গুরুদাসপুরে পাট ধোয়ায় ব্যস্ত কৃষক, বিলাঞ্চলে সোনালী আঁশের সুবাস
বর্ষার পানিতে টইটম্বুর খাল-বিল। চারিদিকে সবুজের সমারোহ, বাতাসে ভাসছে কাদামাটির গন্ধ। সেই প্রকৃতির বুকজুড়ে এখন ভেসে বেড়াচ্ছে সোনালি আঁশের সুবাস। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল ও জলাশয়ে এখন চলছে পাট ধোয়ার শেষ মুহুর্তের ব্যস্ততা। ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় পাট ধোয়ার কাজ। চলে সূর্য ডোবা পর্যন্ত। কোমরসমান পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কৃষকরা ধুয়ে নিচ্ছেন পাট, আলাদা করছেন সোনালি আঁশ। তাদের ঘাম, শ্রম আর স্বপ্নে যেন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পাটচাষ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগে জাগ দেওয়া পাট একে একে তোলা হচ্ছে পানি থেকে। এরপর খাল-বিলের স্বচ্ছ পানিতে ধুয়ে আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। কোথাও পরিবারের সবাই মিলে, কোথাও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় আবার কোথাও শ্রমিক দিয়ে চলছে এ কাজ। পানির ঢেউ, আঁশ ছাড়ানোর ছন্দ আর কৃৃষকদের হাসি-আনন্দ মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গ্রামবাংলার এক চিরচেনা মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
পোয়ালশুরা দড়িপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম, হান্নান, শাহ আলম, বখতিয়ার উদ্দিন, সাইফুলসহ কয়েকজন বলেন, “এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। “পাটের ভালো আঁশ পেতে সময়মতো জাগ দেওয়া ও ধোয়া খুবই জরুরি। আবহাওয়া ভালো থাকায় কাজ দ্রুত শেষ করা যাচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়েছে, এতে উৎপাদন খরচও বেড়েছে।”
কৃষকরা আারো বলেন, বর্তমানে একজন দিনমজুরের মজুরি প্রায় ১ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে পাট চাষ থেকে বাজারজাত পর্যন্ত খরচ হয় প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘায় গড়ে ১০ মণ পাট পাওয়া যায়। কিন্তু বাজারে প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তাতে উৎপাদন খরচ বাদ দিলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছে। তাই ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও বাজার ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় পাট ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “বর্ষার এই সময়টায় কৃষকরা নতুন পাট ধুয়ে বাজারে আনতে শুরু করেছেন। ভালোভাবে ধোয়া ও শুকানো পাটের চাহিদা সব সময় বেশি থাকে। এবার আঁশের মানও ভালো দেখা যাচ্ছে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম আরও কিছুটা বাড়লে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি বাজারেও ভালো মানের পাটের সরবরাহ বাড়বে।”
গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে.এম রাফিউল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে ৩৮০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় রোগবালাই কম হয়েছে। পাটের ফলন ও ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আঁশের মানও উন্নত হয়।” এছাড়াও “বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পাটের চাহিদা বাড়ছে। সে কারণে মানসম্মত পাট উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
জেলা বিএনপির সদস্য ফারুক আহমেদের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থী শিপনের সৌজন্য সাক্ষাৎ
সাভারে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা
মুকসুদপুরে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের অভিযোগ
চাঁদপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও ক্লাস বর্জন
অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে রেল প্রতিমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
আদমদীঘিতে ৬টি পুকুরে ২৮৬ কেজি মাছ অবমুক্ত করলেন এমপি মহিত তালুকদার
বাকৃবিতে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও এগ্রিবিজনেস শিক্ষা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রকল্প
তিস্তা সমবায় সমিতির অনিয়ম প্রকাশে মামলা: মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে লালমনিরহাটে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
দুমকীতে কলেজ মাঠ থেকে মেশিনগানের কার্তুজ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ
ঢাবি’র নবীন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু
বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতির বিরুদ্ধে দলীয় কর্মীকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল
গোদাগাড়ীতে সীমানা পিলার উপড়ে বসতভিটা দখলের চেষ্টা, থানায় জিডি