ঢাকা শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

রেলের ৮৮৪ কোটির রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে অর্থ লোপাটের ছক!


এসএম পিন্টু photo এসএম পিন্টু
প্রকাশিত: ২২-৮-২০২৬ দুপুর ১:৫৫

 বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ৮৮৩ কোটি ৭২ লাখ  (৮৮৪ কোটি প্রায়) টাকার ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারের মাঝে ভাগ ভাটোয়ারা করে বিপুল অর্থ লোপাটের ছক তৈরি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব কাজকে এমনভাবে প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে যাতে হাতে গোনা ২/৩টি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যদের অংশগ্রহণেরই সুযোগ না থাকে। আর যারা অংশগ্রহণ করতে পারবে তারা সবাই অনেক ক্ষমতাশালী হিসেবে পরিচিত। তাদের চাহিত দরেই কাজ পাবেন বলে মনে করছেন অনেকে। এর ফলে মাফিয়াদের মাধ্যমে নিজেরা অর্থ ভাগাভাগির পরিকল্পনা করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ঠিকাদারেরা।
সূত্র জানায়, রেলের ট্র্যাক মেরামতের জন্য স্থানীয় অনেক ঠিকাদার রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রেলের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তার যোগসাজসে নিজেদের পছন্দের লোককে কাজ পাইয়ে দিতে নানাভাবে তদবীর করে আসছিল। ছোট ছোট প্যাকেজে উন্মুক্ত দরপত্র করা হলে অনেকেই অংশ নিতে পারে। তখন পছন্দের কাউকে কাজ দেওয়া যাবে না ভেবে বিকল্প পথে হাটে সংশ্লিষ্টরা। একসাথে অনেকগুলো কাজ মিলিয়ে নেওয়া হয় প্রকল্প আকারে। যেখানে কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় বেশি ধরায় বড় কাজের অভিজ্ঞতা থাকার বাধ্যবাদকতা রয়েছে, ফলে ছোট ও মাঝারি ঠিকাদারদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি। পরে অন্তবর্তী সরকারের আমলেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এগিয়ে নেয় প্রকল্পের কাজ। ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই সরঞ্জামসহ মোট ১৭৬১ কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে ট্র্যাক মেরামতের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় অনুমোদিত হয় ৮৮৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এই পুরো প্রকল্পকে ৮টি প্যাকেজে ভাগ করা হয়।  এরমধ্যে চট্টগ্রামের ষোলশহর থেকে ফতেয়াবাদ হয়ে নাজিরহাট ও ফতেয়াবাদ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ৫৮ কোটি ৯০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, লাকসাম থেকে নোয়াখালী সেকশনে ৪৬ কোটি ৩০ লাখ ৯ হাজার, জয়দেবপুর থেকে শ্রীপুর ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ময়মনসিংহ থেকে বেগুনবাড়ি, ময়মনসিংহ থেকে মোহনগঞ্জ, শ্যামগঞ্জ জংশন থেকে জারিয়া জাঞ্জাইল স্টেশন ও গৌরিপুর ময়মনসিংহ জংশন থেকে আঠারোবাড়ী স্টেশন পর্যন্ত ২৩৫ কেটি ৬ লাখ ১৭ হজোর টাকা, বেগুনবাড়ী থেকে দেওয়ানগঞ্জ বাজার, জগন্নাথগঞ্জ ঘাট থেকে তারাকান্দি, তারাকান্দি থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব স্টেশন পর্যন্ত ২০০ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ভৈরব বাজার জংশন থেকে আঠরোবাড়ী স্টেশন পর্যন্ত ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, আখাউড়া স্টেশন থেকে সাটিয়াজুরী ৫৯ কোটি ২৩ লাখ ২৮ হাজার ও সিলেট স্টেশন থেকে সাটিয়াজুরী পর্যন্ত ১৯০ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রাক্কলিক ব্যয় ধরা হয়েছে।  
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ একাধিক ঠিকাদার জানান, এসব কাজ আগে ২ থেকে ৫/৭ কোটি টাকার প্যাকেজ করা হতো। এসব টেন্ডারে যারা প্রতিযোগিতা করে তাদেরকে বাইরে রাখতেই এবার চালাকি করা হয়েছে। আর রেলের টাকা নয়ছয় করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যেখানে কাজ দরকার নেই সেসব জায়গাও প্রকল্পে রাখা হয়েছে। যেহেতেু প্রতিযোগী পাওয়া যাবে না তাই ইচ্ছে করেই অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে। যাতে লুটপাট করতে সহজ হয় সেভাবেই প্রাক্কলন ব্যয় হিসাব করা হয়েছে। কাজের ভলিউম অনুযায়ী ২ থেকে ৪টি প্রতিষ্ঠান আছে যারা এই কাজে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা রাখে। তারা সকলেই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যবসা করেছে। আর সরকার পতনের পরও কতিপয় অসৎ কর্মকর্তা তাদেরকে বিশেষ সুবিধা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এরফলে পথে বসছে ছোট ও মাঝারি মানের ঠিকাদারেরা। অন্যদিকে প্রতিযোগি না থাকায় অতিরিক্ত ব্যয়ে মাফিয়া ঠিকাদারেরা অনায়াসে কাজ নিতে পারবে। এছাড়া বিএনপি সরকারের আমলেও আগের সুবিধাবাধীরা রেলকে লুটেপুটে খাওয়ার ধান্ধা করছে সমানতালে। আর আওয়ামী লীগের সহযোগীরা কাজ পেলে এই অর্থ খরচ করবে আওয়ামী লীগ নেতার পেছনে ও রাজনীতির কর্মকান্ডে। 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলের তালিকাভূক্ত একাধিক ঠিকাদার জানান, আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৬ বছর যারা দালালি করেছে তারা ঠিকাদারি করেছে। আর যারা বিএনপির রাজনীতি করেছে তারা ব্যবসা করার সুযোগ পায়নি। মামলা, হামলা, দলীয় কর্মসূচী ও রাজপথের আন্দোলনের কারণে পুলিশী হয়রানি ছিল নিত্যসঙ্গী। কাজের দক্ষতা ও সক্ষমতা থাকলেও তাদের অর্থনেতিক অভিজ্ঞতা তেমন নেই। কর্তৃপক্ষ ভালো করেই জানে এখানে বিএনপির কোন দলীয় নেতা বা সমর্থকের প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে না। বাধ্য হয়েই আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীদের হাতে কাজ তুলে দিতে হবে। আর আওয়ামী লীগের নেতা বা তাদের অনুসারিরা সেই অর্থ সরকারবিরোধী আন্দোলনে খরচ করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চাইবে।  অন্যদিকে যারা দলের জন্য দীর্ঘ ত্যাগ স্বীকার করে সর্বশান্ত হয়েছেন তারা বরাবরই নিস্পেসিত হবেন অভাবের যাঁতাকলে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি ২টি টেন্ডারের মধ্যে ২৩৫ কোটি টাকার টেন্ডারে একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করেছে। সেই প্রতিষ্ঠানকেই কাজ দিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে একটি চক্র। ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অপর টেন্ডারে মাত্র ২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। সক্ষমতা থাকলেও আর্থিক যোগ্যতা না থাকায় অংশ নিতে পারেনি বিএনপি সমর্থিত অনেক ঠিকাদার। 

অপর একটি সূত্র জানায়, যারা দীর্ঘদিন নিজের পকেটের টাকা খরচ করে বিএনপির জন্য কাজ করেছে তারা আজ অবহেলিত। সুসময়ে যদি লিগ্যাল ব্যবসা করারও সুযোগ না থাকে তাহলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে এসব কাজগুলো আরো ছোট প্যাকেজ করে অবারিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতাদের সাথে চুক্তি করার দাবি জানান। 
এবিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী এবং ট্র্যাক রক্ষনাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের পিডি মো. তানভীরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি আওয়ামী লীগের আমলে নেওয়া তবে চুড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে ২০২৫ সালে। কাজের ভলিউম বড় হওয়ায় প্রতিযোগিতা হচ্ছে না। ২০০ কোটি ও ১৯০ কোটি টাকার ২টি প্যাকেজকে ভেঙে আরো ২টি প্যাকেজ বাড়ানো হয়েছে। তবু যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে তা সমাধানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে প্যাকেজ ছোট করা যেতে পারে।  আমরা পিপিআর ২০২৫ এর শর্ত পালন সাপেক্ষে টেন্ডার প্রক্রিয়া চালাচ্ছি, কর্তৃপক্ষ চাইলে তা বাতিল করা হবে”।

এমএসএম / এমএসএম

লাকসামে শ্রী শ্রী মনোরমা গোস্বামীর ১১তম বিরহীতিথী উৎসব অনুষ্ঠিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে টঙ্গীতে জামায়াতের গণসমাবেশ

রেলের ৮৮৪ কোটির রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে অর্থ লোপাটের ছক!

ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা,সাজেক সড়কে যোগাযোগ বন্ধ

বাউফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৩০ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল উপজেলা ছাত্রদল

বড়লেখায় জিম্মায় নেওয়া ভারতীয় ১৪ মহিষের ৯টিই গায়েব: যৌথ বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার ৫টি

বাগেরহাটে ২ বছরের শিশু সন্তান কে সড়কপাশে ফেলে গেলেন মা

তেঁতুলিয়ার গোবরা নদীতে বিষাক্ত ট্যাবলেট দিয়ে মাছ নিধন: জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে

মনপুরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট: জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে স্থায়ী সমাধানের দাবি

মোহনগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে তিন যুবকের কারাদণ্ড

কোটালীপাড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ফসলী জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মানের অভিযোগ

মুকসুদপুরে অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্তের ৫ মাস পেরোলেও জমা হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন

হাইমচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির আর নেই