ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

উত্তরা সার্বজনীন মন্দিরে মহাসপ্তমীর আলোচনা সভা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ


নারগিস পারভীন photo নারগিস পারভীন
প্রকাশিত: ১৯-১০-২০২৬ দুপুর ১:৪৩

রাজধানীর উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত উত্তরা সার্বজনীন মন্দিরে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব–২০২৬-এর মহাসপ্তমী উপলক্ষে আলোচনা সভা।

১৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সার্বজনীন উৎসবের চেতনা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার নিয়ে বক্তব্য দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে উত্তরায় একটি স্থায়ী শ্মশান প্রতিষ্ঠা ও দৃষ্টিনন্দন মন্দির নির্মাণের জন্য রাজউকের কাছ থেকে জমি বরাদ্দের দাবিও উত্থাপন করা হয়।

উত্তরা সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি নৃপেন্দ্র নাথ সিকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তপন চন্দ্র সাহার সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।
এছাড়াও উক্ত আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ এবং উত্তরা সার্বজনীন পূজা কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শ্রী ননী গোপাল ঘোষ। আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম কফিল উদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এ আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দুর্গাপূজা কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি সার্বজনীন আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য উপলক্ষ। এ উৎসব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভ্রাতৃত্ব এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি করে।

বক্তারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও সম্প্রীতির চেতনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, বিএনপি সেই আদর্শ ধারণ করে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা, অধিকার ও পারস্পরিক সহাবস্থানের  পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন, পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও আয়োজকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। তাঁদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে উৎসবের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

এছাড়াও অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন তাঁর বক্তব্যে উত্তরা সার্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে উত্তরায় একটি স্থায়ী শ্মশান প্রতিষ্ঠা এবং দৃষ্টিনন্দন মন্দির নির্মাণের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কাছ থেকে জমি বরাদ্দের দাবি তুলে ধরেন।

পূজা কমিটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান অতিথি পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিষয়টি বাস্তবায়নে চেষ্টা করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁর এ আশাবাদে উপস্থিত আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়।

মহাসপ্তমীর ধর্মীয় মাহাত্ম্যে নবপত্রিকা স্নান ও পূজার্চনা

শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাসপ্তমী। এ দিনের বিশেষ ধর্মীয় আচারগুলোর মধ্যে রয়েছে নবপত্রিকা স্নান, প্রতিষ্ঠা ও পূজার্চনা। প্রচলিত শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, নয়টি উদ্ভিদ একত্রে বেঁধে নবপত্রিকা প্রস্তুত করা হয়, যা বাংলার দুর্গাপূজায় ‘কলাবউ’ নামেও পরিচিত।
নবপত্রিকা গঠনে ব্যবহৃত নয়টি উদ্ভিদ হলো কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু ও ধান। প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যায় এগুলো দেবীশক্তির বিভিন্ন রূপের প্রতীক। প্রকৃতি, কৃষি, উর্বরতা ও জীবনের সঙ্গে দেবী আরাধনার নিবিড় সম্পর্ক এ আচারকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে।
মহাসপ্তমীর এ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাকে ঘিরে ভক্ত-দর্শনার্থীদের মধ্যে বিরাজ করে গভীর ভক্তি ও আবেগ। নবপত্রিকা স্নান করিয়ে পূজামণ্ডপে প্রতিষ্ঠা এবং মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে যথাবিধি পূজার্চনা সম্পন্ন করা হয়। প্রচলিত পূজার বিধান অনুযায়ী প্রতিমার চক্ষুদান ও প্রাণপ্রতিষ্ঠার মতো আচারও নির্ধারিত রীতি ও সময়ে সম্পন্ন হয়।
মহাসপ্তমীর নবপত্রিকা স্নান ও পূজার্চনা শুধু ধর্মীয় আচার নয়; এটি বাংলার সনাতন ঐতিহ্য, প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং দেবী দুর্গার আরাধনার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।

ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির আবহে শারদীয় দুর্গোৎসব
উত্তরা সার্বজনীন মন্দিরের মহাসপ্তমীর এ আয়োজন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির এক সুন্দর সমন্বয় তুলে ধরে। পূজামণ্ডপে ভক্ত-দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণ, অতিথিদের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সম্প্রীতির পক্ষে বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে দুর্গোৎসবের সার্বজনীন চেতনা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ও তাৎপর্য সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির এ বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক সমাজের সর্বস্তরে—এ প্রত্যাশায় মহাসপ্তমীর আয়োজন হয়ে ওঠে আনন্দ, ভক্তি ও মিলনের এক অর্থবহ উপলক্ষ।

এমএসএম / এমএসএম

ভারতীয় নাগরিকের হারানো ফোন উদ্ধার ও অনলাইন প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার: এপিবিএন

উত্তরা সার্বজনীন মন্দিরে মহাসপ্তমীর আলোচনা সভা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ

তুরাগে শহীদ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডুয়াপসের গ্র্যান্ড রিইউনিয়ন অনুষ্ঠিত

যাত্রাবাড়ীতে সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে পুলিশ বক্সে হেনস্তা

শাহজালালে লাগেজের লাইভ নজরদারি, বসানো হলো ৩২ ক্যামেরা

হানিফ’র রাহু’র গ্রাসে বন্দী ঢা:দ:সি:সি: মালিকাধীন জাকের সুপারমার্কেট

কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, পরিচ্ছন্নতা জোরদারের নির্দেশ

ফিরোজ’র রাহু’র গ্রাসে বন্দী ঢা:দ:সি:সি: মালিকাধীন জাকের সুপারমার্কেট

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলে আলোচনায় বাঙলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক দুই ছাত্রনেতা

মোহাম্মদপুরে দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির, গুলিবিদ্ধ ১

শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিব।

সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি ভর্তুকি ও পরিচালন ব্যয়ে বড় সাফল্য টিসিবির