মেসি-এমবাপেরা কেন ফুটবল ক্লাব কিনছেন?
ফুটবলার থেকে ক্লাব মালিক—পরিচিত তারকাদের ক্যারিয়ারে যেন যোগ হচ্ছে নতুন এক পরিচয়। গত সপ্তাহের খবর, স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব সিডি এলদেন্সের বেশিরভাগ শেয়ার কিনতে চুক্তি করেছেন লিওনেল মেসি। এর আগে চলতি বছর কাতালান ক্লাব কর্নেলিয়াও কিনেছেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা। ফলে ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের মালিকানাধীন ক্লাবের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে দুইয়ে।
মেসি অবশ্য একা নন। সাম্প্রতিক সময়ে ফুটবলারদের ক্লাব মালিকানায় যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। গ্রীষ্মের শুরুতে থমাস মুলার ও ম্যাটস হামেলসের একটি কনসোর্টিয়াম পর্তুগালের ক্লাব এস্ত্রেলা দা আমাদোরার মালিকানা কেনার চুক্তি করেছে। লে মানস ও কেআরসি জেঙ্কে কর্তোয়ার শেয়ার আছে। গত দুই বছরেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপেও ফুটবল ক্লাবে শেয়ার নিয়েছেন। প্রশ্নটা তাই স্বাভাবিক—ফুটবলাররা ক্লাবের মালিক হতে চাইছেন কেন?
এর একটি উত্তর হতে পারে আবেগ। সারা জীবন যে খেলাটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা, খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পরও সেই জগতের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই ক্লাব মালিকানার প্রতি আগ্রহ তৈরি হতে পারে। একটি ক্লাবের মালিকানা মানে কীভাবে সেটি পরিচালিত হবে, কোন পথে এগোবে—সেসব সিদ্ধান্তেও সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ।
আবার অনেক ক্ষেত্রেই ক্লাবটির সঙ্গে খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকে। মেসির প্রথম কেনা ক্লাব কর্নেলিয়া কাতালোনিয়ায় অবস্থিত—যে অঞ্চলে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছেন। একইভাবে, কেআরসি জেঙ্কে বিনিয়োগের ব্যাখ্যায় কর্তোয়া বলেছিলেন, ১৬ বছর বয়সে যে ক্লাব তাকে প্রথম দলে অভিষেকের সুযোগ দিয়েছিল, সেখানে ফিরে আসাটা তার কাছে ‘বাড়ি ফেরার’ মতো।
তবে আবেগের বাইরে আছে বাণিজ্যিক হিসাবও। একজন তারকা ফুটবলার নিজের ব্র্যান্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে কোনো ক্লাবের বাণিজ্যিক মূল্য বাড়াতে পারেন। এলদেন্সের সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাবে বাণিজ্যিক আয় ছিল প্রায় ২০ লাখ ইউরো। সেখানে মেসির ব্র্যান্ড যুক্ত হলে নতুন স্পনসর ও বাণিজ্যিক অংশীদার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। মেসির একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টের মূল্যই ২০ লাখ ডলারের বেশি এমনটাই প্রতিবেদনে বলা হয়।
ফুটবল ক্লাব আবার স্থানীয় ব্যবসা ও প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগের দরজা খুলে দিতে পারে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক খেলোয়াড়দের সালফোর্ড সিটি কেনার ঘটনা এর একটি উদাহরণ। ২০১৪ সালে গ্যারি নেভিলসহ সাবেক কয়েকজন খেলোয়াড় ক্লাবটির মালিকানায় আসার পর নেভিল ল্যাঙ্কাশায়ার অঞ্চলে আরও কয়েকটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ শুরু করেন। ২০১৯ সালে ম্যানচেস্টারে চালু হয় ইউনিভার্সিটি একাডেমি ৯২।
এর বাইরে ফুটবলারদের বিনিয়োগের ধরনও বদলেছে। এখন তারা ভেঞ্চার ক্যাপিটালসহ বিভিন্ন খাতেও অর্থ বিনিয়োগ করছেন। মারিও গোটজে নিজের ভেঞ্চার ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড পরিচালনা করেন, আর ক্রিস স্মলিং বিনিয়োগ করেছেন লন্ডনভিত্তিক অ্যাথলেট ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড ‘দ্য প্লেয়ার্স ফান্ডে’। ফুটবল ক্লাব তাই তাদের বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগের আরেকটি ক্ষেত্র।
এই প্রবণতা ইউরোপের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পুরোনো। এনবিএ ও এনএফএলের খেলোয়াড়েরা গত দুই দশক ধরে বিভিন্ন ক্রীড়া দলের মালিকানায় অংশ নিচ্ছেন। সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ মাইকেল জর্ডানের শার্লট হর্নেটসে বিনিয়োগ। ২০০৬ সালে মালিকানায় আসার পর ২০২৩ সালে ক্লাবটি বিক্রি করেন তিনি। সে সময় ক্লাবটির মূল্য ছিল প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার, যা তার প্রাথমিক বিনিয়োগের তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি রিটার্নের সমান।
ফলে মেসি, রোনালদো, এমবাপে বা কর্তোয়ার মতো তারকাদের ক্লাব মালিকানায় আসা শুধু ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার গল্প নয়। মাঠের ক্যারিয়ারের পরও খেলাটির সঙ্গে যুক্ত থাকা, নিজের ব্র্যান্ডকে কাজে লাগানো এবং একই সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক লাভ।
aliul / aliul
ব্রিটিশ নাগরিকত্বে এপিএলে নাম লেখালেন আমির
বাংলাদেশ সিরিজের দল ঘোষণা করল দক্ষিণ আফ্রিকা
আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে নামিবিয়ার ইতিহাস
সৌদি নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে চ্যাম্পিয়নস লিগ দলে নেই রোনালদো
রেফারির পাশে দাঁড়িয়ে মরিনিও সমালোচকদের বললেন, ‘ওরা নিয়ম জানে না’
ইংল্যান্ড সিরিজে নেই তিন তারকা, ভারতকে চমকে দিয়ে দলে বেয়ার্ডম্যান
হেড করে অ্যাসিস্টের পর তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে মেসির জয়সূচক গোল
লিভারপুলের মাঠে বিরল জয়ে শীর্ষে আর্সেনাল
বেলিংহামের মাইলফলক ছোঁয়া গোল, রিয়ালের সহজ জয়
কোরিয়ার কাছে ৫ গোল হজম করল বাংলাদেশ
শেইফার্ট-ফিলিপসের ব্যাটে হেসে-খেলে জিতল নিউজিল্যান্ড
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান, তলানিতে বাংলাদেশ