শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরতর অসুস্থ ব্যক্তিকে চাপে ফেলে সম্পদ-সম্পত্তি দখলের মহোৎসব
দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চিকিৎসাধীন এক ৭০ বছরের বৃদ্ধকে ঘিরে গত কয়েক মাসে সংঘটিত একের পর এক সম্পত্তি-সংক্রান্ত ঘটনা এখন এলাকাজুড়ে সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। জমি বিক্রি, সাধারণ ডায়েরি, আপত্তিপত্র, বণ্টননামা, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং শেষ পর্যন্ত দুই কন্যার অনুকূলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি অর্পণের ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিন অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা, স্থানীয় সূত্র এবং অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্যে যে ঘটনাপ্রবাহ উঠে এসেছে, তা কেবল একটি পারিবারিক বিরোধের গল্প নয়; বরং অসুস্থ একজন ব্যক্তিকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ৯ মে ঢাকা থেকে বিদায় দেয় পুত্র আসাদুজ্জামান বিশ্বাস ও তার বউ বাবা বৃদ্ধ আফজাল হোসেনকে। ১০মে আফজাল হোসেন অবস্থান করে বড় মেয়ের বাড়ি রাজশাহীতে আর যথারীতি আসাদুজ্জামান অবস্থান করে তার ঢাকার বাসায় কিন্তু সেদিনের ঘটনা দেখিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রইসুদ্দিন মাস্টার ও রেহেনা পারভিন পপির ইশারায় ১২ই মেয়ে শিবগঞ্জ থানায় আসাদুজ্জামান ও তার বউ এর নামে সাধারণ ডায়েরি করা হয় যে, কর্ণখালীতে নিজ বাড়িতে বৃদ্ধ আফজালকে মারধর করে তার বউ ও পুত্র। যা পুরো মিথ্যা। আর মিথ্যা অভিযোগ মূলত বাবাকে দিয়ে করায় স্বার্থান্বেষী চক্রটি তাদের অবৈধ স্বার্থ হাসিলের পরিবেশ তৈরি করার জন্য। যা পরবর্তী ঘটনাগুলোর আগে একমাত্র পুত্র আসাদুজ্জামান বিশ্বাসকে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা ।
স্থানীয় সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৫ মে বেশকিছু পাড়া-প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় রইসুদ্দিনের বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম মাস্টারের নেতৃত্বে। সেখানে পরিবারের দুই কন্যার অনুকূলে জমি দেওয়ার বিষয়টি আলোচনা হয়। সেখানে দুই জামাই ভোলাহাট হোসেনভিটা গ্রামের মফিজ বিশ্বাসের তিন বউয়ের বড় বউয়ের ছোট ছেলে হামিদুল ইসলাম তোতা এবং শিবগঞ্জ থানাধীন আড়গাড়া হাট এলাকার মনজুর হাজির ছেলে শামমুল উপস্থিত ছিল
শ্বশুরের জমি নেওয়ার লোভে। কিন্তু সে যাত্রায় আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশীরা এই অবৈধ উদ্যোগের সাথে সাড়া না দেওয়ায় পরদিন ১৬ মে আরও কিছু প্রতিবেশী ও স্থানীয় ব্যক্তিকে নিয়ে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত করে ইতিমধ্যে এলাকায় আবু জেহেল খ্যাত আফজাল হোসেনের বড় ভাই রইসুদ্দিন ।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দিনেও এই বেআইনি আলোচিত বিষয় নিয়ে কেউই একমত ছিলেন না।১৯ মে পরিবারের কিছু জমি খুবই অল্প দামে বিক্রির দলিল সম্পাদনের ঘটনা ঘটে।সার্বিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, ৪ জুন ভোলাহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন আসাদুজ্জামান বিশ্বাস তার এই সাধারন ডাইরিটির প্রত্যেকটি বাক্যই পরবর্তীতে সত্য প্রমাণিত হয়। ১২ জুন একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসক দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে একটি সনদ প্রদান করেন। চিকিৎসাজনিত দুর্বলতা, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং শারীরিক ও মানসিক অবস্থার প্রভাব নিয়ে সেখানে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
১৮ জুন সম্পত্তি-সংক্রান্ত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে লিখিত আপত্তিদাখিল করা হয়।
এরপরেও ২৯ জুন ভোলাহাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি বণ্টননামা দলিল নিবন্ধিত হয়। এ দলিলকে ঘিরে নতুন করে বিরোধ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। এখানে অবৈধভাবে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি দখল করে রইস উদ্দিন মাস্টার তার ছেলে মাসুম মাস্টার সহ তহিরুল ইসলাম ওরফে শহিদুল ইসলাম গংরা। এ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রপত্রিকায় পরবর্তীতে রিপোর্ট আসে যার প্রেক্ষিতে, এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। অন্যদিকে, ৪ জুলাই আসাদুজ্জামান বিশ্বাস এর বিরুদ্ধে নতুন করে আরেকটি অভিযোগ ভোলাহাট থানায় করা হয় এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থার কাছে একাধিক অভিযোগ দাখিল করা হয় আসাদুজ্জামান বিশ্বাসকে ক্রমাগত চাপে রাখার পরিবেশ তৈরি করে তাদের স্বার্থ হাসিল অব্যাহত রাখতে।
১১ আগস্ট মেয়েদেরকে চুপিসারে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে অবৈধভাবে জমি দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয় কিন্তু সে যাত্রায় তারা জমি দিতে ব্যর্থ হয়।
পরিশেষে, চুপিসারে পাড়া-প্রতিবেশী কাউকে না জানিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর পরিবারের দুই কন্যার অনুকূলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি অর্পণ করা হয় যেখানে সাক্ষ্যদাতা হিসেবে পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজন কাউকে না পেয়ে সাক্ষী দেয় কয়েক গ্রাম পরে সাদেক বিশ্বাস ও জমি দখলকারী হামিদুল ইসলাম তোতার দুই নম্বর মায়ের সন্তান পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসিস্ট নেতা সাইফুল অনেকের মতে দালাল সাইফুল। মে মাসের মাঝামাঝি যে হীন চরিতার্থের সূচনা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তারই বাস্তব রূপ দেখা যায় সেপ্টেম্বর মাসে। সরেজমিনে কথা বলা স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিকভাবে প্রভাবশালী মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অনেকে মনে করেন, পুরো ঘটনাপ্রবাহের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের মতে, একজন দীর্ঘদিনের অসুস্থ ব্যক্তিকে ঘিরে এত অল্প সময়ের মধ্যে ধারাবাহিক সম্পত্তি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিদের কেউ কেউ পারিবারিক সমঝোতা, সকল উত্তরাধিকারীর প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, বিষয়টি খুবই অন্যায় হয়েছে। আইনগত এবং সামাজিকভাবে এই চক্রটির বিচার হওয়া উচিত।
স্থানীয় ধর্মীয় ইমাম বলেছেন, বারবার এই চক্রটিকে ধর্মের বাণী শোনানোর পরেও তারা একরোখা কোন কাজ হয়নি।
অন্যান্য পাড়া-প্রতিবেশী দের মতে, এই চক্রটি এখন সামাজিকভাবে বয়কট।
একজন মুরুব্বী বলেন, চোরে শুনে না ধর্মের কাহিনী। তাই এদেরকে শতবার বোঝানো হয়েছে কিন্তু এই ঘাউড়াগুলো নিজেদের স্বার্থের জন্য কারো কথায় শুনলো না, জাহান্নামকে তারা আলিঙ্গন করে নিল। মেয়েজামাই ও আবু জেহেল খ্যাতো রইসুদ্দিন মাস্টারের কথায় আফজাল এর মত একজন হাজী আল্লাহর বিধানকে লঙ্ঘন করে নমরুদের পরিচয় দিলো।
এখন জনমনে প্রশ্ন- মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনাগুলো কি কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ?
অসুস্থতার প্রেক্ষাপটে সম্পত্তি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে?
সকল উত্তরাধিকারী কি সমানভাবে আলোচনার সুযোগ পেয়েছিলেন?
জিডি, আপত্তিপত্র, বণ্টননামা এবং পরবর্তী জমি অর্পণের ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না?
এসব ব্যাপারে অভিযুক্তদের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তারা এসব ব্যাপারে সদউত্তর দিতে পারে নাই বরং কেউ কেউ নানা রকম অসংলগ্ন ও অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলে তাদের জমি দখলের অবৈধ কার্যক্রমকে হালাল করতে চায়।
ঘটনা প্রবাহ ও সরে জমিন তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে,
মে থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬—মাত্র চার মাসের ব্যবধানে সংঘটিত ধারাবাহিক ঘটনাগুলো এখন শুধু একটি পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয় নয়। চিকিৎসা, সম্পত্তি, উত্তরাধিকার এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, প্রশাসনিক রেকর্ড, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য এবং সকল পক্ষের বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার মাধ্যমেই এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর পাওয়া সম্ভব।
এমএসএম / এমএসএম
শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরতর অসুস্থ ব্যক্তিকে চাপে ফেলে সম্পদ-সম্পত্তি দখলের মহোৎসব
ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংয়ে বিদেশি মালিকানা, কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযান
বিএমএসআরআই দখলের প্রতিবাদ ও হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নের দাবি
ডিএনসিসিতে বর্জ্য পরিবহনে যুক্ত হলো ৫ নতুন ট্রাক
মুগদায় মাদকবিরোধী সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল: দুই মাদক কারবারিকে এলাকা ছাড়া করল জনতা
হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলার প্রতিবাদে ড্যাবের নিন্দা ও আইন প্রণয়নের দাবি
দক্ষিণ ঢাকায় চাঁদাবাজি রোধে ইতিবাচক পরিবর্তনের দাবি ফুটপাত ব্যবসায়ীদে
লাইসেন্সে অনিয়মের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় বদলি বাতিল
মাদক প্রতিরোধের আহ্বানে বৃহত্তর উত্তরা উলামা পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
বাংলাদেশ বেতারের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের উদ্যোগে ফার্মগেইট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়