জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাদপড়া প্রধান শিক্ষকরা বৈষম্যের শিকার: গেজেটে অন্তর্ভুক্তির জোরালো দাবি
জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে দায়িত্ব পালনকারী বাদপড়া প্রধান শিক্ষকদের “প্রধান শিক্ষক” পদেই গেজেটভুক্তির জোর দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক গেজেট থেকে বাদপড়া প্রধান শিক্ষক ঐক্যজোট’। এই ন্যায়সংগত দাবি আদায়ে ইতোমধ্যে মহাপরিচালক, সচিব, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও নীতিনির্ধারকদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
সর্বশেষ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরকালে (০২ মে ২০২৩) সংগঠনের বিভাগীয় আহ্বায়ক নাদিরা সুলতানা প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সরাসরি স্মারকলিপি প্রদান করে দীর্ঘদিনের এই চরম প্রশাসনিক অবহেলা ও বৈষম্য নিরসনে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির আবেদন জানান।
বেসরকারি উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, পরিচালনা ও নিবন্ধনের শর্ত ও নীতিমালা অনুযায়ী এসব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) কর্তৃক বিধিমোতাবেক প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। এসব শিক্ষক অনার্স, মাস্টার্স, ডিগ্রি কিংবা কামিল পাস করার পাশাপাশি পরবর্তীতে ডিপিএড/সিইনএড/বিটিপিটি প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সকল শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসব বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের পাঠদানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
বৈষম্য ও জটিলতার মূল কারণ
২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি সরকার সারাদেশের ২৬,১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, মহামান্য রাষ্ট্রপতির নির্দেশনায় জারিকৃত প্রজ্ঞাপন ও নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রধান শিক্ষকদের পদ বাতিল করা হয়।
পরবর্তীতে ০১/১২/২০১৬ তারিখের প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং-৩৬.০০.০০০.০০৭.১৫.০০৪.১৮-৪০৮) ২য় ধাপ এবং ১৫/০৩/২০১৮ তারিখের প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং-৩৬.০০.০০০.০০৭.১৫.০০৪.১৭-৬৬) ৩য় ধাপে প্রধান শিক্ষকদের নাম কেবল ‘সহকারী শিক্ষক’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়। ১ম ধাপের কিছুসংখ্যক শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হিসেবে গেজেট পেলেও ১ম ধাপের বাকি অংশ এবং ২য় ও ৩য় ধাপের কোনো শিক্ষককেই প্রধান শিক্ষক পদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বাধ্য হয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা আদালতের শরণাপন্ন হন, যা বর্তমানে হাইকোর্ট, আপিল বিভাগ ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১ম ধাপের শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত মামলা (রিট পিটিশন নং- ১৪৫৪৪/২০১৭, যা বর্তমানে সিভিল আপিল ৭৩/২০২৩) রায় হয়েছে, যার সাথে বাদপড়া প্রধান শিক্ষকদের সরাসরি গেজেটভুক্তির দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।
শিক্ষক নেতারা জানান, “সংবিধানের ১৩৫ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারীর উপযুক্ত কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে পদাবনতি ঘটানো বেআইনি। প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকে তারা প্রধান শিক্ষক পদে মেধা, শ্রম ও দক্ষতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সময়ে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেছেন। তাই দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা এসব শিক্ষককে সহকারী শিক্ষক বানানো স্পষ্ট সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন।”
ঐক্যজোটের ৪ দফা মূল দাবি:
১. প্রধান শিক্ষক পদে গেজেটভুক্তি: জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন বাদপড়া প্রধান শিক্ষকদের অনতিবিলম্বে “প্রধান শিক্ষক” পদেই গেজেটভুক্ত করা।
২. আদালতের রায় বাস্তবায়ন: বিদ্যমান আইন, পরিপত্র এবং মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ।
৩. বৈষম্য নিরসন: অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অবহেলা ও বৈষম্যের অবসান ঘটানো।
৪. মামলার জট নিরসন: সরকারের ঘোষিত প্রায় ৩৬,০০০ শিক্ষকের পদোন্নতি তালিকায় জাতীয়করণের এই ৩,৫০০ জন বাদপড়া শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক পদে অন্তর্ভুক্ত করে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা ও মামলার জট নিরসন করা।
সংবিধান ও প্রজ্ঞাপনের আইনি রেফারেন্সসমূহ:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৫ (২) অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্রের অসামরিক কোনো পদে কর্মরত ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর উপযুক্ত সুযোগ না দিয়ে চাকরিচ্যুত, অপসারণ বা পদাবনতি ঘটানো যাবে না।
নীতিমালা ২০০৯ (স্মারক: প্রাথমি/বিদ্যা-১/বিবিধ/৪০/০৮/০১, তারিখ: ০১/০১/২০০৯): অনুচ্ছেদ (ঘ) অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ১ জন প্রধান শিক্ষক ও ৩ জন সহকারী শিক্ষক থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
প্রজ্ঞাপন (স্মারক: ৩৮.০০৭.০১৫.০০০.০১.০০.২০১১-৪৪, তারিখ: ২০/০১/২০১৩): অনুচ্ছেদ ৪.২ (ঘ) অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে ১ জন প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জন শিক্ষকের পদ নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ গেজেট এস.আর.ও নং-৩১৫ আইন/২০১৩, Primary School (Taking Over) Act, 1974 (তারিখ: ২৯/০৯/২০১৩): অনুচ্ছেদ (জ) দফায় শিক্ষক অর্থ কোনো অধিগ্রহণকৃত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা সহকারী শিক্ষক পদে নিযুক্ত ব্যক্তি, যিনি সরকার বা ক্ষেত্রমত, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ধারাবাহিকভাবে উক্ত বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন।
আত্তীকরণ ও পদ সৃজন প্রজ্ঞাপন (স্মারক: ৩৮.০০৭.০১৫.০০০.০৩.০০.২০১৩-৩০০, তারিখ: ১২/০৮/২০১৩): অনুচ্ছেদ ৪.২ (ঘ) দফা অনুযায়ী জাতীয়করণকৃত প্রতিটি বিদ্যালয়ে ১ জন প্রধান শিক্ষক ও ৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হবে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকদের এই সৃজিত পদের বিপরীতে আত্তীকরণের পর অবশিষ্ট পদ নতুন নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
জাতীয়করণকৃত বাদপড়া প্রধান শিক্ষকদের এই পদের সাথে তাদের সম্মান ও মর্যাদা জড়িত। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই ন্যায়সংগত দাবি দ্রুত মেনে নিয়ে সমস্যা সমাধানের জোর দাবি জানানো হচ্ছে।
এমএসএম / এমএসএম
মাদরাসায় পড়েও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তানজিমুল উম্মাহ: জাহাঙ্গীর হোসেন এমপি
দ্রুত কার্গো খালাসে AI মডেল তৈরির উদ্যোগ, স্থায়ী-অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণে আলোচনা
জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাদপড়া প্রধান শিক্ষকরা বৈষম্যের শিকার: গেজেটে অন্তর্ভুক্তির জোরালো দাবি
ডেমরায় পশ্চিম বক্সনগরের বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার, আটক ২
হয়রানিমূলক মামলায় জামিন পেলেন যুবদল নেতা জাহিদ হোসেন মোড়ল
বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা রেখেছেন: শ্রমিক নেতা এয়াকুব
গত এক সপ্তাহে নিরাপদ খাদ্য আইনে ৭ প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ৭টি মামলা দায়ের
ভিত্তিহীন সংবাদের জেরে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি
রাজপথে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে স্মারকলিপি
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ইনস্টিটিউটে আনসারদের তৎপরতায় দালাল আটক, পুলিশের কাছে সোপর্দ
খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে ড্যাবের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল
বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন আয়োজিত মাদক দ্রব্যের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে যুব সমাজকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন