ঢাকা শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

একাধিক মামলা-তদন্তের নথিতে নাম : শাহজালালের ডিডি নজরুলকে নিয়ে নানা প্রশ্ন


নারগিস পারভীন photo নারগিস পারভীন
প্রকাশিত: ৮-১০-২০২৬ দুপুর ৪:২৪
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলামকে ঘিরে একাধিক মামলার তদন্ত নথিতে তার নাম প্রকাশ্যে আসায় সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও বর্তমান কর্মস্থল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সিকিউরিটি বিভাগের দ্বায়িত্ব কিভাবে পান সে নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে।
‎
‎গণমাধ্যমের হাতে পাওয়া একাধিক নথি থেকে জানা যায়, গত ১৬ জুন ২০২৬ শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক চিঠিতে দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্য দিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপ-পরিচালক (এভসেক ট্রেনিং অ্যান্ড লজিস্টিকস) (চলতি দায়িত্ব) মো. নজরুল ইসলামকে ২১ জুন সকাল ৯টায় বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত, চট্টগ্রামে হাজির হতে বলা হয়।
‎
‎চিঠিতে বলা হয়, পতেঙ্গা থানার মামলা নম্বর ১৬(১২)১৪ থেকে উদ্ভূত বিভাগীয় স্পেশাল মামলা নম্বর ৭/২০-এর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের নির্দেশনা এবং বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়া চিঠিতে তালিকাভুক্ত নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. আইনুল হক ২০১৭ সালের ৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
‎
‎অন্যদিকে, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অফিস সহকারী ওসমান শিকদার হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ও সিভিল এভিয়েশনের ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহিম খলিলের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নজরুল ইসলামের নাম উঠে আসে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
‎
‎ওই জবানবন্দির ভিত্তিতে নজরুল ইসলামের বক্তব্য, পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য চেয়ে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১১ আগস্ট ২০২৫ পরিচালক, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বরাবর চিঠি দেন। চিঠিটির স্মারক নম্বর CMP/Patenga/2025/3255, তারিখ ১১ আগস্ট ২০২৫।
‎
‎পরবর্তী সময়ে একই স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ আগস্ট ২০২৫ শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য উপস্থাপনের অনুমোদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইব্রাহিম খলিল ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বিমানবন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উল্লেখ করেছেন। তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও বক্তব্য তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন। এছাড়াও উল্লেখিত ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ পাচার, হুন্ডি ও মাদক পাচারসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড এবং এসব থেকে অর্জিত অর্থের ভাগ-বাঁটোয়ারাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ রয়েছে।
‎
‎ওসমান শিকদার হত্যার পরপরই গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে পতেঙ্গা থানায় মামলা রুজু হয়। ঠিক দুই মাস না পেরোতেই ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে নজরুল ইসলামকে রহস্যজনকভাবে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়। হঠাৎ এ বদলির বিষয় নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন উঠে আসে।
‎
‎এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও দাবি করেছে, মো. নজরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে একাধিক সরকারি সংস্থা বিভিন্ন মহলে তার কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করছে।
‎
‎অন্যদিকে, গত ৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা এক অফিস আদেশে বেবিচকের উপ-পরিচালক (এভসেক ট্রেনিং অ্যান্ড লজিস্টিকস) (চলতি দায়িত্ব) মো. নজরুল ইসলামকে নির্মাণাধীন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনালের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে তথ্যসূত্রে জানা যায়।
‎
‎ওই অফিস আদেশে আরও বলা হয়, নির্মাণাধীন ৩য় টার্মিনালের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নজরুল ইসলাম নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে টার্মিনালের নিরাপত্তাসংক্রান্ত সব বিষয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন। এছাড়াও পাশাপাশি এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগের সদস্যদের দায়িত্ব-কর্তব্য নিশ্চিত করা, রোস্টার অনুযায়ী সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা উপস্থিত রাখা এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বও পালন করবেন তিনি।
‎
‎নজরুল ইসলাম তৃতীয়  টার্মিনালের সিকিউরিটি বিভাগের দায়িত্বে থাকলেও বেশির ভাগ সময়  শাহজালাল টার্মিনালে প্রটোকল করতে দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেন। এতে তার নির্ধারিত দায়িত্ব পালন নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে  প্রশ্ন উঠেছে।
‎
‎বিশেষ করে গত ৩১ আগস্ট তৃতীয় টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে—নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে নজরুল ইসলাম কি কোনো ধরনের অবহেলার পরিচয় দিচ্ছেন, নাকি পদোন্নতি পেয়ে, তার নিজ দায়িত্বে মনোযোগ কমছে?
‎
‎এ বিষয়ে বেবিচক কর্তৃপক্ষ / জনসংযোগ কর্মকর্তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোন উত্তর মিলে নি
‎
‎মো. নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সামনাসামনি কথা বলবো।
‎
‎সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, একাধিক মামলার  তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথিতে নাম আসা একজন কর্মকর্তাকে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা দায়িত্ব বা আরও বড় পরিসরে কেন দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কতটা সতর্কতা অবলম্বন করবে? এছাড়াও   বেবিচক কর্তৃপক্ষের কাছে নথিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কি না—এখন সেটাও উল্লেখ্য  বিষয়।

এমএসএম / এমএসএম

উত্তরায় মাদকবিরোধী অভিযান, ৪ জনের কারাদণ্ড

একাধিক মামলা-তদন্তের নথিতে নাম : শাহজালালের ডিডি নজরুলকে নিয়ে নানা প্রশ্ন

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নেতৃত্বে আলোচনায় মোঃ আইয়ুব আলী

অটোরিকশাচালক রাহুল হত্যার আড়াই বছর পর রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই

আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগী রাজনীতিতে মহানগর উত্তর যুবদলের নেতৃত্বে আলোচনায় শিমুল আহমেদ

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নবনিযুক্ত পরিচালক ডা. মীর্জা গোলাম সারওয়ারকে ‘সকালের সময়’ পরিবারের শুভেচ্ছা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ড্যাবের সায়েন্টিফিক সেমিনার ও লিফলেট বিতরণ

বিমান ভবনে সাংবাদিক প্রবেশে দুই দিনের নিষেধাজ্ঞা, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ কোটি টাকার পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

চিকিৎসকদের ওপর হামলা-হেনস্তায় ড্যাবের নিন্দা, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নবনির্বাচিত মহাসচিবকে বরণ ও নতুন প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন

ডিএমপির এক পুলিশ কর্মকর্তার নিজ বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার

অগ্নি দুর্ঘটনা মোকাবিলায় রেসপন্স টাইম কমাতে হবে: বিমানমন্ত্রী