গৃহবধূ স্বর্ণা হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও আসামিদের ফাঁসির দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে বিশাল মানববন্ধন
রাজধানীর পল্লবীতে যৌতুকের দাবিতে নির্মম নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা গৃহবধূ সুরাইয়া আক্তার স্বর্ণা (২২) হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে তার পরিবার ও সচেতন নাগরিক সমাজ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘সচেতন নাগরিকবৃন্দ’-এর ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং শত শত এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব সংলগ্ন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আদালত ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল রাতে পল্লবী থানার সেকশন-১১, ব্লক-সি, রোড-১১, লাইন-১৭, বাসা-০৬ নম্বরের নিজ ফ্ল্যাটে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। বিয়ের পর থেকেই স্বর্ণার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রায়শই তার ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন সকালে যৌতুকের টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে স্বর্ণাকে পিটিয়ে এবং গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তারা স্বর্ণার মরদেহ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে এটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বর্ণার মা মোসাঃ মনোয়ারা বাদী হয়ে ঢাকার সি.এম.এম আদালত নং-২৩ (পল্লবী আমলী)-এ দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় পরিকল্পিত হত্যা ও সহায়তার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন (সি.আর মামলা নং-৪৮৯/২০২৩)। মামলার আসামিরা হলেন—স্বর্ণার স্বামী মো. নাসির হোসেন মোমিন (২৭), ভাসুর মো. নাদিম (৩১), ভাসুর মো. শিমুল (২৮), শ্বশুর মো. জিয়াউল হোসেন বাবু (৫৫) এবং শাশুড়ি মোসাঃ সালমা খাতুন বেবি (৫০)।
প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বর্ণার মা ও মামলার বাদী মোসাঃ মনোয়ারা বলেন, “ওরা আমার নিষ্পাপ মেয়েটাকে যৌতুকের জন্য শেষ করে দিল! পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে মেরে, এখন লাশ ঝুলিয়ে রেখে বলছে ও নাকি আত্মহত্যা করেছে! খুনিরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, আমি প্রশাসনের কাছে হাত জোড় করে মিনতি করছি—তাদের যেন দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসি নিশ্চিত করা হয়।” এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকেরা প্রশাসনের কাছে অনতিবিলম্বে ৩টি দাবি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো—সুরাইয়া আক্তার স্বর্ণার হত্যাকারী ও মামলার এজাহারভুক্ত সকল আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার, কোনো প্রকার প্রভাব বা পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো গৃহবধূকে এভাবে যৌতুকের বলি হতে না হয়। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পল্লবী ও স্থানীয় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এমএসএম / এমএসএম
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো অভিভাবক সমাবেশ ও স্বপ্নসভা
ড্যাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান মোল্লার ইন্তেকাল
মোংলায় ভূমি দখল ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএনসিসির ১,৫০০ সদস্য মাঠে
প্রাণিসম্পদকে পূর্ণাঙ্গ সেক্টর করার দাবি ভ্যাব-এর মহাসচিব ডা. কবির উদ্দিন আহমেদের
বাংলাদেশ বিক্রয় পেশাজীবী এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় (আংশিক) কমিটি ঘোষণা
বাংলা ভাষায় সুফি তাফসিরের একাডেমিক পরিসর বিস্তারের আহ্বান
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে আনসার সদস্যদের সতর্কতায় দুই চোর আটক
ভেটেরিনারি ডক্টরস' এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভ্যাব)-এর শোকবার্তা
কাস্টমসের বাধ্যতামুলক অবসরপ্রাপ্তদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি
ফেব্রিকের চালান, ভেতরে ১,৬৫৫ দামি মোবাইল জব্দ