কৃত্রিম প্রজনন প্রকল্পে ৪৩৩ কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ চাইল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ভ্রূণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন, প্রকল্পে শত শত কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে তথ্য-প্রমাণ চেয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুবিভাগ থেকে ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা এক স্মারকে (স্মারক নং-৩৩.০০.০০০০.০০০.১৩৩.২৭.০০০৩.২৫-১১) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে মতামত ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের ডায়েরি নং-৩৫৮৩, তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০২৫-এর পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয়।
স্মারকে উল্লেখিত অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পে প্রায় ৪৩৩ কোটি টাকা ব্যয় হলেও বাস্তব সুফল পাওয়া গেছে মাত্র প্রায় ১৫০ কোটি টাকার। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অনেক কাজ সম্পন্ন না হলেও ৩০ জুনের মধ্যে বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
অভিযোগে সাভার ও চট্টগ্রামে নিম্নমানের নির্মাণকাজ, সাতটি ল্যান্ড স্টেশন ও বুল স্টেশনের উন্নয়ন কাজে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো, সীমানা প্রাচীর, রাস্তা, টিউবওয়েল, পাম্প হাউস ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সংস্কারে ব্যাপক অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফরিদপুরের সড়ক নির্মাণে ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলেও সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ, চট্টগ্রাম বুল স্টেশনে দ্বৈত বিল, পশু সরবরাহ ছাড়াই বিল প্রদান, সিমেন ক্রয়ে একক ঠিকাদারকে সুবিধা প্রদান এবং প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা টিএমআরটি (ঞগজঞ) মেশিন চালু না হওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
স্মারকে আরও বলা হয়েছে, অ্যানিম্যাল আইডেন্টিফিকেশন ডাটাবেজ নির্মাণে ব্যয়ের দাবি থাকলেও বাস্তবে এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও আইটি সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে আংশিক সরবরাহ, সরবরাহ ছাড়াই বিল পরিশোধ এবং একই মালামাল রাজস্ব বাজেট ও প্রকল্প উভয় খাত থেকেই দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় অভিযোগগুলোর বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে বিস্তারিত মতামত দ্রুত পাঠাতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. জসিম উদ্দিন স্মারকের জবাব দিলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কোন মন্তব্য না করায় তা ফেরত পাঠানো হয়েছে।
প্রকল্পসূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি শুরু হয় ১ জানুয়ারি ২০১৬ সালে, শেষ হওয়ার কথা ছিলো ৩১ ডিসেম্বর ২০২০। পরে ১ম সংশোধিত হয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ সালে, তখন প্রকল্প পরিচালক ছিলো ড, মো. বেলাল হোসেন। তিনি প্রকল্প শুরু থেকে ৩০ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত ছিলেন। এখন তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধিন(বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন বিএসআইসির উপসচিব,(পরিচালক ,উৎপাদন ও প্রকৌশল) হিসাবে আছেন। তিনি মূলতো সাবেক পভাবশালী ফ্যাসিস্ট কৃষি মন্ত্রীর বোনের জামাই ছিলেন। সেই প্রভাব খাটিয়ে তিনি তখন অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। পরে তিনি ক্যাডার চেঞ্জ করে প্রসাশন ক্যাডারে চলে যান, ওই সময় প্রকল্পের পরিচালক হন ডাঃ মোঃ জসিম উদ্দিন। তিনি ৩০ মার্চ ২০২১ হতে ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত ওই প্রকল্পের পিডি ছিলেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে থেকে যে তদন্ত করা হচ্ছে সেখানে তিনি জবাব দিতে গিয়ে আগের পিডি ড. মো. বেলাল হোসেনের অনিয়মের কথা উল্লেখ করছেন। এমন কী প্রকল্পের যত অবকাঠমো উন্নয়ন করা হয়েছে তার সব কিছুই তখন তিনি করে গেছেন বলে জবাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয় ড. মো. বেলালের সাথে কথা বললে, তিনি বলেন, আমি কী করেছি না করেছি তার সবই কাগজপত্রে রয়েছে।
এ বিষয় ২য় প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. জসিম উদ্দিনের মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহজামান খানের সাথে এ বিষয় কথা বলতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি, তিনি বর্তমানে কানাডা অবস্থান করছেন, তাকে খুদে বার্তা দিলেও তিনি তার উত্তর দেননি।
এমএসএম / এমএসএম
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো অভিভাবক সমাবেশ ও স্বপ্নসভা
ড্যাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান মোল্লার ইন্তেকাল
মোংলায় ভূমি দখল ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএনসিসির ১,৫০০ সদস্য মাঠে
প্রাণিসম্পদকে পূর্ণাঙ্গ সেক্টর করার দাবি ভ্যাব-এর মহাসচিব ডা. কবির উদ্দিন আহমেদের
বাংলাদেশ বিক্রয় পেশাজীবী এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় (আংশিক) কমিটি ঘোষণা
বাংলা ভাষায় সুফি তাফসিরের একাডেমিক পরিসর বিস্তারের আহ্বান
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে আনসার সদস্যদের সতর্কতায় দুই চোর আটক
ভেটেরিনারি ডক্টরস' এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভ্যাব)-এর শোকবার্তা
কাস্টমসের বাধ্যতামুলক অবসরপ্রাপ্তদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি
ফেব্রিকের চালান, ভেতরে ১,৬৫৫ দামি মোবাইল জব্দ