লোহাগাড়ার আধুনগরে তহসিলদার শাহজাহানের ওপেন সিক্রেট ঘুষ বাণিজ্য!
দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আধুনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি এখন সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের কাছে চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের সমার্থক হয়ে উঠেছে। সরকার যখন ভূ-সেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও ডিজিটালাইজড করার মধ্য দিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই অফিসে চেপে বসেছে অনিয়ম ও দুর্নীতির এক কালো ছায়া। কার্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত সহকারী তহসিলদার শাহজাহান আক্তারের বিরুদ্ধে উঠেছে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য, নামজারিতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং দাপ্তরিক সময়ের প্রতি চরম তোয়াক্কাহীনতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। ভূ-সম্পত্তি সংক্রান্ত সামান্যতম কাজের জন্য সাধারণ মানুষকে গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা, যা সরকারি কোষাগারের পরিবর্তে সরাসরি পকেটস্থ হচ্ছে অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা ও তাঁর সিন্ডিকেটের।
অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আধুনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে স্থানীয় কোনো নাগরিক সেবা নিতে গেলেই পড়তে হয় নানা চক্রান্তের মুখে। জমিজমার নামজারি, খাজনা রসিদ নেওয়া, মিউটেশন কিংবা ভূমির অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক সনদ ও কাগজপত্র উত্তোলনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফি-এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ দাবি করা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না করলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয় এবং সৃষ্টি করা হয় নানা কৃত্রিম আইনি জটিলতা। অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে খোলাখুলি টাকা লেনদেনের এসব অনৈতিক অর্থ সরকারি কোনো রেজিস্টারে বা চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয় না। গ্রাহকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সেই অর্থ সরাসরি জমা হয় তহসিলদার শাহজাহান আক্তারের টেবিলের ড্রয়ারে কিংবা তাঁর ব্যক্তিগত ভ্যানিটি ব্যাগে। প্রকাশ্য দিবালোকে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে তাঁর ঘুষ গ্রহণের বেশ কয়েকটি ভিডিও চিত্র ইতিমধ্যেই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে, যা এই দুর্নীতির ভয়াবহতাকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত করে।
শুধু অর্থ আত্মসাতই নয়, কর্মস্থলে শাহজাহান আক্তারের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও মিলেছে চরম স্বেচ্ছাচারিতার প্রমাণ। সরকারি নিয়মনীতি এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টায় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দাপ্তরিক কার্যাদি পরিচালনা করার কথা থাকলেও, তিনি অধিকাংশ সময়ে বেলা ১১টার পর অফিসে আসেন। অফিস খোলার নির্ধারিত সময়ে দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে বা বিভিন্ন যানবাহনে চেপে আসা সেবা প্রার্থীরা এসে দেখতে পান মূল ফটকে ঝুলছে তালা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার পর অবশেষে যখন কর্মকর্তা আসেন, তখনও সেবার গতি বাড়ে না বললেই চলে। অফিসের মূল কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় প্রতিদিন ব্যাহত হচ্ছে ডজন ডজন জরুরি জমি সংক্রান্ত কাজ, স্থবির হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
অভিযোগের করুণ বাস্তবতা ফুটে উঠে ক্ষুব্ধ ও ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষের বক্তব্যে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর হতাশ হয়ে ফিরে যাওয়া স্থানীয় সেবা প্রার্থী সারজিনা সোলতানা নিজের চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত বৃহস্পতিবার তিনি অত্যন্ত জরুরি একটি কাজের জন্য সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অফিস বারান্দায় অপেক্ষা করেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তহসিলদার না আসায় শেষ পর্যন্ত কাজ না করেই তাঁকে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। পরবর্তীতে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রবিবারেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে; বেলা ১১টা ২০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও তহসিলদারের দেখা মেলেনি। অফিসে এসে প্রায় সময়ই তালা ঝুলতে দেখা যায় আর উনি আসার পরও ধীরগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলতে দীর্ঘ ভোগান্তি পোহাতে হয়। অন্যদিকে এলাকার সচেতন বাসিন্দা মাইনুদ্দিন হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে যদি এমন চরম অনিয়ম ও গাফিলতি দেখা যায়, তবে সাধারণ জনগণ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এবং কীভাবে সঠিক সেবা পাবে। এমন দুর্নীতিগ্রস্ত পরিস্থিতি বজায় থাকলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা পুরোপুরি ধসে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এই কার্যালয়ের এমন হযবরল অবস্থা ও প্রকাশ্যে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় পুরো লোহাগাড়া উপজেলা জুড়ে সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এমন অর্থকদর্যতা ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অবসান চান। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে এক নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এই ঘটনার সুষম তদন্ত দাবি করেছেন। সেই সাথে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত সহকারী তহসিলদার শাহজাহান আক্তারের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এবং লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এ সকল গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত সহকারী তহসিলদার শাহজাহান আক্তার নিজেকে অসুস্থ দাবি করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করার কথা জানান। তবে প্রতিবেদকের হাতে থাকা প্রকাশ্যে অর্থ গ্রহণের ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য নথির বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।
আধুনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এই অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন-এর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের পাশাপাশি WhatsApp-এ সংশ্লিষ্ট তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়ে একাধিকবার বক্তব্য চাওয়া হয়। কিন্তু তথ্য-প্রমাণ হাতে পৌঁছানোর পরও তিনি কোনো জবাব বা ব্যাখ্যা দেননি। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য না দিয়ে নীরব থাকা সংবাদকর্মীর সঙ্গে দায়িত্বহীন আচরণ বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
নড়াইলে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন
মধুখালীতে জাতীয় মৎস পক্ষ উপলক্ষে নানা আয়োজন
সিংড়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন
নবীনগরে শিবপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহার
সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৪ নেতা গ্রেফতার
পেকুয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ পালিত
মেহেরপুরে বিএনপি নেতার বাড়ির পাশে পড়েছিল ২টি বো/মা সদৃশ বস্তু
কুতুবদিয়ায় প্লাস্টিক দূষণ রোধে সচেতনতা র্যালি, সভা, ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত
নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার বন্ধ করলে দুই বছরের মধ্যে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে
গজারিয়া গোল্ডকাপ ফুটবলে ৫-৪ গোলে বাউশিয়া ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পালিত হলো জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬
উলিপুরে খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত