বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ মিটারে ভুতুড়ে বিল,নতুন মিটারে দূর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে যথাযথ বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকেনা, তবুও বিদ্যুৎ মিটারে ভুতুড়ে বিল, নতুন মিটারেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় হয়রানি, অনিয়ম- দূর্নীতিতেভরা বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। দেখার কেউ নেই। শত শত গ্রাহক প্রতিদিন নানা সমস্যা নিয়ে বাঁশখালী বিদ্যুৎ অফিসের দ্বারেদ্বারে ঘুরাঘুরি করেও কোনো সুরাহা পাচ্ছে না তারা। যথাযথ বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকেনা, কিন্তু বিলের কাগজে বিগত সময়ের তুলনায় তিন -চারগুণের বেশি বিলের বোঝা গ্রাহকদের কাঁধে তুলে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার -সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত টানা ৫ দিন যাবৎ চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বাঁশখালী জোনাল অফিসে দেখা গেছে, গত দুইমাসের চেয়ে এবার মিটারে তিন-চার গুণের অধিক বিল তুলে দেয়ার অভিযোগ নিয়ে শত শত গ্রাহক এঅফিসের দ্বারেদ্বারে ঘুরলেও কোনো সুরাহা পাচ্ছে না তারা। গ্রাহকদের অভিযোগ দৈনিক ৪/৫ ঘন্টাও বিদ্যুৎ থাকেনা, কিন্তু এরমধ্যে গত দুইমাসের তুলনায় এমাসে আরও ৩/৪ গুণের অধিক বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিসে এসেও কোনো ধরনের সুরাহা মিলছেনা। এছাড়াও নতুুন মিটার সংযোগ নিয়ে হয়রানি অভিযোগ রয়েছে অহরহ। আবেদনের বছর পেরিয়ে গেলেও পাচ্ছে না মিটার। কখনো মিটার নেই, কখনো মিটার সংযোগের তার নেই, আবার কখনো মিটার সংযোগে প্রতিবন্ধকতার অদৃশ্য অযুহাত দেখিয়ে বছরের পর বছর হয়রানি করছে ভুক্তভোগীদের। কিন্তু কে বা কারা অভিযোগ করেছে বা বাঁধা সৃষ্টি করেছে? মিটার সংযোগে বাঁধা প্রদানকারী কর্তৃক কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে কিনা? তাও স্পষ্ট করতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মিটারে ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে আসা ভুক্তভোগী কামাল উদ্দীন, আব্দুল মজিদ, ফরিদুল আলম, নোয়া মিয়া, হারুন রশীদ, মোজাহের মিয়া, মোহাম্মদ হোসেন, আনিসুল ইসলাম, মিনহাজ, রশিদ আহমদ, রাশেদা বেগম, হোছনে আরা বেগম, জেসমিন, লায়লা, ফরহাদ, তৌহিদ, নেজাম, রুহুল আমিন, নুরুল হক, মোঃ কাদেরসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ বিলে এতো গুলো টাকা কিভাবে তুলে দেওয়া হলো তা জানতে বিদ্যুৎ অফিসে এসেছি, তাদের অভিযোগ, ৩টি ফ্যান, ৪টি এনার্জি লাইটে আগে ৩০০-৩৪০ টাকা বিল আসতো, আর এখন সেটা ৮০০- ১২০০ টাকা কিভাবে হলো তা বুঝতে পারছিনা, ডিমেন্ট চার্জ, মিটার ভাড়ার নামে প্রতিমাসে ১৫০/২০০ টাকা বিদ্যুৎ বিলের সাথে যোগ করে দেয়া ছাড়াও এবারের বিলের কাগজে ভ্যাটের নামে আগের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা যোগ করে দেয়া হয়েছে। এমনিতেই লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মানুষ। এরমধ্যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে বিদ্যুৎ গ্রাহক সমাজ।
বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন বলছে সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে তাই বিল বেশি এসেছে। অতিরিক্ত বিল আসার পেছনে তাদের কোনো হাত নেই। বিলের কাগজে যে পরিমাণ বিল লেখা আছে তা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। পরিশোধ না করা হলে মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে অফিসকর্মীরা উল্টো ভুক্তভোগীদেরকে ভীতি প্রদর্শন করছে বলেও অভিযোগ করে গ্রাহক সমাজ।
একইভাবে নতুন মিটারের জন্যে দিতে হয় মিটার প্রতি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। আবার বিভিন্ন মার্কেট, রাইস মিল, করাত মিল এবং বরফ গুলোতে সংযোগ দিতে আদায় করা হয় বড় অংকের অর্থ। নতুন সংযোগের জন্য ব্যক্তি বিশেষে নতুন খুঁটি প্রয়োজন হলে খুঁটি স্থাপন ও সংযোগ বাবত গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় এককালিন অর্থ। এসব অর্থে এক তৃতীয়াংশ যায় ডিজিএম এর পকেটে, একটি অংশ যায়, অবিশিষ্ট টাকা অফিসের অন্যান্য কর্মী ও দালালরা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয় বলে জানা গেছে। অফিসের লোকজনকে টাকা বেশি দিতে পারলে ১০/১৫ দিনের মধ্যে নতুন মিটার সংযোগ পেয়ে যায়। বেশি টাকা দিতে পারলে মিটারের জন্যে বছরের পর বছর হয়রানি শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করে তারা আরও বলেন,নতুন মিটার নিয়ে হয়রানি ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম এর সাথে যোগাযোগ করলেও ডিজিএম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বিষয়টি দেখা হবে বলে বার বার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে থাকে ডিজিএম। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের কোনো গুরুত্ব দিতে দেখা যায় না ডিজিএমকে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বাঁশখালী অফিসে কর্মরত দুই বিদ্যুৎকর্মী জানান, মিটারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল, নতুন মিটারে হয়রানির অভিযোগ নিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ অফিসে আসে। নতুন মিটারে অতিরিক্ত টাকা না পেলে সহজে মিটার মেলেনা। মিটার এবং মিটার সংযোগ তার থাকলেও অফিসে মিটার নেই, কখনো মিটার সংযোগের তার নেই বলে নানা অযুহাত দেখিয়ে মানুষকে হয়রানি করা হয়। আরও বলেন, যারা অতিরিক্ত টাকা দেয়, তাদেরকে সহজেই নতুন মিটার সংযোগ দেয়া হয়। নতুন মিটার নিয়ে আগে কখনো এধরণের হয়রানির শিকার হতে হয়নি। আগের ডিজিএম স্যারেরা গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পেলে সাথে তদারকি করতেন এবং অভিযোগ দ্রুত সমাধান না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেন, আর এখন কিন্তু ডিজিএম স্যার এধরণের অভিযোগ গুলোর ব্যাপারে কোনো তদারকি করেনা, অফিসকর্মীদের চেয়ে ডিজিএমের কাছে দালালদের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই কোনো অভিযোগ আসলে শুধু দেখা হবে,করা হবে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে,এভাবে দায়সারা কথা বলে থাকেন ডিজিএম। ওই বিদ্যুৎকর্মী আরও জানায়, মিটার পাওয়ার জন্যে আবেদন গুলোর মধ্যে অনেক আবেদন অদৃশ্য প্রতিবন্ধকতার অযুহাত দেখিয়ে স্থগিত রাখা হয়েছে।এতে আবেদনকারীরা মিটারো পাচ্ছে না,এমনকি তাদের টাকাও ফেরত দেওয়া হয়না। এছাড়াও বড় অংকের টাকায় করাত মিল, রাইচ মিল, বরফ মিল,সংস্থার অফিস,ল্যাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খুব দ্রুত সময়ে নতুন মিটার সংযোগ দেয়া হলেও সাধারণ মানুষ গুলোকে আজকাল করে বছরের পর বছর ঘুরাঘুরি করে এবং হয়রানি করতে থাকে। বিদ্যুৎ মিটারে ভুতুড়ে বিল, নতুন মিটারে অনিয়ম-দুর্নীতি, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ভুক্তভোগীরা।
অপরদিকে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস বাঁশখালীর ডিজিএম মোঃ আতিকুর রহমান এর সাথে যোগাযোগের জন্য একাধিক বার চেষ্টা করা হলেও কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যায়না, ফোনও ব্যস্ত দেখানো হয়, যার ফলে ডিজিএম আতিকুর রহমান এর মতামত জানা যায়নি। নতুন মিটার আবেদনে মাসের পর মাস হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সংক্রান্তে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজের মাধ্যমে জানতে চাইলেও তিনি কোনো জবাব দেয়না, তবে এর আগে নতুন মিটার সংযোগ অভিযোগ সংক্রান্তে বেশ কয়েকবার কথা হয়, অভিযোগ বিষয়ে দেখা হবে বলে বার বার আশ্বাস দিলেও কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
এমএসএম / এমএসএম
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের পাশে ইউএনও (অ.দা) নাহিদ আহমেদ, দিলেন মশারি
কালিয়ায় ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি
নাচোলে পানিতে ডুবে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু
বাবাকে হারিয়ে স্বপ্ন ডাক্তার হওয়ার, দারিদ্র্যে থমকে যেতে পারে শয়নের পথ
ত্রিশালে পুকুরে ডুবে দুই চাচাতো ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু
খালিয়াজুরীতে এক রাতে ৯ গরু চুরি, আতঙ্কে কৃষক
বাঘায় শুরু হয়েছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
আত্রাইয়ে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা
পঞ্চগড়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুই প্রতিষ্ঠানে বেতন ভাতা নেওয়া সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ
ভাণ্ডারিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নারী শিক্ষককে কটূক্তির অভিযোগ: ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি
মান্দায় এডিপির অর্থ হরিলুট, নামমাত্র প্রশিক্ষণে লাখ টাকা গায়েব
বড়লেখায় বিষপানে নারী চা শ্রমিকের মৃত্যু