ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

স্ট্যাম্পে সই নিয়ে অর্থ দাবির ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন

এনজিও ‘সিও’র বিরুদ্ধে ফের কর্মী নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭-৯-২০২৬ দুপুর ৩:২৪

চাকরি প্রদানের নামে ভয়াবহ প্রতারণা, একাধিক ব্লাংক চেক, মূল সনদ, মূল্যবান কাগজপত্রের মূল কপি গ্রহণ, কর্মীদের উপরে পাশবিক নির্যাতন, ব্লাকমেইলের মাধ্যমে জোরপূর্বক অর্থ আদায়, ব্লাংক স্টামে মোটা অঙ্কের অর্থ বসিয়ে সই নেয়া সহ নানামুখী অপরাধ কর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে বারবার অভিযুক্ত "সিও" (Socio Economic Helth Organisation- SHEO) এনজিও'র বিরুদ্ধে আবারও কর্মী পিটিয়ে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। 

সম্প্রতি, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর বাজার সংলগ্ন "সিও" শাখায় কর্মরত সহকারী হিসাব রক্ষক সেলিম রেজা (৩৩) কে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাতভর নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নিজেই। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) "সিও" কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলে যশোরে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী সেলিম রেজা। 

সেসময় ভুক্তভোগী সেলিম রেজা বলেন,
"আমি সিও এনজিও ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু থানার চাঁদপুর শাখায় হিসাব রক্ষক পদে দুই বছর যাবত কর্মরত ছিলাম। কর্মরত থাকাকালীন মাঠ পর্যায়ে অনাদায়ী টাকা আদায়ের জন্য প্রধান কার্যালয় থেকে আমার উপরে নিয়মিত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এক পর্যায়ে, আমি অনাদায়ী টাকা আদায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ করতে না পারায়, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক রাত ৭ টা ৩০ মিনিটে মূল কার্যালয়ের প্রধান হিসাব রক্ষক মোঃ বদরুল আলম, এমআইএস কর্মকর্তা রাজু আহমেদ, প্রধান কার্যালয়ের ডিজি মোঃ মেহেদী হাসান, অডিট কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান, এইচআর ফয়সাল মাহমুদ সাকি ও অডিটের দায়িত্বে থাকা মোঃ মিজান, মোঃ জাহিদ, মোঃ শাহীন সহ বহিরাগত আরও ৪/৫ জন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাকে জিম্মি করে অনাদায়ী অর্থ আদায়ে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এক পর্যায়ে, তারা তাৎক্ষণিক আমাকে টাকা দিতে বলে। আমি নিরুপায় হয়ে ফিল্ডের টাকা উত্তোলন করার কথা বললে, তারা আমার দু'হাত পেছনে বেঁধে কাঠের চলা দিয়ে পায়ের তলায় ৬০/৭০ টি আঘাত করে। সেসময় তারা আমাকে হত্যাচেষ্টাসহ ব্যাপক নির্যাতন করে।"

কান্না বিজড়িত কণ্ঠে দুই সন্তানের জনক সেলিম রেজা আরও বলেন, 
"এক পর্যায়ে তারা আমাকে বাধ্য করে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্টাম্পে জোরপূর্বক সই নেয়। একটি স্টাম্পে ৩৬.৬০ লক্ষ টাকা বসানো হয়। সেসময় আমাকে পুনরায় মারধর করে আমার বাড়িতে ফোন দিয়ে ব্লাকমেইল করে, আমাকে অর্থ আত্মসাৎকারী বানানো হয়।"

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সেলিম রেজা বলেন, 
"পরে আমাকে মাইক্রোবাসে করে যশোরে আমার বাড়িতে নেয়া হয় এবং আমার বাবা-চাচাকে ঝিনাইদহ অফিসে আসতে বাধ্য করা হয়। সেসময়, আমাকে অন্য কক্ষে জিম্মি রেখে তাদের কাছ থেকে দুই মাসের মধ্যে ৩৭.৬০ লক্ষ টাকা প্রদানের জন্য ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্টাম্পে সই নেয়া হয়।"

দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ, সরকারের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত কর্তৃপক্ষের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করে সেলিম রেজা বলেন, 
"আমার মতো অসংখ্য কর্মী 'সিও'-তে অতীতে চাকরি করতে এসে ঠিক এভাবেই নিঃস্ব হয়েছেন। তারা আজও কোন বিচার পাননি। আজ আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এতবড় অঙ্কের অর্থ আদায়ে আমি ও আমার পরিবারকে বারবার হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন আমি জীবন নাশের শঙ্কায় আছি। তারা আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক টিভিএস আরটিআর (যশোর-ল ১২৮২৩৫) মোটরসাইকেল, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরসাইকেলের কাগজ, ব্লাংক চেক, আমার শিক্ষাগত জীবনে বহু কষ্টার্জিত মূল ৪টি সনদ ও মূল্যবান কাগজপত্র রেখে দিয়েছে। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ব্যবস্থাপক উল্লাস এবং প্রধান কার্যালয়ের ডিজি মোঃ মেহেদী হাসান বিষয়টি অস্বীকার করে, সেলিম রেজাকে প্রথমে ৮০ লক্ষ টাকা এবং পরে ৩৮ লক্ষ টাকা আত্মসাৎকারী হিসেবে উপস্থাপন করে। 

তবে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ ঘটনা কেন্দ্রিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত অনুসন্ধান করে পুরো বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে, মোঃ বদরুল আলমের পরিচয় জানতে চাইলে, তিনি সাংবাদিকদের উপরে চড়াও হন। সেসময়, প্রধান হিসাব রক্ষক মোঃ বদরুল আলমের আক্রমণাত্মক ব্যবহারে শাখা ত্যাগ করে পুনরায় অনুসন্ধানে নামেন সাংবাদিকবৃন্দ। 

এদিকে, অতীতে একই অপকর্মের দায়ে বারবার অভিযুক্ত মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান "সিও"-এনজিও'র বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২১ মার্চ ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে প্রতিষ্ঠানটির নির্যাতিত কর্মীরা। সেসময়, এনজিও’টির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন। মানববন্ধনের পরে, তৎকালীন জেলা প্রশাসক এসএম রফিকুল ইসলামের নির্দেশে ১৫ই এপ্রিল থেকে ঝিনাইদহ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ইয়ারুল ইসলাম তদন্ত কাজ শুরু করেন। তদন্তের শুরুতে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগকারীদের নোটিশ করেন এবং তাদের বক্তব্য শোনেন। তবে, ভুক্তভোগীদের দাবি আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি সেই তদন্তের কঠোর বাস্তবিক পদক্ষেপ। বরং, শতগুণে শক্তিশালী হয়ে নব-নব ছকে এঁকে আরও শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে, এক ভয়ংকর অপরাধ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে "সিও" নামক এনজিও প্রতিষ্ঠানটি। 

এদিকে, এমআরএ (MRA) কর্তৃক পরিচালিত এবং সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স প্রাপ্ত, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান "সিও" এনজিও'র অসীম দৌরাত্ম্যের বেড়াজাল থেকে চিরমুক্তি ও এর শেষ দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন শতশত নির্যাতিত কর্মী ও তাদের নিঃস্ব পরিবার।

এমএসএম / এমএসএম

দুর্গাপূজা ঘিরে সম্প্রীতির আহ্বান, সাংবাদিকদের সঙ্গে কল্যাণ ফ্রন্টের মতবিনিময়

চাঁদপুরে দুই আড়তদারের জরিমানা, ইলিশ ও নিষিদ্ধ কারেন্টজাল জব্দ

কালকিনিতে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ একাধিক মামলার আসামি গ্রেফতার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন, ফসলী জমি ও বসতবাড়ি রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

চন্দনাইশে চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের দাপট: কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাসিন্দারা

টুঙ্গিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে ৫২ মাঠকর্মীকে প্রশিক্ষণ

অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন

দৈনিক সকালের সময় নিউজের জেরে ভরাট হচ্ছে রাস্তা

বাগেরহাটে ৫ হাজার মিটার জাল ধ্বংস অবৈধ জাল বিক্রেতাকে অর্থদন্ড

টুঙ্গিপাড়ায় দুর্ঘটনার কবলে ঢাকাগামী বাস, হতাহত নেই

আধুনিকতার ছোঁয়ায় মার্বেলের নিখুঁত নিশানা আজ শুধুই স্মৃতি

কুড়িগ্রামে অধ্যক্ষ জমি ও টাকার বিনিময়ে চাকুরী দিলেন, অভিযোগ এলাকাবাসীর

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ