রায়গঞ্জে সরকারি হাসপাতালে প্রকাশ্যে হামলা, ১৮ দিনেও অধরা হামলাকারীরা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত আনসার সদস্যকে মারধর, জরুরি বিভাগে হামলা, ভাঙচুর ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। প্রকাশ্যে সরকারি হাসপাতালের ভেতরে সংঘটিত এ ঘটনায় তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
মামলার এজাহার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মসজিদের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি ধূমপান করছিলেন। দায়িত্বরত আনসার সদস্য গিয়াস উদ্দিন ও তাঁর এক সহকর্মী তাঁদের হাসপাতাল চত্বরে ধূমপান করতে নিষেধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে গিয়াস উদ্দিন একজনকে জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে এলে কয়েকজন তাঁর কলার চেপে ধরে মারধর করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১৫ মিনিট পর ওই ব্যক্তিরা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোঁটা, কাঠের বাটাম ও ইটপাটকেলসহ হাসপাতালে প্রবেশ করে হামলা চালায়। তাঁদের ছোড়া ইটপাটকেলে জরুরি বিভাগের জানালার কাচ ভেঙে যায়। এ সময় হাসপাতালের ড্রাইভার মাহবুব হোসেন ও ইমার্জেন্সি সহকারী সবুজ হোসেন আহত হন। খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শেখ রকিব উদ্দিন আহম্মেদ বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার সময় হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো অচল থাকায় কোনো ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি। পরে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, হামলার ঘটনাটি হাসপাতাল চত্বরে প্রকাশ্যেই ঘটে। স্থানীয় লোকজন, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীর স্বজনদের সামনেই হামলা হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেকেই জড়িতদের নাম প্রকাশ করতে সাহস পাননি।
রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।”
আহত আনসার সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেন, “হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী ধূমপান করতে নিষেধ করায় প্রথমে আমার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে আমাকে মারধর করা হয়। কিছুক্ষণ পর আরও লোক এসে হাসপাতালের ভেতরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, “মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “ঘটনার পরপরই হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে, মামলার ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁদের দাবি, প্রকাশ্যে সরকারি হাসপাতালের ভেতরে সংঘটিত এ হামলার ঘটনায় দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
এমএসএম / এমএসএম
গৌরনদীতে গভীর রাতে সৌদি প্রবাসীর বাড়ির দেয়াল ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর
রূপসার ফখরুল হত্যার ঘটনায় ‘কাটাপ্পা’ গ্রেপ্তার
কাছাইট গ্রামের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান মহারাজ আর নেই
শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে পেকুয়ায় গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম
অভয়নগরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন, চার চাষিকে পুরস্কার
শ্রীনগরে মদ্যপ অবস্থায় কৃষক দল নেতার নাচগানের ভিডিও ভাইরাল
পটুয়াখালীতে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন
নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ছয় দফা দাবিতে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন-সহস্রাধিক শিক্ষার্থী-অভিভাবকের অংশগ্রহণ
উলিপুরে জাতীয় মৎস পক্ষের উদ্বোধন
মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন
চরম অনিশ্চয়তায় কাটছে কিশোর রাহুলের জীবন
বাঘায় শুরু হয়েছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬