বারহাট্টার বিস্তির্ণ মাঠ জুড়ে আমন ধানে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা
আমন ধান রোপণের ভরা মৌসুমে বারহাট্টা উপজেলার বিস্তির্ণ মাঠ জুড়ে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধান রোপণের ব্যস্ততা। সোনালি ফসলের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করছেন কৃষকরা। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ায় তাদের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে রূপান্তরিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি জোরদার করার দাবি তাদের।
সপ্তাহ জুড়ে সরেজমিনে উপজেলা সদরসহ, চিরাম, বাউসী, সাহতা, রায়পুর ও সিংধা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রচণ্ড গরম আর বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি আমন ধানের জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত কৃষকরা। কেউ ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছেন, কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, কেউবা কোমর সমান কাদামাটিতে নেমে ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত, অনেকে আবার অনেকে জমি পরিষ্কার ও পরিচর্যার কাজ করছেন। কৃষকদের আশা, প্রকৃতির অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের মাধ্যমে সোনালি স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।
উপজেলা সদরের কাশবন এলাকার কৃষক অবনী ক্ষত্রিয়, অরুণ সরকার, সাহতা এলাকার কৃষক জামাল মিয়া, রিটন শেখ, রায়পুর এলাকার জীবন সরকার, কামাল হোসেন, বাউসী এলাকার জজ মিয়া, রিপন তালুকদারসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন কৃষকের সাথে তারা সকালের সময়কে বলেন, বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে আমরা আমন চাষ করে থাকি। আষাঢ় মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষার শুরুতে বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় শ্রাবণের শেষের দিকে আমাদের এলাকায় পুরোদমে আমন চাষ শুরু হয়েছে। আমন ধান চারা রোপণের উপযোগী করে জমি চাষ শেষে চারা রোপণের কাজ করছি। আশা করছি, এ বছর লাভের মুখ দেখতে পারব। তবে আমাদের এই আশার মাঝেও রয়েছে দুশ্চিন্তা। সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। তারপরও ভালো ফলনের প্রত্যাশায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন সুলতানা জানান, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১৫ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর বর্ষার শুরুতে বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় রোপা আমন লাগাতে দেরি হয়েছে কৃষকদের। এ এলাকার কৃষকদের আতব, ব্রি-৯৫, বিনা-১৭, স্বর্ণা-৫, ব্রি-৭১, ব্রি-৭৫, ব্রি-৪৯সহ বেশ কয়েকটি জাতের ধান রোপণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সার ডিলাররা কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী রাসায়নিক সার তাদের গুদামে আগাম মজুত রেখেছে। বিএডিসি তালিকাভুক্ত রাসায়নিক সারের ডিলারদের মাধ্যমেই কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি এবং এমওপি সার সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষকদের আমন চাষে রাসায়নিক সারের কোনো ধরনের ঘাটতি না হয় এবং বাজারে যেনো সারের কোন ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। এজন্য বাজারে সারের অবাধ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিতে প্রান্তিক কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
Aminur / Aminur
সিলেটে পুলিশের ধাওয়ার মুখে সুরমায় ঝাঁপ, প্রাণ গেল ৫৮ বছর বয়সী ব্যক্তির
মান্দায় তীব্র সার সংকটে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ
সখীপুরে ধানক্ষেত থেকে নিরাপত্তাকর্মীর মরদেহ উদ্ধার
সিলেটের মাজার এলাকা থেকে কুমিল্লার নিখোঁজ ৪ শিক্ষার্থী উদ্ধার
আদমদীঘিতে ৫ মাদক কারবারির জেল-জরিমানা
সিংড়ায় সার পেতে কৃষকদের ভোগান্তি, দীর্ঘ লাইন
জিয়ানগরে পল্লী চিকিৎসক দলের সদস্য সচিব সহ দুজনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা
জুড়ীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল স্বেচাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার
ফুটপাত দখল মুক্ত করতে কোনাবাড়িতে জিসিসির উচ্ছেদ অভিযান
তেঁতুলিয়ায় ঢাকঢোল পিটিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দিলো আদালত
স্কাউটিংয়ে খুলনা অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ উপজেলা অভয়নগর, সংবর্ধিত ইউএনও
রায়গঞ্জে নতুন ইউনিয় নয় পুরাতন ইউপিতেই থাকতে চান নাগরিকেরা, প্রতিবাদে গণ সাক্ষর ও সভা অনুষ্ঠিত