কাগজপত্র হাতে স্বীকৃতির আশায় ঘুরছেন তিনি
বাবার পরিচয় ফিরে পেতে জামালের লড়াই
চট্টগ্রামের বদ্দারহাটের ফুটপাতে বসে সবজি-তরকারি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন জামাল হোসেন। সংসারের অভাব মেটাতে প্রতিদিনের এই সংগ্রামের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বাবার পরিচয়ের স্বীকৃতি পেতে লড়াই করছেন তিনি। দাবি করছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ, মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র, ১৯৭৩ সালের কাবিননামা ও বিএস খতিয়ানের নথিতে তার বাবা হিসেবে নুর ছফার নাম রয়েছে। এরপরও তাকে বাবার সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।
জামাল জানান, তিনি যখন মায়ের গর্ভে আট মাসের, তখন তার বাবা নুর ছফা মারা যান। ফলে জন্মের আগেই বাবাকে হারান তিনি। বাবাকে কখনো দেখার সুযোগ হয়নি তার। মায়ের কাছেই বাবার কথা শুনে বড় হয়েছেন।
জামাল বলেন, “আমি বাবাকে দেখিনি। নানা বাড়িতে বড় হয়েছি। মায়ের কাছেই বাবার কথা শুনে বড় হয়েছি। আমার এনআইডি ও জন্মসনদে বাবার নাম নুর ছফা। মায়ের এনআইডি ও কাবিননামাতেও একই নাম রয়েছে। খতিয়ানেও বাবার নাম আছে। এরপরও কেন আমাকে বাবার সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না, সেটাই আমার প্রশ্ন।”
জামালের মা মছুদা খাতুনের ভাষ্য, নুর ছফার সঙ্গে বিয়ের পর তারা সংসার শুরু করেন। তাদের কাবিন হয়েছিল ২৫০ টাকা দেনমোহরে। জামাল গর্ভে থাকা অবস্থায় নুর ছফা মারা যান। এরপর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার হয়ে গর্ভের সন্তানকে নিয়ে পাশের ইউনিয়নের সাধপুরে বাবার বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি।
মছুদা খাতুন বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর পেটে সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসি। তখন আমার সামনে একটাই চিন্তা ছিল—ছেলেকে কীভাবে বড় করব। অনেক কষ্ট করে জামালকে বড় করেছি। এত বছর পর এখন ছেলের বাবার পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এটা একজন মা হিসেবে আমার জন্য খুব কষ্টের।”
তিনি আরও বলেন, “আমি তখন কোনো সম্পত্তির জন্য লড়াই করিনি। ছেলেকে মানুষ করাই ছিল আমার একমাত্র চিন্তা। এখন জামাল বড় হয়েছে। সে শুধু নিজের বাবার পরিচয়টা স্বীকৃতভাবে পেতে চায় এবং বাবার রেখে যাওয়া জায়গাটুকু ফিরে পেতে চায়।”
জামাল বড় হওয়ার পর মায়ের সঙ্গে বাবার বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার দাবি, সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, নুর ছফার চাচাতো ভাইয়েরা বাড়িটি ভোগদখল করছেন। মছুদা খাতুনের অভিযোগ, নুর ছফার বোনদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সুযোগ নিয়ে তার চাচাতো ভাইয়েরা বাড়িটি দখলে নেন।
জামালের দাবি, বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির পরিমাণ খুব বেশি নয়। বসতভিটার কিছু জমি রয়েছে। এর একটি অংশ নুর ছফার চাচাতো ভাইয়ের ছেলেরা ভোগদখল করছেন। অন্য অংশ নুর ছফার তিন বোনের ছেলে-মেয়েরা ভোগ করছেন।
জামাল বলেন, “আমি কারও সম্পত্তি জোর করে নিতে চাই না। আমি শুধু বাবার সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি চাই।”
এদিকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পুকুরিয়া ইউনিয়নে নুর ছফার ওয়ারিশ হিসেবে দেওয়া দুটি সনদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জামাল। তার দাবি, একটি সনদে নুর ছফার তিন বোনসহ চারজনের নাম রয়েছে। পরবর্তী সনদে তথ্যের পরিবর্তন দেখা যায়। তবে কোনো সনদেই তার নাম রাখা হয়নি। জামালের অভিযোগ, পৈতৃক সম্পত্তি থেকে তাকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ তার নাম ওয়ারিশ সনদে অন্তর্ভুক্ত করেনি।
তবে জামালের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এমদাদ। তিনি বলেন, “নুর ছফা ও জামাল নামে কোনো অস্তিত্ব নেই। সে পুকুরিয়া ইউনিয়নের কেউ নয়। এ কারণে তাকে ওয়ারিশ সনদ দেওয়া যাবে না।”
বিএস খতিয়ানে এবং জামাল ও তার মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রে নুর ছফার নাম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে এ বিষয়ে তার জানা নেই বলে জানান ইউপি সদস্য এমদাদ।
পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দীনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে জামালের বিষয়ে প্রশ্ন করার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় পর্যায়ে বাবার পরিচয়ের স্বীকৃতি ও উত্তরাধিকার নিয়ে জটিলতার সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাঁশখালী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন জামাল। এ বিষয়ে করা মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার চট্টগ্রামের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন বলেন, “উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাওয়া সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার। ভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা হওয়া কাউকে তার আইনগত উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার কারণ হতে পারে না। এ ধরনের ঘটনায় আদালত চাইলে সমন জারি করে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে আদালতে হাজির হয়ে জবাব দিতে বলতে পারেন।”
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ জামাল হোসেনকে অন্যায়ভাবে ওয়ারিশ সনদ না দেওয়ার অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএসএম / এমএসএম
হাটহাজারীতে সাংবাদিককে হুমকি ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বহিষ্কার
ধুনটে ৬ কোটি টাকার প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন করলেন এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ
‘টুকু আসে, টুকু যায়’ সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে "পাটওয়ারী
ধামরাইয়ে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত
বড়লেখায় জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কার্যক্রম
ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার: এস এম জিলানী
কুমিল্লায় এপেক্স বাংলাদেশের ‘জয়েন্ট ক্লাব স্কুলিং’ অনুষ্ঠিত
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বছরে লেবার হ্যান্ডেলিং ২৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা লুটেরাদের পকেটে
গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ; প্রতিবাদ করায় কাজ বন্ধ করার হুমকি!
পিকাপে ১ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা'সহ দুই যুবক আটক
অভয়নগরে অবসরপ্রাপ্ত ১০ শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা
বাঙ্গালহালিয়াতে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে হিন্দু ধর্মালম্বীদের বিশ্বকর্মা পূজা সম্পন্ন