হাটহাজারীতে বেপরোয়া মাদক বাণিজ্য, অতিষ্ঠ জনতা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে ব্যাপকভাবে বেড়েছে মাদক সেবী ও কারবারির উৎপাত। যত্রতত্র সেবন ও উশৃঙ্খল আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ জনগণ। কারবারিদের অধিকাংশের সাথে রয়েছে কতিপয় লোভী পুলিশের সখ্যতা। ফলে স্থানীয়দের পক্ষে কেউ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারাই উল্টো হয়রানির শিকার হন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর কবল থেকে ছাত্র ও যুব সমাজকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অপর এক আবেদনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
গত ১৩ আগষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে পাঠানো আবেদনে ইব্রাহিম আহমেদ, কাশেম মিয়া, সুজন, রায়হান ও হারুন নামের ৫ ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছেন। তারা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড এবং চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাধীন নন্দীরহাট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
আবেদনে বলা হয়েছে, একই উপজেলার উত্তর ফতেয়াবাদের বাসিন্দা মো. জালাল আহম্মদের পুত্র, মো. জুয়েল ও মো. সোহেল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকদ্রব্য, বিশেষ করে ইয়াবার অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ইতিপূর্বে মাদক নিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন পুলিশের হাতে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এলাকার ছাত্র-যুব সমাজকে ধ্বংস করার অন্যতম কারিগর পরিবারটি। তাদের মাদককাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে ভয়ে প্রকাশ্য মুখ খুলতে নারাজ স্থানীয় সচেতন মহল। পরিবারটির সমাজ বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার কারণে তাদের করা মিথ্যা মামলার শিকার হচ্ছেন এলাকার অনেকে। ইতোপূর্বে মাদক নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তারা। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টরারেন্স ঘোষণা করেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকারের মাদক বিরোধী অভিযান দৃশ্যমান হয়েছে। এতে সরকার প্রশাংসা কুড়িয়েছে। সারাদেশের ন্যায় ফতেয়াবাদের মাদক নির্মূলে ভূমিকা রাখার দাবি জানিয়ে বলেন, স্থানীয় ছাত্র-যুব সমাজকে রক্ষায় এলাকার মাদক ব্যবসা নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। ফলে সমাজবিরোধী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যাবশ্যক।
তবে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে মো. জুয়েল বলেন, আমি একজন দোকানদার, ইট,বালির ব্যবসাও করি, মাদকের সাথে কোনভাবেই জড়িত নই। এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মামলা আছে তারাই আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। ২০১৮ সালের একটি ইয়াবা মামলা থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি তখন গাড়ি চালাই, যাত্রীর কাছে ইয়াবা পেয়েছিল পুলিশ, আমার সাথে কথা কাটাকাটি হওয়ায় তৎকালীন সময়ে বায়েজীদ থানার পুলিশ আমার বিরুদ্ধে এজাহার দিয়েছে। তবে অভিযোগকারি ৫ ব্যক্তির কেউই ওই এলাকার নয় এমনকি তাদেরকে চিনেন না বলেও জানান তিনি।
এবিষয়ে জানতে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের মোবাইলে কল দিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুর রহমানের মোবাইলে কল ও বার্তা দিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে একাধিক গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন অভিযোগের বিষয়টি তিনি অবগত নয়। খোঁজ নিয়ে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাস বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। মাদকের সাথে কোন আপোষ নেই, যেই জড়িত থাকবে তার বিরুদ্ধেই আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএসএম / এমএসএম
নাচোলে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন
উলিপুরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত
রৌমারীতে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালন
বাগেরহাটে ৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবস পালন
নিয়ামতপুরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতিকে সম্মাননা প্রদান
তাড়াশে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত
চাঁদপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৩ জন গ্রেপ্তার, ১৮ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার
জয়পুরহাটে ডিসির অপসারণ দাবিতে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম
টুঙ্গিপাড়ায় নানা আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত
সুবর্ণচরে জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
ভূরুঙ্গামারীতে ব্যবসায়ী হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ে গ্রেপ্তার ২
পোমরা চেক স্টেশনে অনিয়মের মহোৎসব, নেপথ্যে এসিএফ দেলোয়ার