কষ্টে আছে ভোলার কুমাররা
‘বাবা-দাদারা কুমারের কাজ করত, বংশক্রমে আমরাও এ কাজ করি। ২০-২৫ বছর কুমারের কাজ করি, তবে তেমন কোনো সাফল্য পাইনি। মাটি কিনতে হয়, খরচ বেশি, অনেক লোক খাটাতে হয় কিন্তু আমরা পারি না। আমাদের মাটি মিক্স করতে অনেক কষ্ট হয়। যদি মাটি মিক্স করার একটা মেশিন হতো অনেক উপকৃত হতাম।’ কথাগুলো বলেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা বাটামারা ৫নং ওয়ার্ডের ভারত পালের বাড়ির কুমার নয়ন পাল (৩২)।
তিনি আরো বলেন, দাদা পিজার দেড়শ বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ধারাবাহিকভাবে এ কুমারের কাজ করে যাচ্ছেন। এখন কারেন্ট আছে যদি এনজিও বা সরকারি ভাবে কোন সহযোগিতা পেতাম তাহলে আমরা আরোও ভালো ভাবে এ কাজে লাভবান হতে পারতাম। ছেলে সন্তান নিয়ে একটু ভালো ভাবে থাকতে পারতাম। এ কাজ করেই আমরা খাই। এ উপরই আমাদের সংসার চলে। ছেলে মেয়েদের ভালো পোশাক পড়াতে পারি না। পূর্জা আসলে টাকার অভাবে সন্তানদের মন্দিরে নিতে পারি না। মেয়েদেরকে অর্থের অভাবে ভালো জায়গায় বিয়ে দিতে পারি না। অনেক কষ্টে আমাদের জীবন চলে। এ দিয়ে আমাদের জীবন কেটে যায়।

পূজা পাল (৫৫) বলেন, আমার শ্বশুর কুমারের কাজ করে গেছেন। আমরাও ৪০ বছর এ কাজ করি। এখন লাড়কি কিনতে হয়, মাটি কিনতে হয়। সব কিছুর দাম বেশি। লোকের টাকা দিতে পারি না। যাহ আছে তা দিয়ে চলি। যদি মাটি মিক্স এর একটি মেশিন হইতো আরোও বেশি ঢালি বানাতে পারতাম। বেশি লাভ করতে পারতাম। আমাদের সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়। কেউ আমাদেরকে একটু সহযোগিতা করে না। মনোহর পাল (৫০) বলেন, আমাদের এলাকাকে সবাই কুমার পাড়া হিসাবে চিনে। আমার দাদা করেছে বাবা করেছে আমরাও কাজ করি। কোন পড়াশুনা করতে পারি নি। তাই এ কাজ করতে হয়। আগে হাড়ি, দধির ঢালী লাটি দিয়ে ঘুরিয়ে বানাতে অনেক কষ্ট হতো। এখনও বিদ্যু আসায় ১০/১২ বছর কষ্ট কম হচ্ছে। কিন্তু এখন মাটি মিক্স করতে অনেক কষ্ট হয়। আমাদের সন্তানরা ও স্ত্রী এ কাজে সহযোগিতা করেন।

আমাদের এ বাড়ীর ৬টি পরিবার এ কুমারের কাজ করে চলেন। অনেক কষ্ট হয়। তবুও রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছি।শংকর পাল বলেন, আমাদের সন্তানদের মানুষ করতে পারি না। প্রতিদিনি ৩শত হতে চার শত টাকা ইনকাম করি। এ দিয়ে সংসার খরচ চলে না। সব কিছুর দাম বাড়লেও আমাদের এ মাটির জিনিস পাত্রের দাম বাড়েনি। আমাদের কদরও বাড়েনি। সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, পাল বাড়ীর উঠান, ঘরের সামনে, বাড়ীর দরজায় সবাই কেউ মাটি কাটতে, কেউবা মাটি মিক্স করতে কেউ মাটির দধির ঢালী সহ মাটির জিনিসপত্র বানাতে ব্যস্ত। কেউবা ওই বানানো পাত্রগুলো রোদ্রে শুকাতে ব্যস্ত কেউ আবার ওই শুকনো মাটির জিনিসপত্র পোড়ানোর কাজে ব্যস্ত। স্বামী, স্ত্রীদের সাথে তাদের সন্তানরাও পড়াশুনার ফাঁকে এ কাজে সহযোগিতা করতে দেখা গেছে। বংশক্রমে তারা প্রায় দের শত বছর ধরে এ কুমার কাজের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে।
এমএসএম / জামান
নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে ময়মনসিংহে মতবিনিময় সভা
নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই বাসা নির্মাণকাজ--নির্বাহী কর্মকর্তার পরিদর্শনে কাজ বন্ধ
লোকালয় থেকে উদ্ধারকৃত অজগর কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত
উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরেকটি মাইলফলক
সুবর্ণচরে নারী, শিশু, ব্রাককর্মীসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ৪টি ক্লাব গঠনের নির্দেশ
কুড়িগ্রামে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষ, স্বামী-স্ত্রীসহ আহত ৫
হানিট্রাপের অভিযোগ সেনাসদস্যের সম্মানহানি তদন্ত দাবি
চাঁদপুর যাত্রী টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে মায়ার লিমিটেড ও কবিরস সিন্ডিকেট জেভি
ভূরুঙ্গামারী থানা জেলার শ্রেষ্ঠ, সেরা সার্কেল এএসপি মুনতাসির ও ওসি আজিম
শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার টাকা ফেরত দিলেন বিএনপি নেতা
মেহেরপুরে ৭০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে জেলা পরিষদের বৃত্তি প্রদান