ঢাকা শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

যৌতুক দিতে না পারায় স্বামীর ঘরে ফেরা হলো না সুমির


মোকছেদুল ইসলাম, পাটগ্রাম photo মোকছেদুল ইসলাম, পাটগ্রাম
প্রকাশিত: ১৩-৬-২০২১ বিকাল ৬:১১
ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে করেছে তারা। দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হওয়ায় ছেলের ধনাঢ্য পরিবার ভালোবেসে করা বিয়ে মেনে নেয়নি। তাই মেয়ের বাড়িতেই দীর্ঘ ৮ মাস ধরে সংসার। চলতি বছরের ২০ মে ছেলে একদিন নিজ বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে ওঠে। পরে ছেলের যৌতুকলোভী পিতা ও পরিবারের কথায় পালিয়ে যায় ছেলে। মারপিট, নির্যাতন করে বের করে দেয়া হয় মেয়েকে। উপায়ন্তর না পেয়ে ছেলের বাড়ির বারান্দায় বৃষ্টিতে ভিজে একদিন পড়ে থাকে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হাবিবা আক্তার সুমি। পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর সালিশ বৈঠকে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে ছেলের পরিবার। মেয়ের সুখের কথা ভেবে দরিদ্র পিতা মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতভিটার ৭ শতাংশ জমি বিক্রি করে ছেলের বাবার হাতে দুই লাখ টাকা তুলে দেন। এরপর পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজনকে আনুষ্ঠানিক মেয়ে বিদায়ের দিন-তারিখ ঠিক করে দাওয়াত দেন। গত ১১ জুন শুক্রবার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। কিন্তু ছেলের বাবার দাবিকৃত অবশিষ্ট ৩ লাখ টাকা না পাওয়ায় কনেকে নিতে আসেনি বরপক্ষের কেউ। ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের পানবাড়ি গ্রামে।
 
জানা গেছে, কন্যাদায়গ্রস্ত দরিদ্র পিতা হাবিবুর রহমানের মেয়ে হাবিবা আক্তার সুমির (২০) সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে একই গ্রামের তোবারক হোসেন ওরফে নাড়িয়ার তৃতীয় ছেলে মহাসিন আলী (২৪)। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পালিয়ে বিয়ে করে তারা। বিয়ের পর যৌতুকলোভী ছেলের পরিবার ৫ লাখ টাকার দাবিতে মেয়েকে মেনে নেয়ার প্রস্তাব দেয়। দরিদ্র কনের পরিবার এত টাকা দিতে সমর্থ না হওয়ায় কনেকে নিয়ে যায়নি বরপক্ষ। বর্তমানে দিশাহারা হয়ে বিভিন্নজনের নিকট ধরনা দিচ্ছেন হাবিবুর। গত শনিবার (১২ জুন) পাটগ্রাম থানায় একটি অভিযোগ দেন সুমির বাবা হাবিবুর রহমান। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘুরে আসে। সুমির গায়ে হলুদ, হাতে মেহেদির রং থাকলেও যৌতুকের কারণে স্বামীর বাড়িতে ওঠা হচ্ছে না তার। 
 
হাবিবা আক্তার সুমি বলেন, ছেলের পরিবার অনেক টাকা যৌতুক দাবি করে। সালিশি বৈঠকের গন্যমান্য ব্যক্তিগণ ২ লাখ টাকা দিতে বলেন। বাবা জমি বিক্রি করে টাকা দেন তাদের (বরপক্ষ)। তারা টাকা নিয়ে আমার বিয়ের জন্য কোনো শাড়ি, চুরি বা একটি নাকফুলও কেনেনি। পরে আরো ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আমার বাবা দিতে না পারায় বর মহাসিন ও তার পরিবার আমাকে নিতে আসেনি। এ অবস্থায় আমার জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। 
 
কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, আমরা খুব চেষ্টা করেছি। কিন্তু তোবারক হোসেন খুব ত্যাড়া লোক। পরবর্তীতে যৌতুকের টাকার জন্য মেয়েটিকে ঘরে তোলেনি।  
 
বরের পিতা তোবারক হোসেন বলেন, মেয়েকে আনতে ৪ জনকে পাঠাইছিলাম। আমি আনতে যাব না। বাড়িতে উঠাব না। টাকা-পয়সার কোনো ঘটনা নাই।
 
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) হাফিজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। বরপক্ষ কনেকে নিয়ে আসবে বলে আমাদের জানিয়েছে।

এমএসএম / জামান

বড়দিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা

উলিপুর কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

বিএনপি নেতা ও তাঁর স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ, অহত অভিযুক্ত জিয়া পরিষদ নেতাও

নানা দাবী নিয়ে নোয়াখালী পৌর ব্যবসায়ী সমিতির মতবিনিময়

মনোহরগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ - বৃদ্ধ কে আটক

জুলাই আন্দোলন ১৭ বছরের সংগ্রামের ফসল: ত্রাণমন্ত্রী

নেত্রকোণায় সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু

বাকেরগঞ্জ প্রশাসন ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ধুনটে শহীদ আব্দুল মালেক ট্রাস্ট কমপ্লেক্সের ছাদ ঢালাই শুরু

চট্টগ্রামে বন নিধনের মহোৎসব, গার্ড সংকটের অযুহাত

মনপুরায় ইউপি সদস্যের ওপর অতর্কিত হামলা, ভাঙল হাত-পা

‎সরকারের উন্নয়ন প্রচারে ডিসির অবহেলা তথ্য অফিসের মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের ক্ষোভ