রেলের ডিজির পিএস নাসির উদ্দিনকে ঘিরে অভিযোগ, নথি ও পর্যবেক্ষণে মিলল না সত্যতা
রেলের মহাপরিচালকের (ডিজি) ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নাসির উদ্দিনকে ঘিরে নিয়োগে প্রভাব খাটানো, অনিয়ম ও সম্পদ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হলেও, অভিযোগগুলোর কয়েকটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে বলে দাবি করেছেন নাসির উদ্দিন।
বিশেষ করে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের ২৫৭ জন স্টেশন মাস্টার নিয়োগ এবং ২০২৩ সালে সিঙ্গিয়া স্টেশনে লেবার সর্দার নিয়োগে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেছেন।
২৫৭ স্টেশন মাস্টার নিয়োগে সম্পৃক্ততার প্রশ্নই ওঠে নাঃ
নাসির উদ্দিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের শেষ দিকে তাকে পাকশিতে চাকরিতে প্রদান করা হয়। সে সময় তিনি ছিলেন একজন প্রবেশন অফিসার এবং তার চাকরিও তখন স্থায়ী হয়নি।
ফলে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ের ২৫৭ জন স্টেশন মাস্টার নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো নিয়োগ কমিটি, যাচাই-বাছাই বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের কার্যক্রমে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।
তার বক্তব্য, ওই সময় তার চাকরিই যখন স্থায়ী হয়নি, তখন ২৫৭ জন স্টেশন মাস্টার নিয়োগের মতো একটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব খাটানো বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখার অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সিঙ্গিয়া স্টেশনের লেবার সর্দার নিয়োগে তদন্তের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্তঃ
২০২৩ সালে সিঙ্গিয়া স্টেশনের লেবার সর্দার নিয়োগ নিয়েও তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের বিষয়টি নাসির উদ্দিন অস্বীকার করেছেন।
তিনি জানান, সিঙ্গিয়া স্টেশনে এর আগে কোনো লেবার সর্দার না থাকায় মোদাচ্ছের আলী ও হাফিজুর রহমান টিটু নামে দুই ব্যক্তি লেবার সর্দার হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন।
আবেদনকারীদের মধ্যে কে দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত—তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের মাধ্যমে তদন্ত করা হয়।
ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের তদন্ত প্রতিবেদনে মোদাচ্ছের আলী সম্পর্কে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি প্রকৃত লেবার পরিচালনা করেন এবং প্রায় তিন বছর ধরে সিঙ্গিয়া স্টেশনে লোডিং-আনলোডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অপর আবেদনকারী হাফিজুর রহমান টিটু লেবার সর্দার নন এবং লোডিং-আনলোডিংয়ের কাজে তার কোনো অভিজ্ঞতা নেই বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এমনকি তদন্ত প্রতিবেদনে হাফিজুর রহমান টিটুর বিরুদ্ধে সিঙ্গিয়া স্টেশন মাস্টারের সিল নকল করে স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বিষয়টিকে জালিয়াতি হিসেবে উল্লেখ করে মোদাচ্ছের আলীকে লেবার সর্দার হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
এরপর ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সিঙ্গিয়া স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোদাচ্ছের আলীকে লেবার সর্দার হিসেবে নিয়োগ দেন বলে নাসির উদ্দিনের দাবি।
তার ভাষায়, “এখানে আমার কোনো পক্ষপাতিত্বমূলক ভূমিকা ছিল না। একজন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছেন এবং সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্টেশন মাস্টার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
অভিযোগের পর মন্ত্রণালয়ের তদন্তেও দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনিঃ সিঙ্গিয়া স্টেশনের লেবার সর্দার নিয়োগ নিয়ে পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করা হয় বলেও জানিয়েছেন নাসির উদ্দিন।
তার দাবি, মন্ত্রণালয়ের ওই তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ কারণে তদন্তে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ না পাওয়ার পরও একই বিষয়কে নতুন করে অনিয়ম বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা কতটা তথ্যনির্ভর—সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
‘ডুপ্লেক্স বাংলো’ নাকি তিন কক্ষের টিনের ঘর?
নাসির উদ্দিনকে ঘিরে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে তার গ্রামের বাড়িতে ‘ডুপ্লেক্স বাংলো’ থাকার দাবিকেও সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রামে তার কোনো ডুপ্লেক্স বাংলো নেই। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে তিন কক্ষের একটি টিনের ঘর রয়েছে। তাই ওই স্থাপনাকে ‘ডুপ্লেক্স বাংলো’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তা প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলে দাবি তার।
তিনি বলেন, “গ্রামে আমার ডুপ্লেক্স বাংলো থাকার কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে তিন রুমের একটি টিনের ঘর রয়েছে। সেটিকে ডুপ্লেক্স বাংলো হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতার বিকৃতি।”
অভিযোগের সঙ্গে প্রমাণের সামঞ্জস্য কতটুকু?
নাসির উদ্দিনকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের দাবি থাকতেই পারে। তবে তার বক্তব্য হলো, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া এবং সেই অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়া—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
তার দাবি, ২০১৬ সালের ২৫৭ জন স্টেশন মাস্টার নিয়োগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কোনো ভিত্তি নেই; ২০২৩ সালের সিঙ্গিয়া স্টেশনের লেবার সর্দার নিয়োগে সিদ্ধান্তটি তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্টেশন মাস্টার দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের তদন্তেও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে কোন নথিতে কী প্রমাণ রয়েছে, কোন তদন্তে কী পাওয়া গেছে এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন—তা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেই বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
তার বক্তব্য, ব্যক্তিগত জীবন, চাকরি, পদায়ন কিংবা সম্পদ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সেগুলোও যাচাইযোগ্য নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা উচিত। অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করে নথি, তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মূলনীতি।
এমএসএম / এমএসএম
রেলের ডিজির পিএস নাসির উদ্দিনকে ঘিরে অভিযোগ, নথি ও পর্যবেক্ষণে মিলল না সত্যতা
বাগেরহাটে বজ্রপাতে দুই ভাইয়ের মৃত্যু
রাণীশংকৈলে তীরনই নদীতে প্রাণ হারালো দু'শিশু
পাঁচবিবিতে অটোভ্যান ছিনতাই, কালাই থেকে ৪ জন গ্রেপ্তার
শৃঙ্খলা মানুষের সাফল্যের চাবিকাঠি - অভিভাবক সমাবেশে বললেন মধুখালীর ইউএনও মাসুদুর রহমান
নড়াগাতীতে গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের দায়ে যুবক আটক
মসজিদের ইমামের ঘরে বোমা বিস্ফোরণ, উড়ে গেল টিন
বাঘিয়ার বিলে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ’
টাঙ্গাইলে বনের জমি যেভাবে দখল হয়! গজারি বনের আড়াই হাজার গাছ কেটে কলা বাগান
উলিপুরে সার মজুদ রাখায় ব্যবসায়ীর জরিমানা সার জব্দ
লালমনিরহাটে শিশু ধর্ষণ মামলায় সুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
নজরুলের সাম্য-সম্প্রীতির চেতনা নতুন প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান