ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতু ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তুহিনের ‘চা খরচ’ লাখ টাকা!


বেলাল উদ্দিন photo বেলাল উদ্দিন
প্রকাশিত: ২-৮-২০২৬ দুপুর ৪:৪২

দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের আওতাধীন শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) সংলগ্ন পুলিশ বক্সকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। অনুসন্ধান ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘চা খরচ’ নাম দিয়ে বিভিন্ন দূরপাল্লার পরিবহন, অবৈধ যানবাহন ও স্থানীয় রুটের গাড়ি থেকে নিয়মিতভাবে এই টাকা আদায় করা হচ্ছে। এই বিশাল অংকের লেনদেনের বিপরীতে দেওয়া হয় না কোনো সরকারি রসিদ, কিংবা জমা হয় না সরকারি কোষাগারে। পুরো অর্থই ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​অনুসন্ধানে দেখা যায়, শাহ আমানত সেতু পুলিশ বক্সকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সুনির্দিষ্ট ও সুসংগঠিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা একে প্রকাশ্যে ‘চা খরচ’ বললেও বাস্তবে এটি একটি নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায় ব্যবস্থা। মাঠপর্যায়ে নির্দিষ্ট কয়েকজন সংগ্রাহক বা লাইনম্যানের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তা ট্রাফিক পুলিশ বক্সে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই অর্থ না দিলে মামলা, গাড়ি আটকে রাখা কিংবা অভিযানের ভয় দেখিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।

গোপন অনুসন্ধান ও সংগৃহীত তথ্যে উঠে এসেছে চাঁদা আদায়ের চাঞ্চল্যকর সব চিত্র। অবৈধভাবে চলাচলকারী ঈগল পরিবহনের ছয়টি লাইন থেকে ফাহিম নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে পুলিশ বক্সে পৌঁছে দেওয়া হয়। চাঁদা সংগ্রহের বিষয়ে মাঠপর্যায়ের সংগ্রাহকদের বক্তব্য ও স্বীকারোক্তি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা রয়েছে এবং এর ভিডিও ফুটেজ অনুসন্ধানকারী দলের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

একইভাবে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে চলাচলকারী প্রায় ৩০টি দূরপাল্লার পরিবহন থেকে পরিবহনভেদে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন ব্রিজ এলাকায় কাউন্টার পরিচালনা করা নামীদামি বাস সার্ভিস—যেমন সৌদিয়া, মারসা, এস আলম, হানিফ, পূরবী ও স্বাধীন ট্রাভেলসসহ বিভিন্ন পরিবহন থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘চা খরচ’ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবহনসংশ্লিষ্টদের দাবি অনুযায়ী, হারুন নামে এক ব্যক্তি মাঠপর্যায় থেকে এসব টাকা সংগ্রহ করেন এবং শুধুমাত্র এই বড় পরিবহনগুলো থেকেই মাসে আনুমানিক ২ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

বড় পরিবহনের পাশাপাশি স্থানীয় রুটের ছোট ও অবৈধ যানবাহন থেকেও সমানে চলছে অর্থ আদায়। নতুন ব্রিজ এলাকায় চলাচলকারী অবৈধ গ্রাম সিএনজি থেকে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা, নতুন ব্রিজ-নিউমার্কেট রুটের মাহিন্দ্রা থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা, নতুন ব্রিজ-ওয়াসা রুটের মাহিন্দ্রা থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা, নতুন ব্রিজ-পটিয়া শান্তিরহাট রুটের অবৈধ মিনিবাস থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা এবং নতুন ব্রিজ-আগ্রাবাদ রুটের ৪ নম্বর বাস থেকে মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

​সব মিলিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে শাহ আমানত সেতু পুলিশ বক্সকে কেন্দ্র করে প্রতি মাসে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা বা তারও বেশি অবৈধ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এই সুবিশাল অংকের লেনদেনের কোনো অফিশিয়াল নথি, সরকারি রসিদ বা হিসাব কোথাও নেই। পরিবহন মালিকদের অভিযোগ, নির্ধারিত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা বিলম্ব হলে বিভিন্ন অজুহাতে গাড়ি আটকে রাখা হয় এবং মামলার মাধ্যমে হয়রানি করা হয়। ফলে বাধ্য হয়েই তারা প্রতি মাসে এই অর্থ তুলে দেন সংগ্রাহকদের হাতে।

​অনুসন্ধান থেকে আরও জানা যায়, এই পুরো চাঁদা আদায় প্রক্রিয়াটি কয়েকজন নির্দিষ্ট লাইনম্যান ও সংগ্রাহকের হাত ঘুরে সরাসরি পৌঁছায় শাহ আমানত সেতু পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তুহিন আহমদের কাছে। পরিবহন খাত থেকে সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নির্দিষ্ট বিরতিতে তাঁর নিকট হস্তান্তর করা হয় বলে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেছেন।

​এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ অর্থ আদায়ের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। পরিবহন পরিচালনায় অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হওয়ায় মালিকরা ভাড়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন, যার চূড়ান্ত ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা। পাশাপাশি, বিপুল পরিমাণ অর্থ রসিদবিহীনভাবে হাতবদল হওয়ায় সরকার এক বিশাল অঙ্কের সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তুহিন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ফোন কল কেটে দেন। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি এখানে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছি। আপনি একটি নিউজ করে দেন। আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলে রেখেছি, আমি এখান থেকে চলে যাব। একই জায়গায় দীর্ঘদিন থাকলে টুকটাক এমন সমস্যা হয়।"

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা মাসিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে প্রতিবেদকের নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) জনাব মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান, পিএসসি বলেন, আপনাদের কাছে এ-সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ থাকলে আমার কার্যালয়ে নিয়ে আসুন। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএসএম / এমএসএম

দুর্গাপূজা ঘিরে সম্প্রীতির আহ্বান, সাংবাদিকদের সঙ্গে কল্যাণ ফ্রন্টের মতবিনিময়

চাঁদপুরে দুই আড়তদারের জরিমানা, ইলিশ ও নিষিদ্ধ কারেন্টজাল জব্দ

কালকিনিতে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ একাধিক মামলার আসামি গ্রেফতার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন, ফসলী জমি ও বসতবাড়ি রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

চন্দনাইশে চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের দাপট: কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাসিন্দারা

টুঙ্গিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে ৫২ মাঠকর্মীকে প্রশিক্ষণ

অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন

দৈনিক সকালের সময় নিউজের জেরে ভরাট হচ্ছে রাস্তা

বাগেরহাটে ৫ হাজার মিটার জাল ধ্বংস অবৈধ জাল বিক্রেতাকে অর্থদন্ড

টুঙ্গিপাড়ায় দুর্ঘটনার কবলে ঢাকাগামী বাস, হতাহত নেই

আধুনিকতার ছোঁয়ায় মার্বেলের নিখুঁত নিশানা আজ শুধুই স্মৃতি

কুড়িগ্রামে অধ্যক্ষ জমি ও টাকার বিনিময়ে চাকুরী দিলেন, অভিযোগ এলাকাবাসীর

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ