড়ি, ফায়ার ডোর, ফায়ার হাইড্রেন্ট, ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর, জরুরি আলো এবং অগ্নি নির্দেশক চিহ্নের মতো ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থারও অনুপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে, যা রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

ওয়ারীর হেয়ার স্ট্রিট রোডের ১১১/১ নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত নিবেদিতা শিশু হাসপাতাল অনুমোদিত সাততলা আবাসিক ভবন হলেও বর্তমানে শিশু হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবনটিতে ফায়ার সিঁড়ি, ফায়ার ডোর, ফায়ার হাইড্রেন্ট, ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর ও অগ্নি নির্দেশক চিহ্ন নেই।
এছাড়া ওয়ারীর ৪৪/এ নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত সালাউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতাল পরিদর্শনে দেখা যায়, ভবনটি আবাসিক, বাণিজ্যিক ও হাসপাতাল তিন ধরনের ব্যবহারেই পরিচালিত হচ্ছে। ভবনটিতে ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর, অগ্নি নির্দেশক চিহ্ন ও জরুরি আলোর ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। জরুরি নির্গমন পথ বাধামুক্ত নয় এবং ফায়ার ডোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয় না। টানা দুই দিনের পরিদর্শনের পরও ভবন কর্তৃপক্ষ রাজউকের অনুমোদিত নকশা প্রদর্শন করতে পারেনি।

রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, পরিদর্শনকৃত পাঁচটি হাসপাতালেই অনুমোদিত ব্যবহারের ব্যত্যয় এবং জাতীয় বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুযায়ী বাধ্যতামূলক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর ঘাটতি পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত নজরদারিতে রাখা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনিয়ম সংশোধন না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতাল নির্মাণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রকৌশলী, স্থপতি এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা পর্ষদ কোনোভাবেই তাদের দায় এড়াতে পারেন না। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নকশাবহির্ভূত ও অগ্নিনিরাপত্তাহীন হাসপাতাল পরিচালনা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির কারণ হতে পারে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে রাজউকের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এমএসএম / এমএসএম

রাজধানীর ভাটারায় ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবী

উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসাসেবা পেলেন নারী-পুরুষ ও শিশু

১৫ বছরের সংসার ভেঙে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ার অভিযোগ: ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে বিচারের দাবি

নৈতিকতার চরম অবক্ষয় চলছে, রাষ্ট্রের আদর্শ পরিবর্তন জরুরি: হেযবুত তওহীদের কর্মী সম্মেলনে ইমাম সেলিম

কামরাঙ্গীরচরে ২৫ পরিবারের বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে স্কুল গঠন

ভাটারায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে মামা-ভাগনির মৃত্যু

গুলশান এলাকায় পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রাজউক ও গুলশান সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে টাউন হল সভা অনুষ্ঠিত

মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও পেট্রো-ডলারের আধিপত্য ভাঙার নতুন বার্তা: ইনসাফ গার্ডের স্মরণসভা

জালালাবাদ গোল্ড অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত জবির কৃতী শিক্ষার্থী কাওছার

আটাব নির্বাচন ঘিরে নতুন বিতর্ক, ভোটার তালিকা বাতিল ও পুনঃতফসিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

আশ শিফা দিয়ামনি ই কমিউনিকেশন স্টার অ্যাওয়ার্ড এ পুরস্কৃত হলেন খন্দকার রুহুল আমিন সিআইপি

রাজউকের জোন-৭/১ এলাকায় মোবাইল কোর্ট: ৪ ভবনে অভিযান, ৩টি বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ, ২ লাখ টাকা জরিমানা