ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কাজ শুরুর আগেই ১০০ কোটি টাকা ছাড়ের অভিযোগ

টেন্ডার শেষ হওয়ার আগেই বরাদ্দ, নাফরিজা শ্যামার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন


মো. শহিদুল ইসলাম photo মো. শহিদুল ইসলাম
প্রকাশিত: ২৮-৭-২০২৬ দুপুর ৪:১৫

জেলা হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পে আসবাবপত্র ক্রয়কে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগেই প্রায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়, যা সরকারি ক্রয়বিধি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক নাফরিজা শ্যামার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা হাসপাতালগুলোর জন্য বিপুল পরিমাণ আসবাবপত্র ও চিকিৎসা-সহায়ক সরঞ্জাম সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয় গণপূর্ত অধিদপ্তরকে। এর মধ্যে কাঠের কারখানা বিভাগ-১ প্রায় ১৫০ কোটি টাকার আসবাবপত্র ক্রয়ের টেন্ডার আহ্বান করে। পাশাপাশি বিভাগ-২ থেকেও পৃথক টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু অভিযোগ হলো, দুটি বিভাগের টেন্ডার মূল্যায়ন ও কার্যাদেশ সম্পন্ন হওয়ার আগেই প্রকল্পের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সরকারি বিধি অনুযায়ী টেন্ডার মূল্যায়ন, কার্যাদেশ এবং কাজের অগ্রগতির সঙ্গে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি সম্পৃক্ত। সেখানে কার্যাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বিপুল অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অর্থবছর শেষের আগে তড়িঘড়ি
অভিযোগ রয়েছে, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই বরাদ্দ নিশ্চিত করতে অস্বাভাবিক তৎপরতা চালানো হয়। সরকারি হিসাব নিষ্পত্তির সময়সীমার আগে অর্থ ছাড়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার আগেই বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

সূত্রগুলোর দাবি, প্রকল্প পরিচালক নাফরিজা শ্যামার বিদেশ সফরের আগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অনুকূলে ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়।
সর্বনিম্ন দরদাতা বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ
টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেডকে অধিকাংশ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আটটি কাজের মধ্যে মাত্র একটি কাজ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি সাতটির সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
হাতিলের অভিযোগ, অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তারা মনে করছে, এতে সরকার কম মূল্যে কাজ পাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হতে পারে।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ৮ জুন হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি মো. রেজাউল করিম গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনপত্রে দরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ

বিষয়টি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের কাছেও উপস্থাপন করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চান। পরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কর্মকর্তারা দাবি করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি এবং সব কার্যক্রম সরকারি বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। সূত্র জানায়, মন্ত্রী সেই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেন।
তবে অভিযোগকারীরা বলছেন, দরপত্র মূল্যায়ন, কার্যাদেশ এবং অর্থ বরাদ্দ প্রতিটি ধাপেই অনিয়মের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে এবং বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, বরাদ্দ অনুমোদনের বিনিময়ে তিন শতাংশ কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অর্থ সংগ্রহে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক নির্বাহী প্রকৌশলী মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন। এমনকি কমিশনের অর্থ বিদেশে পৌঁছে দেওয়ার কথাও ঠিকাদারদের জানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
কী বললেন প্রকল্প পরিচালক
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রকল্প পরিচালক নাফরিজা শ্যামা প্রথমে বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে টেন্ডার চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। এরপর ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
তদন্তের দাবি
সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় প্রকল্পে দরপত্র মূল্যায়ন, কার্যাদেশ এবং অর্থ ছাড়ের প্রতিটি ধাপে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ধাপে অস্বাভাবিক তাড়াহুড়া বা ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত দেখা গেলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, কাজ শুরুর আগেই ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, সর্বনিম্ন দরদাতাকে বঞ্চিত করার অভিযোগ, কমিশন বাণিজ্যের দাবি এবং পুরো অর্থ ছাড় প্রক্রিয়া সবকিছু স্বাধীন তদন্তের আওতায় এনে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। কারণ স্বাস্থ্য খাতের এ বৃহৎ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা রাষ্ট্রীয় অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং জনস্বার্থউভয়ের ওপরই গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

এমএসএম / এমএসএম

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো অভিভাবক সমাবেশ ও স্বপ্নসভা

ড্যাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান মোল্লার ইন্তেকাল

মোংলায় ভূমি দখল ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএনসিসির ১,৫০০ সদস্য মাঠে

প্রাণিসম্পদকে পূর্ণাঙ্গ সেক্টর করার দাবি ভ্যাব-এর মহাসচিব ডা. কবির উদ্দিন আহমেদের

বাংলাদেশ বিক্রয় পেশাজীবী এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় (আংশিক) কমিটি ঘোষণা

বাংলা ভাষায় সুফি তাফসিরের একাডেমিক পরিসর বিস্তারের আহ্বান

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে আনসার সদস্যদের সতর্কতায় দুই চোর আটক

ভেটেরিনারি ডক্টরস' এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভ্যাব)-এর শোকবার্তা

কাস্টমসের বাধ্যতামুলক অবসরপ্রাপ্তদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি

ফেব্রিকের চালান, ভেতরে ১,৬৫৫ দামি মোবাইল জব্দ

বদলি-স্থগিতের পর ফের ঢাকায় ফেরার চেষ্টা