ঢাকা রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

কাজী ফার্মসের স্থাপনা উচ্ছেদে নোটিশেই সীমাবদ্ধ বন বিভাগ

চুনতি অভয়ারণ্যে সরকারি বনভূমি দখল


বেলাল উদ্দিন photo বেলাল উদ্দিন
প্রকাশিত: ২৩-৮-২০২৬ দুপুর ১:৩৯

সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্যে অবৈধভাবে বেসরকারি বা বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে আইনগত বিধিনিষেধ থাকলেও চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে সরকারি বনভূমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে দেশের অন্যতম শীর্ষ করপোরেট প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মস লিমিটেডের বিরুদ্ধে।

বন বিভাগের নথি পর্যালোচনা করে জানা গেছে, চুনতি মৌজার আরএস দাগ নং-বি-৫১৭ এবং বিএস দাগ নং-৪৩২৩ ও ৪৩২৪, বিএস খতিয়ান নং-২-এর অন্তর্ভুক্ত প্রায় ০.১০ একর সরকারি সংরক্ষিত বনভূমি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির দখলে রয়েছে বলে বন বিভাগের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই জমিতে একটি স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণের তথ্যও নথিতে রয়েছে।

সরকারি জমি উদ্ধারে বন বিভাগের পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয়নি। এ নিয়ে বন বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বন বিভাগের দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিট কর্মকর্তা মো. ফরিদ উদ্দিন তালুকদার কাজী ফার্মস লিমিটেডের হাসানকাটা, চুনতি ঠিকানায় একটি রেজিস্টার্ড নোটিশ পাঠান। পত্র নং-৮০—/চুবি-৪২-এর ওই নোটিশটি ছিল প্রতিষ্ঠানটিকে দেওয়া তৃতীয় বা চূড়ান্ত নোটিশ।

নোটিশে বলা হয়, সরকারি বনভূমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে স্থাপনাটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।

বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিট অফিসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ সরেজমিন পরিদর্শনে সেখানে একটি পাকা ঘরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সরকারি জমি উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে উচ্ছেদ প্রস্তাব পাঠানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তবে নোটিশে দেওয়া সাত দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পরও বছরের পর বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু স্থাপনাটি উচ্ছেদে কার্যকর কোনো পদক্ষেপের দেখা মেলেনি।

নথিতে উচ্ছেদের উদ্যোগের কথা থাকলেও বাস্তবে কেন তা কার্যকর হয়নি এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর মিলছে না। স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নোটিশ জারি ও উচ্ছেদ প্রস্তাব প্রস্তুতের পরও কার্যকর অভিযান পরিচালনায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, নোটিশ জারির পর কাজী ফার্মসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের একাংশের যোগসাজশ তৈরি হয়। এমনকি অবৈধ দখল বহাল রাখতে অনৈতিক লেনদেন ও মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। 

প্রশ্ন উঠেছে, উচ্ছেদ প্রস্তাব জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানোর পর বন বিভাগ কেন পরবর্তী সময়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চেয়ে কার্যকর তাগাদা দেয়নি? বছরের পর বছর ধরে সরকারি বনভূমিতে স্থাপনা থাকার পরও কেন উচ্ছেদ অভিযান বাস্তবায়ন করা হয়নি এ বিষয়টিও তদন্তের দাবি রাখে।

এ বিষয়ে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, কাজী ফার্মস লিমিটেডের ওই এলাকায় কোনো জায়গা থাকার বিষয়টি প্রথমে আমার জানা ছিল না। তবে প্রতিবেদকের কাছে থাকা বন বিভাগের নথি এবং দাগ-খতিয়ানের তথ্য দেখানোর পর বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হই। তবে দীর্ঘদিন ধরে নথিতে থাকা স্থাপনাটি কেন উচ্ছেদ করা হয়নি এ বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

১৯৮৬ সালে ঘোষিত চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোর একটি। এ অঞ্চলে বিপন্ন এশীয় হাতির বিচরণ ও চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ রয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, অভয়ারণ্যের ভেতরে বা সীমানায় অবৈধ স্থাপনা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেলে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হতে পারে। মানুষের চলাচল, যানবাহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোরে চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

স্থানীয় পরিবেশবাদীদের দাবি, লোহাগাড়া ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে হাতি লোকালয়ে চলে আসা এবং মানব-হাতির সংঘাতের পেছনে বনভূমি দখল, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া ও চলাচলের করিডোর বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো কারণগুলোও বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সরকারি বনভূমির সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের অন্যান্য এলাকায়ও অবৈধ দখল ও স্থাপনা রয়েছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কাজী ফার্মস লিমিটেড কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এমএসএম / এমএসএম

যশোরে ডিবির অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ আটক-৩

গোদাগাড়ীতে মাদক সেবন ও সংরক্ষণের দায়ে একজনের এক বছরের কারাদণ্ড

বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় স্কুলশিক্ষকসহ চারজনকে হত্যা

দুই শিক্ষিকার দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে ব্যাহত পাঠদান, ক্ষুব্ধ অভিভাবক

বারবাকিয়া বাজারে নতুন নেতৃত্ব, সভাপতি মানিক সম্পাদক আনিস

জুয়ার দায়ে বাদ পড়া ইমামের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীকে মারধর-নির্যাতনের অভিযোগ

ময়মনসিংহে ভূমিকম্প মোকাবিলায় বিকল্প জরুরি যোগাযোগের মহড়া

বাগেরহাটের কচুয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা জড়িত সন্দেহে ভাতিজীসহ ৪ জন আটক

বেলাবোতে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পিয়াল

লিভার সিরোসিস আক্রান্ত রাজুর পাশে দাঁড়ালেন সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন

মনিরামপুরের আলীম জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের ‘ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট’

নেত্রকোণার মদনে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবরে ঘুমের ওষুধ সেবন-হাসপাতালে স্ত্রীর মৃত্যু

আলমডাঙ্গায় গৃহবধূর মৃত্যু: শাহারুলের বিরুদ্ধে পরিবারের পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ